পশ্চিমবঙ্গে শিল্পক্ষেত্রে অচলাবস্থার কারণেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিক্রি

  অনলাইন ডেস্ক ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

পশ্চিমবঙ্গ

বাংলাদেশে আরো বেশি বিদ্যুৎ রপ্তানির পরিকল্পনা করছে পশ্চিমবঙ্গ৷ যা উসকে দিয়েছে নতুন বিতর্ক৷ পশ্চিমবঙ্গে শিল্পক্ষেত্রে অচলাবস্থার জন্যই কি উদ্বৃত্ত থাকছে বিদ্যুৎ? বিদ্যুৎ বিক্রি করে কি যথেষ্ট আয় হবে ঋণগ্রস্ত রাজ্যটির?

প্রশ্ন হলো, অর্ধেক গ্লাস জলকে ঠিক কীভাবে দেখা হবে? অর্ধেক ভর্তি, না অর্ধেক খালি? পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ উদ্বৃত্তের বিষয়টিকে ঠিক এভাবেই দেখেন রাজ্যের অনেকে৷ কেউ বিষয়টিকে অহংকার এবং গর্বের বলে মনে করেন৷ কেউ আবার মনে করেন, শিল্পক্ষেত্রে অচলাবস্থাই আসলে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্তের কারণ৷

পশ্চিমবঙ্গ পরিকল্পনা করছে, তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের একটি বড় অংশ বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করবে৷ এ নিয়ে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে৷ বতর্মানেও বাংলাদেশে প্রায় ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে পশ্চিমবঙ্গ৷ সম্প্রতি এক সম্মেলনে বাংলাদেশকে আরও ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়৷ তিনি বলেছেন, ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের কাছে এ বিষয়ে লিখিত জানিয়েছি ৷ সব ঠিকঠাক থাকলে, দ্রুতই বাংলাদেশের কাছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করা যাবে৷

পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে মোট পাঁচটি কার্যকরী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে৷ সেগুলো হচ্ছে কোলাঘাট, বক্রেশ্বর, ব্যান্ডেল, সাগরদিঘি এবং সাঁওতালডিহি। তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়৷ এছাড়াও বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প শক্তি উৎপাদনের কেন্দ্র আছে৷

অনেকের অভিযোগ, যথেষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও পশ্চিমবঙ্গে সেই বিদ্যুৎ খরচ করার উপায় নেই৷ কারণ, শিল্পক্ষেত্রে দেশের বাকি অংশের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ এখনো অনেকটাই পিছিয়ে৷ ফলে বিদ্যুৎ খরচ করার মতো জায়গা তৈরি হয়নি৷

তৃণমূলের প্রবীণ নেতা নির্বেদ রায় ডয়চে ভেলেকে জানান, এমন সিদ্ধান্ত যদি সত্যিই হয়ে থাকে, তাহলে তাকে স্বাগত জানানো উচিত৷ এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক মুনাফা হবে। বাংলাদেশ শুধু আমাদের প্রতিবেশী নয়, বৃহত্তর বঙ্গের অংশ৷

সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য এবং সাংসদ মহম্মদ সেলিম এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, একসময় বলা হতো পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ নেই বলে কারখানা হচ্ছে না৷ দীর্ঘদিন ধরে বামফ্রন্ট রাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছে৷ এবং সেই বিদ্যুৎ থেকে যাতে নতুন কারখানা তৈরি করা যায়, তার চেষ্টাও করেছিল৷ কিন্তু বর্তমান সরকার শিল্প নিয়ে যে কোনো নীতিই গ্রহণ করতে পারেনি, এটা তারই প্রমাণ৷

কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ইন্দ্রজিৎ রায় অবশ্য বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখার চেষ্টা করছেন৷ তাঁর মতে, বিদ্যুৎ তৈরি করে তা বিক্রি করে রাজ্য সরকার আর্থিক মুনাফার কথা ভাবতেই পারে৷ তবে বিক্রির আগে বুঝে নেওয়া দরকার, পশ্চিমবঙ্গের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সাময়িক নাকি, দীর্ঘমেয়াদী৷ সাময়িক হলে বাংলাদেশের সঙ্গে এত বড় কমিটমেন্টে গেলে ভুল হবে৷ আর যদি দীর্ঘমেয়াদী হয়, তাহলে বুঝতে হবে আগামী বহুদিনের মধ্যে বড় শিল্পের কোনো পরিকল্পনা নেই পশ্চিমবঙ্গের৷ তবে ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মুখের কথা নয়৷ এত বিদ্যুৎ দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ সত্যিই দিতে পারবে কি না, তা বুঝে নেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি৷

খবরডয়েচে ভেলের সৌজন্যে

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter