আসামের নাগরিক তালিকা সংশোধন শুরু, চলবে দুই মাস

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: রয়টার্স

আদালতের নির্দেশে ভারতের আসামের খসড়া নাগরিক তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এ প্রক্রিয়া চলবে আগামী দুই মাস।

গত ৩০ জুলাই প্রকাশিত সেই চূড়ান্ত খসড়ায় বাদ পড়েছিলেন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যেসব তথ্য ও নথি চাওয়া হয়েছিল সেগুলো জমা না দেয়ার কারণে তাদের বাদ দেয়া হয়।

এখন কর্তৃপক্ষ বলছেন, যাদের নাম বাদ পড়েছে তারা তথ্য ও নথি জমা দিয়ে তালিকায় নাম তুলতে আবেদন জানাতে পারবেন।

শুরুতে আবেদন করার জন্য প্রাথমিকভাবে ১৫টি নথি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন আবেদন করেছিলেন তিন কোটি ২৯ লাখ মানুষ।

তার মধ্যে ৪০ লাখ সাত হাজার ৭০০ লোকের নাম পূর্ণাঙ্গ খসড়ায় ওঠেনি।

মূলত ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর আগে যারা আসামে গিয়েছিলেন বলে নথি প্রমাণ পেশ করতে পারেননি, তাদের নাম জাতীয় নাগরিক তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।


শিলচরের দৈনিক যুগশঙ্খ পত্রিকার সম্পাদক অরিজিত আদিত্য বলেন, এবার এনআরসি কর্তৃপক্ষ সুপ্রিমকোর্টে যে স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিওর-এসওপি জমা দিয়েছেন, সেখানে বলা হয়েছে- আবেদনকারীর বাবা-মা বা পূর্ব পুরুষরা যে ১৯৭১ সালের আগে থেকেই আসামে বসবাস করতেন এখন সেটির প্রমাণ দিতে হবে।

তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে ১৯৭১ বা তার আগের ভোটার তালিকাকে মান্য করা হয়েছিল। কিন্তু এনআরসি কর্তৃপক্ষ সন্দেহ করছেন, এই ভোটার তালিকায় কারচুপি করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত মাইগ্রেশন বা রিফিউজি কার্ড যেটি ছিল সেটিতেও কারচুপি করা হয়েছে বলে তাদের সংশয় রয়েছে।

আদিত্য বলেন, মূলত এ বিষয়টি নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ একাত্তরের আগের যে ৫টি নথি সাময়িক বাদ দেয়া হয়েছিল, তার অধিকাংশই সেগুলো দিয়ে আবেদন করেছিলেন। সেই সঙ্গে আবেদনকারীদের একটি বড় অংশ সেই অর্থে শিক্ষিত নন। তাই জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যে অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল থেকে গেছে।

সেক্ষেত্রে বিষয়গুলোকে আরও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।