রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির নেই: মিয়ানমার

  যুগান্তর ডেস্ক ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

অংসান সূচি

মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টিকে খুব সিরিয়াসলি নিয়েছে বলে মনে হয় না। যে কারণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ থাকলেও সুচির মতো নেত্রী মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে খুশি করার জন্য অবাস্তব ও মিথ্যাচার করে চলেছেন।

রোহিঙ্গা বিতাড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রয়েছে বলে যে সিদ্ধান্ত হেগের ওই আদালত থেকে এসেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার।

শুক্রবার মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট এক বিবৃতিতে আইসিসির ওই সিদ্ধান্তকে বর্ণনা করেছেন ‘সন্দেহযুক্ত আইনি ভিত্তি এবং ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়ার ফসল’ হিসেবে। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত দুর্দশার বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে সেখানে অভিযোগ সাজানো হয়েছে, যার সঙ্গে আইনি যুক্তির কোনো যোগাযোগ নেই, বরং আবেগের জায়গা থেকে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে যেভাবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে বিতাড়িত করা হয়েছে, তার বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির রয়েছে কি না, তা জানতে চেয়ে হেগের ওই আদালতের প্রসিকিউটর ফাতোও বেনসুদা গত এপ্রিলে একটি আবেদন করেছিলেন।

এ ব্যাপারে তিনি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে আলাদা আলাদাভাবে চিঠিও দিয়েছেন। বাংলাদেশ ওই চিঠির জবাবও দিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার জানিয়ে দিয়েছে তারা এ চিঠির জবাব দেয়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করে না। এ থেকেই বোঝা যায়, মিয়ানমার সরকার আদৌ আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে কোনো গুরুত্ব দেয় না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য এবং বিভিন্ন অধিকার সংগঠনের যুক্তি শুনে বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত দেয় আইসিসির তিন বিচারকের প্রি ট্রায়াল প্যানেল।

সেখানে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের মধ্যে দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার বিচারের এখতিয়ার এই আদালতের রয়েছে। কেননা এই ঘটনায় সংঘটিত অপরাধ সীমান্ত পেরিয়ে আইসিসির সদস্য দেশ বাংলাদেশে বিস্তৃত হয়েছে। মিয়ানমার বলে আসছে, তারা যেহেতু আইসিসির সদস্য নয়, সেহেতু ওই আদালতে তাদের বিষয়ে বিচারের প্রশ্নই অবান্তর। এ কারণে বিচারিক এখতিয়ার প্রশ্নে আইসিসির চিঠির জবাবও তারা দেয়নি।

এমনিতে কোনো দেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য না হলে সেই দেশের সীমানায় সংঘটিত কোনো অপরাধের বিচার এ আদালত সরাসরি করতে পারে না। কিন্তু আইসিসির সদস্য বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক আদালত বিষয়টিকে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বিবেচনা করছে।

আর এর ফলে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক ওই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে মামলা ও তদন্ত শুরুর পথ খুলেছে কৌঁসুলি ফাতোও বেনসুদার সামনে।

রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওই দমন-পীড়নের মুখে গত অগাস্ট থেকে এ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। মিয়ানমারের বাহিনীর ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা রাখাইনে তাদের গ্রামে গ্রামে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভয়াবহ বিবরণ দিলেও মিয়ানমার বরাবরই সেসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এক মাস আগে জাতিসংঘের স্বাধীন তথ্যানুসন্ধান মিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘গণহত্যার অভিপ্রায়’ থেকেই রাখাইনের অভিযানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটিয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ কয়েকজনক জেনারেলকে বিচারের মুখোমুখি করার পক্ষে মত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে বিষয়টি বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানো উচিত।

আইসিসির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত মিয়ানমারের পরিস্থিতি সম্পর্কে আইসিসিকে জানানো, যাতে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কাচিন এবং শান রাজ্যে অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, সেসবের অনুসন্ধান করা যায়।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter