আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

  যুগান্তর ডেস্ক ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

জন বোল্টন
‌ছবি: এএফপি

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের(আইসিসি) বিরুদ্ধে একের পর এক কথার হামলা চালিয়েই যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মার্কিন সেনাদের বিচার করলে এবার নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে রক্ষণশীল গোষ্ঠী ফেডারেলিস্ট সোসাইটিতে দেয়া এক বক্তৃতায় ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেছেন, আজ ১১ সেপ্টেম্বর হামলার আগের দিন, প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে আমি স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বার্তা দিতে চাই যে একটি অবৈধ আদালতের বিচার থেকে আমাদের নাগরিক ও মিত্রদের সুরক্ষা দিতে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, আমরা আইসিসিকে কোনো সহযোগিতা করব না। আইসিসিকে আমরা কোনো সাহায্য পাঠাব না। আমরা চাই, আইসিসি এভাবেই মরে যাবে। তা ছাড়া আইসিসির যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, তাতে এ আদালত এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে মৃত একটি প্রতিষ্ঠান।

আইসিসিকে অবৈধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য সব কিছুই করবে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানযুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটকদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ তদন্ত করার একটি আবেদন আইসিসি এখন বিবেচনা করছে।

রোম সংবিধি অনুযায়ী, ২০০২ সালে নেদারল্যান্ডসের হেগেতে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এই আদালতে এখনও যোগ দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

জন বোল্টন বরাবরই কড়া ভাষায় আইসিসির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে আসছেন। তবে সোমবার ওয়াশিংটনে রক্ষণশীল গ্রুপ ফেডারেলিস্ট সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে এ আদালত নিয়ে যে বক্তব্য তিনি দিয়েছেন, সেখানে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এর প্রথমটি গত বছর আইসিসির কৌঁসুলি ফাতোও বেনসুদার করা একটি আবেদন নিয়ে, যেখানে আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার কথা বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথাও সেখানে আছে।

আর দ্বিতীয়টি হল- গাজায় ইসরাইলি সৈন্যদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অভিযোগের তদন্ত করতে ফিলিস্তিনিদের চেষ্টা।

প্রথমটির ক্ষেত্রে বোল্টন বলছেন, আফগানিস্তান বা আইসিসির কোনো সদস্য দেশ যেহেতু ওই অভিযোগ করেনি, সুতরাং বিষয়টি এগিয়ে নেয়ার প্রশ্ন অবান্তর।

আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে তার বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র ওয়াশিংটনে ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এর পেছনে তাদের আইসিসিতে যাওয়ার চেষ্টাও একটি কারণ।

বোল্টন তার বক্তৃতায় আইসিসিকে বর্ণনা করেন আমেরিকার সার্বভৌমত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হিসেবে।

তার ভাষায়, আইসিসি বিভিন্ন অপরাধকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। সেসব অপরাধ বিচারের এখতিয়ার এ আদালতের আছে কিনা- সে বিষয়েও প্রশ্ন আছে। সহিংস অপরাধের শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রেও আইসিসি ব্যর্থ হয়েছে।

আর যুক্তরাষ্ট্র যেখানে সংবিধানের ওপরে আর কোনো কিছুকে স্থান দেয় না, সেখানে এই আন্তর্জাতিক আদালতকে একটি অপ্রয়োজনীয় বিষয় বলে মনে করেন ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোল্টন।

২০১৬ সালে হেগভিত্তিক আদালতটি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ও গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ আফগানিস্তানে আটকদের নির্যাতনের মধ্য দিয়ে সম্ভবত মানবতাবিরোধী অপরাধ সম্পাদন করেছেন।

এখন পর্যন্ত ১২০ দেশ আইসিসির সদস্য হলেও যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মতো পরাশক্তিগুলো এখনও যোগ দেয়নি প্রতিষ্ঠানটিতে।

বোল্টন বলেন, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে যদি যুদ্ধাপরাধের কোনো তদন্ত অগ্রসর হয়, তবে আইসিসির বিচারক ও কৌঁসুলিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বিবেচনা করবে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় তাদের কোনো তহবিল থাকলে তাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তাদের বিচার করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter