টুইন টাওয়ারে হামলার ১৭ বছর, এখনও শনাক্ত হয়নি বহু দেহাবশেষ

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ছিনতাই করা দুটি যাত্রীবাহী বিমানের আঘাতে ধসে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্র। সেই হামলার ১৭ বছর পার হলেও নিহত হওয়া এগারো শতাধিককে এখনও শনাক্ত করা যায়নি।

কিন্তু নিউইয়র্কের পরীক্ষাগারের বিজ্ঞানীদের একটি দল সেই সব দেহাবশেষ শনাক্ত করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

দিন আসছে, দিন চলে যাচ্ছে; কিন্তু তাদের কাজ বন্ধ হচ্ছে না। কোনো কোনো দেহাবশেষ তারা কয়েকবার করে পরীক্ষা করছেন।

প্রথমে তারা টুইন টাওয়ারের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে পাওয়া হাড়ের টুকরোয় পরীক্ষা চালান। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা ডিএনএর সঙ্গে মেলেনি।

পরে তার একটি অংশ কেটে গুঁড়ো করে দুটি রাসায়নিক পদার্থের সঙ্গে তা মিশিয়ে দেন। তাদের ধারণা, এতে করে ডিএনএ বের হয়ে আসতে পারে। কিন্তু সফল হওয়া যাবে বলে নিশ্চয়তা নেই।

নিউইয়র্কের প্রধান মেডিকেল পরীক্ষা কার্যালয়ের ফরেনসিক পদার্থবিদ্যার সহকারী পরিচালক মার্ক ডিসায়ার বলেন, এ বিষয়ে কাজ করতে সবচেয়ে কঠিন পদার্থবিদ্যাসংক্রান্ত বস্তু হচ্ছে এই হাড়। গ্রাউন্ড জিরোতে যে বস্তুটি পড়েছিল, তার ওপর আগুন, মাটি, ব্যাকটেরিয়া, সূর্যের আলো, বিমানের জ্বালানি, ডিজেল জ্বালানি পড়ে ডিএনএ নষ্ট হয়ে গেছে। কাজেই তাতে খুবই ছোট আকারের ডিএনএর নমুনা থাকতে পারে।

হামলার পর থেকে সেখানে ২২ হাজার টুকরে মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। সবই পরীক্ষা করা হয়েছে। কিছু কিছু দেহাবশেষ ১০-১৫ বারও করা হয়েছে।

নিউইয়র্কের ওই হামলায় ২৭ হাজার ৫৩ লোক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬ হাজার ৪৩ জনকে শনাক্ত করা গেছে। আর এক হাজার ১১১ জনকে শনাক্ত করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নতুন করে কারো নাম শনাক্ত করা ছাড়াই কয়েক বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু কেউ হাল ছাড়ছে না।

ডিজায়ার বলেন, ২০০১ সালে যা আমরা পেয়েছি, তার সব কিছুই একই প্রটোকল। কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপে আমরা প্রক্রিয়ার উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছি।

এ কর্মসূচির বরাদ্দ নিয়ে কথা বলতে তিনি অস্বীকার করেন। তবে উত্তর আমেরিকার এটিই সবচেয়ে আধুনিক যন্ত্র ও উন্নত পরীক্ষাগার।