রোহিঙ্গা সংকটে বিনিয়োগ কমলেও আমলে নিচ্ছেন না বর্মি কর্মকর্তা

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: রয়টার্স

মিয়ানমারের এক বিদেশি বিনিয়োগ কর্মকর্তা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটে অর্থনৈতিক ক্ষতিকে তিনি ন্যূনতম আমলে নিচ্ছেন না। রাখাইনে গণহত্যা নিয়ে খবর প্রকাশ করায় রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে কারাদণ্ড দেয়ায় দেশের ভাবমর্যাদায় কিছুটা খারাপ প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সিঙ্গাপুরে বিনিয়োগকারীদের একটি ফোরামে মিয়ানমারের বিনিয়োগ ও কোম্পানি প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক আউং নেয়াং ও বুধবার বলেন, এর আগে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছিল সরকার। কিন্তু রাখাইনের সংকট ভিন্ন রকম।

রোহিঙ্গা সংকটে বার্মার অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব পড়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি একেবারেই আমলে নিচ্ছি না।

২০১৬ সালের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা পরের বছরে এসে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। গত বছরের আগস্টের পর থেকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধন অভিযান শুরু হলে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

আউং নেয়াং বলেন, সহিংসতা শুরুর দুই বছর পর মিয়ানমারের সরাসরি বিদেশি বিনিযোগ কমতে শুরু করেছে। কিন্তু সরকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে পারবে বলে তার বিশ্বাস।

২০১৬ ও ২০১৭ সালে মিয়ানমারে অনুমোদিত বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেছে। ২০১৩ সালের পর গত বছর ছিল যেটি সর্বনিম্ন।

মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হিটাইয়ের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলতে যোগাযোগ করা হলে তার কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

দেশটির বাণিজ্যিক আইনের খসড়া তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছেন আউং নেয়াং। তিনি বলেন, দণ্ডিত দুই প্রতিবেদকের মামলা ব্যাপকভাবে গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। কাজেই বিদেশিরা যখন মিয়ানমারে কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবে, তখন সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে দুই রিপোর্টারের কারাদণ্ড একটি ব্যাপার হিসেবে কাজ করবে।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কেবল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ই নয়, স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়েরও দুই প্রতিবেদকের কারাদণ্ডের রায়ে অসন্তুষ্ট। আমাদের দেশের সুনামের ক্ষেত্রে এর একটি প্রভাব পড়েছে।