উড়াল নিষেধাজ্ঞায় থাকা মার্কিন মুসলমানরা মামলা করতে পারবেন

  যুগান্তর ডেস্ক ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

উড়াল নিষেধাজ্ঞায় থাকা মার্কিন মুসলমানরা মামলা করতে পারবেন
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন মুসলমানরা নো ফ্লাই লিস্ট বা উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞার তালিকার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন বলে দেশটির কেন্দ্রীয় আপিল আদালত জানিয়েছেন।

গত ছয় বছর ধরে এক আমেরিকান মুসলমানকে অসমীচীনভাবে উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখার মামলা বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেন্দ্রীয় আপিল আদালত নতুন করে চালু করেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে এ তথ্য জানা গেছে।

ইউনাস ফিকর নামের ওই মুসলিম আমেরিকান বলেছেন, তাকে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের তথ্যদাতা হতে বাধ্য করতেই তার নাম উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছিল।

নিম্ন আদালতের রুলের বিপরীতে গিয়ে অরেগনের পোর্টল্যান্ডের নবম মার্কিন সার্কিট কোর্ট অফ আপিল জানিয়েছেন, মামলার তিন বছর পর ২০১৬ সালের মে-তে যখন কোনো কারণ ব্যাখ্যা ছাড়াই ইউনাসকে নো ফ্লাই লিস্টের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়, তখন আইনগতভাবে তা নিষ্পত্তি হয়নি।

আদালত বলছে, ইউনাসের নো ফ্লাই লিস্টে না থাকার ন্যায্যতা সরকার অস্বীকার করেছে এবং তাকে সেখানে ফিরতে না দেয়ায় তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে, এমনকি তাকে বন্ধু ও পরিবার থেকে দূরে রাখার প্রভাবকে অস্বীকার করা হয়েছে।

তিন বিচারকের প্যানেলের তরফে মার্কিন সার্কিট বিচারক মর্গান ক্রিস্টান বলেন, ইউনাস ফিকরের ভাষায়, তাকে সন্দেহভাজন কিংবা পরিচিত সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিয়ে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় জড়িত এবং হামলা চলাতে সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে।

মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর ২০০৩ সালের উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা তালিকা চালু করা হয়েছে। যুক্তাষ্ট্রের ভেতর ও বাইরে বাণিজ্যিক বিমানে কোনো ব্যক্তির যাতায়াত নিষিদ্ধ করতে চাইলে তাকে এ তালিকায় ফেলা হয়।

দেশটিতে এ তালিকার ফাঁদে পড়ে তা থেকে বাঁচতে বহু লোক মামলা করেছেন। সবাই আদালতের বৃহস্পতিবারের রুলের আওতায় পড়বেন। এতে উড়াল নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্যালিফোর্নিয়াসহ মার্কিন পশ্চিমাঞ্চলীয় ৯টি রাজ্যে আদালতের এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে। অন্যত্রও আদালতের সিদ্ধান্তে তা প্রয়োগ করা যেতে পারে।

ইউনাস ফিকর বলেন, ২০১০ সালের এপ্রিলে সুদানে তিনি ব্যবসায়িক সফরে ছিলেন। সেখানেই তার পরিবার থাকে। নিজের উপস্থিতি নিয়ে তিনি মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন। তখন পোর্টল্যান্ডের আল সবর মসজিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা তাকে জেরা করেন। ওই মসজিদেই তিনি নিয়মিত নামাজ আদায় করেন।

তিনি বলেন, এফবিআই কর্মকর্তারা উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তাকে রাখার কথা বলেন। কিন্তু তিনি যদি তাদের তথ্যদাতা হতে রাজি হন, তবে তাকে তালিকা থেকে বাদ দেয়াসহ যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলেও জানিয়ে দেয়া হয়।

কিন্তু গোয়েন্দাদের প্রস্তাবে তিনি রাজি হননি।

ইউনাস ফিকরের আইনজীবী গাদিয়ার আব্বাস বলেন, নিরপরাধ নাগরিকদের উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞার ফাঁদে ফেলে সরকার যাতে সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত অপরাধে না জড়াতে পারে, মার্কিন জেলা বিচারক আনা ব্রাউনকে তার মক্কেল সেই মর্মে একটি নির্দেশ জারি করতে অনুরোধ করবেন।

তিনি বলেন, আমরা আশাবাদী নিম্ন আদালত উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞার তালিকাকে মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখবেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×