মিয়ানমারের ২ সাংবাদিকের দ্রুত মুক্তি দাবি জাতিসংঘের

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: রয়টার্স

রোহিঙ্গা নির্যাতনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করায় রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ভঙ্গের অজুহাতে মিয়ানমারে  দণ্ডপ্রাপ্ত রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘের নবনিযুক্ত মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট। 

স্থানীয় সময় সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান। খবর এএফপির।

মিশেল বলেন, মিয়ানমারের এমন সিদ্ধান্তে আমি সত্যিই বিস্মিত। যে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের দণ্ড হয়েছে, তাতে স্পষ্টভাবেই আন্তর্জাতিক মান লঙ্ঘন করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে যে বার্তাটি দেয়া হল তা হচ্ছে মিয়ানমারের অন্য সাংবাদিকরা ভয়হীনভাবে কাজ করতে পারবে না। তাদের বরং নিজে থেকে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে হবে অথবা বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

রাখাইন রাজ্য থেকে সেনাবাহিনীর খুন, ধর্ষণ, নির্যাতনের মুখে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিয়ে তথ্য সংগ্রহকারী বার্তা সংস্থা থমসন রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সো ও-কে (২৮) সাত বছর করে কারাদণ্ড দেন মিয়ানমারের একটি আদালত।

রাজধানীর ইয়াঙ্গুনের দক্ষিণ জেলা জজ ইয়ে লইন এ ঘোষণা করেন। 

বিচারক বলেন, সরকারি গোপনীয়তা আইন ভঙ্গ করেছেন আসামিরা।

গত বছরের ২৫ আগস্ট নির্যাতনের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। একে জাতিসংঘ ‘জাতিগত নিধন’ বলে আখ্যায়িত করেছে। 

সারা বিশ্ব যখন মিয়ানমারের এই ‘হত্যাযজ্ঞের’ বিরুদ্ধে সরব, তখনই সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সো ও গ্রেফতার হন। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগে মামলা হয়। তার পর থেকে তারা কারাগারেই ছিলেন। যদিও দুই সাংবাদিক তাদের বিরুদ্ধে আনা সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মিশেল ব্যাচেলেট আরও বলেন, আমি মিয়ানমারের প্রতি সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সো ও-কে শর্তহীনভাবে দ্রুত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।