ট্রাম্প-কিমে আটকা পড়েছেন মুন!

  যুগান্তর ডেস্ক ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

কিম ও মুন
ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জন উনকে আলোচনার টেবিলে বসানোর জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এ আলোচনার উদ্দেশ্য হচ্ছে- পরমাণু কর্মসূচি থেকে উত্তর কোরিয়াকে বিরত রাখা।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট এখন উত্তর কোরিয়ায় সফরে আছেন। গত এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত তিন বার উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে বৈঠক করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট।

এই তৃতীয় বৈঠকটি অন্য দুবারের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। পরমাণু অস্ত্র পরিত্যাগ করার জন্য উত্তর কোরিয়াকে বোঝানোর বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে আলোচনায় অগ্রগতি আনতে হবে।-খবর বিবিসি বাংলার।

সেটি না হলে দুই কোরিয়ার বৈঠক, ট্রাম্প এবং কিমের সাক্ষাৎ- এসবই শুধু ফটোসেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

একপর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলতে পারেন। নিজ দেশে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের পক্ষে জনসমর্থনে ভাটা পড়েছে। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হলে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি আনতেই হবে।

গত জুনে উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে সিঙ্গাপুরে বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে এখন আর পরমাণু হামলার আশংকা নেই।

কিন্তু পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন, উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না। উত্তর কোরিয়া এত বছর ধরে তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরি করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে- এখন তারা সেখান থেকে সরে আসবে কেন?

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট এখন পর্যন্ত যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটি খুবই অস্পষ্ট। এর পরিবর্তন করতে হবে।

গ্রিফিত এশিয়া ইনস্টিটিউটের আন্দ্রে আব্রাহামিয়ান বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- উত্তর কোরিয়াকে এ সপ্তাহে কিছু প্রতীকী কিংবা উল্লেখযোগ্য ছাড় দিতে হবে, যাতে দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের আগ্রহ বজায় থাকে।

তিনি বলেন, মুন যদি আলোচনায় অগ্রগতি করতে পারেন তা হলে দেশের ভেতরে তার অবস্থান শক্ত হবে এবং আমেরিকার ওপর চাপ বজায় রাখতে পারবেন, যাতে তারা সামনে এগিয়ে যায়।

উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার যারা বৈঠক করেছিলেন, তাদের কাছে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন- পরমাণু কর্মসূচি বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তার প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া তাদের সর্বশেষ মিসাইল পরীক্ষা করেছিল ১০ মাস আগে। এটি এক ধরনের অগ্রগতি।

কিন্তু স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে যে, উত্তর কোরিয়া তাদের অস্ত্র মজুদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জনসম্মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতার প্রশংসা করেছেন।

৯ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার সামরিক মহড়ায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনী না করায় কিম জং উনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জনসম্মুখে যাই বলুক না কেন, পরমাণু অস্ত্র বন্ধের বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার আগ্রহের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করে ট্রাম্প প্রশাসন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রধান কাজ হচ্ছে- ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনকে আলোচনার টেবিলে আবার বসানোর জন্য আগ্রহ ধরে রাখা। উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন।

সেখানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করবেন। পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটন পরস্পরের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে আলোচনা করছে।

সে জন্য আলোচনা আটকে গেছে। উত্তর কোরিয়া চায় কোরিয়া যুদ্ধ শেষ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। দক্ষিণ কোরিয়াও সেটিই চায়। ১৯৫৩ সালে যুদ্ধ শেষ হলেও কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি।

এপ্রিল মাসে এক বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুদ্ধ শেষ করার জন্য আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল না।

ওয়াশিংটন চায় কোনো শান্তিচুক্তি করার আগে উত্তর কোরিয়া পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করুক। ব্যক্তিগত বোঝা বয়ে চলা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন-এর পিতামাতা কোরিয়া যুদ্ধ চলার সময় উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে এসেছেন।

সেই সময় প্রায় এক লাখ মানুষ পালিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় এসেছিল। শরণার্থী ক্যাম্পে জন্ম হয়েছিল ভবিষ্যৎ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের। মুন জায়ে-ইন-এর পিতামাতা চান মৃত্যুর পর তাদের জন্মভূমি উত্তর কোরিয়ার মাটিতে দাফন করা হোক।

বাবা-মায়ের এ আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার গুরুদায়িত্ব রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কাঁধে। একসময় তারা ভাবতেন যে কমিউনিস্ট উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কথা বলা উচিত হবে না কিংবা তাদের সঙ্গে কথা বলা যায় না।

কিন্তু এখন উত্তর কোরিয়া ধীরে ধীরে পাল্টাচ্ছে বলে মনে করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের বাবা। কিন্তু উত্তর কোরিয়া সত্যিকার অর্থে বদলাবে কিনা সেটি নিয়ে তার মনে দ্বিধা রয়েছে। তবে তার ছেলে অর্থাৎ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট অন্তত চেষ্টা করছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : উত্তর কোরিয়া সঙ্কট

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter