ট্রেনে শেভ করে রাতারাতি বড়লোক

  যুগান্তর ডেস্ক ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

ট্রেনে দাঁড়িশেভ
ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

থাকতেন রাস্তায়। উঠে এলেন প্রাসাদে। মিলল লোভনীয় চাকরির প্রস্তাবও। তাও আবার রাতারাতি। ঠিক যেন রূপকথার গল্প! এখনও বিশ্বাস হচ্ছেনা অ্যান্টনি টোরেসের। চোখের নিমেষেই ঘটে গেল সবকিছু। সৌজন্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

৫৬ বছরের অ্যান্টনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বাসিন্দা। ভবঘুরের মতোই জীবন কাটাচ্ছিলেন এতদিন। শারীরিক অসুস্থতার জেরে কর্মশক্তি হারিয়েছিলেন। রোজগার ছিল না। ছিল না মাথার ওপর ছাদও।

বাধ্য হয়ে রাস্তায় ঠাঁই নিতে হয় তাকে। পরিবার পরিজন যে ছিল না, তা নয়। তবে কারও ঘাড়ে বোঝা হতে চাননি তিনি।

তাই কখনও সেতুর নীচে মাথা গুঁজতেন। কখনও পড়ে থাকতেন রাস্তার ধারে। তবে তাতেও শান্তি ছিল না। পথ চলতি মানুষের দয়া দাক্ষিণ্য মিলত বটে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে তাও লুট হয়ে যেত। বাধ্য হয়ে একদিন নিজের এক ভাইকে ফোন করেন তিনি। আশ্রয়ের প্রার্থনা করেন।-খবর আনন্দবাজারপত্রিকা অনলাইনের।

না আশ্রয় জোটেনি সেখানে। কিছু টাকা পাঠিয়েই হাত তুলে নিয়েছিলেন সেই ভাই। অ্যান্টনির হাতে ট্রেনের একটি টিকিট ধরিয়ে দিয়েছিলেন। চলে যেতে বলেছিলেন অন্য আর এক ভাইয়ের কাছে।

ভাইয়ের কথা মতো নিউ জার্সির পেন স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে পড়েন অ্যান্টনি। কিছুদূর যাওয়ার পর খেয়াল হয়, মুখ ভর্তি দাড়ি। গায়ে ময়লা জমেছে। এমন অবস্থায় কেউ কি মেনে নেবে! যেমন ভাবা তেমনি কাজ। তড়িঘড়ি নিজের পোঁটলা থেকে রেজার বের করেন। ট্রেনের জানলায় মুখ দেখে দাড়ি কামাতে শুরু করেন।

পাশে বসা এক যাত্রী নিজের মোবাইলে তা রেকর্ড করেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন। প্রথম কয়েক দিনেই ভিডিওটির দর্শক সংখ্যা ৩০ লাখ পেরিয়ে যায়। হইচই পড়ে যায় সর্বত্র। তবে তার কিছুই টের পাননি অ্যান্টনি। পরে ভাইয়ের মেয়ের কাছ থেকে জানতে পারেন।

তবে সকলেই তাকে ভালভাবে নেননি। ট্রেনের কামরা নোংরা করার জন্য প্রথম দিকে নেটিজেনরা তিরস্কারই করেন তাকে। তবে সমবেদনায় নেট দুনিয়া গলতে শুরু করে কিছুদিন পর থেকে।

অনলাইন তার জন্য ত্রাণ জোগাড় করতে শুরু করেন কলম্বিয়ার বাসিন্দা জর্ডন উল। গো ফান্ড মি নামের একটি সোশ্যাল পেজ শুরু করেন তিনি। তাতে দুদিনেই প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা ওঠে। নিউ জার্সির পরিবহন দফতরের তরফে চাকরির প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে তাকে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×