চীনের রাশিচক্র শেং জিয়াও
jugantor
চীনের রাশিচক্র শেং জিয়াও

  রবিউল কমল  

২৩ আগস্ট ২০২১, ০২:৫৩:৫০  |  অনলাইন সংস্করণ

চীনা রাশিচক্রের নাম শেং জিয়াও। প্রতি ১২ বছরে ১২টি প্রাণীর সঙ্গে মিলিয়ে শেং জিয়াও গণনা করা হয়। চীনা লুনার ক্যালেন্ডার মেনে একেকটি বছর একেকটি প্রাণীর নামে উৎসর্গ করা হয়। এই ১২টি প্রাণী হলো- ইঁদুর, ষাঁড়, বাঘ, খরগোশ, ড্রাগন, সাপ, ঘোড়া, ভেড়া, বাঁদর, মোরগ, কুকুর এবং শূকর।

এই ১২ বছরের একেকটি বছর একেকজন প্রাণীর নামে নির্দিষ্ট। চার্ট মিলিয়ে জেনে নিন চীনা হরস্কোপ অনুসারে আপনি কোন প্রাণীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বহন করছেন।

এই ১২টি প্রাণীর চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য:

সাপ
এই রাশির মানুষরা সাপের মতোই রহস্যময়। এরা সাধারণত কিছুটা মুডি ও হিংসুটে হন। তবে মানুষের মন জয়ে এদের জুড়ি নেই। এরা চট করে মাথা গরম করে ফেলেন। এই রাশির জাতকদের আর্থিক সংকট সাধারণত হয় না। গরিব মানুষকে সাহায্য করতে এরা সবসময় তৎপর থাকেন। নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছতে এরা সবকিছু করতে পারেন। ব্যর্থতাকে এরা ঘৃণা করেন। তাই কোনোভাবেই ব্যর্থ হওয়া মেনে নিতে পারেন না।

ঘোড়া
ঠিক ঘোড়ার মতোই এই রাশির জাতকরা প্রাণশক্তিতে ভরপুর হন। এক জায়গায় বেশি দিন এরা আটকে থাকতে পারেন না। ভ্রমণ এদের অত্যান্ত পছন্দের একটি বিষয়। এরা প্রেমে পড়তে ভালোবাসেন এবং অন্যরাও এদের প্রতি সহজে আকৃষ্ট হন।

ভেড়া
এই রাশির মানুষরা প্রকৃতির উপহার বলা যেতে পারে। এরা অত্যন্ত সুন্দর, সভ্য ও শৈল্পিক প্রকৃতির হন। সৃজনশীল কাজে এদেও উৎসাহ বেশি থাকে। সুন্দর ব্যবহারের জন্য অনেকেই এদের বন্ধু হতে চান। তবে ভেড়া রাশির জাতকরা নিরাপত্তার অভাবে ভোগেন। এদের মনে সব সময় একটা অজানা ভয় কাজ করে। স্রোতের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে এরা ভয় পান।

বাঁদর
মজা করতে এরা সব সময় খুব ভালেবাসেন এবং অত্যন্ত চালাক হন। নিজেদের চারপাশকে কী করে সুন্দর করা যায় তা এই রাশির জাতকরা বেশ ভালোই বোঝেন। যে কোনও পার্টি জমিয়ে তুলতে এদের বিকল্প নেই। প্রাণপ্রাচুর্য ও সেন্স অফ হিউমারের কারণে অনেক বন্ধু হয় এদের। যে কোনো সমস্যার সমাধান সব সময় এদের কাছে থাকে।

মোরগ
এদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা অত্যন্ত তীব্র হয়। এটাও বলা যেতে পারে যে মোরগ রাশির জাতকদের সিক্স সেন্স খুবই প্রবল। এই রাশির জাতকদের চরিত্র একটা খোলা বইয়ের মতো। চোখ বুজে এদের বিশ্বাস করা যায়। সোজা কথা মুখের ওপর বলে দিতে এদের জুড়ি নেই।

কুকুর
কুকুরের বছরে জন্ম হয়েছে এরকম ব্যক্তি অত্যন্ত স্ট্রেট ফরওয়ার্ড হন। পেশাগত দিকে হোক বা ব্যক্তিগত সম্পর্কে, এরা অত্যন্ত বিশ্বাসী হন ঠিক কুকুরের মতোই। এরা সাহসী, স্মার্ট ও মুক্তমনা হন। অন্যের আত্মবিশ্বাসকে খুব সহজে এরা জাগিয়ে তুলতে পারেন। এই রাশির জাতকদের নেতৃত্বদানের ক্ষমতা সহজাত। তবে নিজের মনে অনেক সময়ই অনেক কিছু গোপন করে রাখেন এরা।

শূকর
মনের দিক থেকে অত্যন্ত খাঁটি হন শূকর রাশির জাতকরা। এদের সহ্যশক্তি অপরিসীম। অন্যের সুবিধা-অসুবিধার প্রতি সব সময় খেয়াল রাখেন। শূকর রাশির কোনো জাতকের ওপর ভরসা করলে আপনি কখনও ঠকবেন না। এরা প্রাণ দিয়েও আপনার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবেন। তবে এদের সরলতার সুযোগ নিয়ে অনেকেই ঠকিয়ে থাকেন।

ইঁদুর
শক্তি ও বুদ্ধির মিশ্রণে তৈরি এই রাশির জাতকরা। ইঁদুর রাশির জাতকরা অত্যন্ত সজাগ ও নমনীয় হন। যে কোনও পরিস্থিতির সঙ্গে এরা মানিয়ে নিতে পারেন। টাকা-পয়সার অভাব সাধারণত এদের হয় না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে ভালোবাসেন। এরা অত্যন্ত চালাক, কৌতুহলী এবং শ্রদ্ধাশীল হন।
ষাঁড়
এরা অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী হন। যে কোনো কাজে ধৈর্যের সঙ্গে লেগে থাকেন। এরা খুবই আত্মবিশ্বাসী। যে কোনো বিষয়কে এরা দুটি ভাগে ভাগ করেন। খারাপ ও ভালো। এদের কাছে মাঝামাঝি কিছু হয় না। নিজেদের মতের সঙ্গে মেলে না, এমন মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারেন না এরা। ষাঁড় রাশির জাতকরা খুব একটা সামাজিক মেলামেশায় অভ্যস্ত নন।

বাঘ
নেতৃত্বের সহজাত গুণ নিয়েই এরা জন্মেছে। যে কোনো স্থানে নেতার আসনে একজন বাঘ রাশির জাতককেই দেখা যায়। এরা মহান ও সাহসী। সাহসের জন্যই সবার কাছে এরা শ্রদ্ধার পাত্র। এরা লড়াকু প্রকৃতির হন এবং যা ঠিক বলে বিশ্বাস করেন, তার জন্য প্রাণ দিতেও প্রস্তুত থাকেন। এদের চৌম্বক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সহজেই সবাইকে আকৃষ্ট করে।

খরগোশ
সব প্রাণীর মধ্যে খরগোশ সবচেয়ে স্পর্শকাতর। খরগোশ রাশির জাতকরাও তাই। এরা দয়ালু, কিউট ও জনপ্রিয় হন। এদের কেউ সহজে উপেক্ষা করতে পারে না। কারণ এরা সবার সঙ্গে সহজে মিশতে পারেন। এই রাশির জাতকদের সৌন্দর্যবোধ অত্যন্ত প্রবল হয়। এরা নিজেদের চারপাশ সুন্দর করে গুছিয়ে রাখতে ভালোবাসেন।

ড্রাগন
কাল্পনিক এই চিনা প্রাণীর মধ্যে রাজকীয় একটা ব্যাপার রয়েছে। এদের জাতকের মধ্যেও তাই। এদের বর্ন লিডার বলা হয়। যে কোনো অনুষ্ঠানে এরা সবার আকর্ষণের পাত্র বনে যান। এদের মধ্যে নতুন কিছু শুরু করার শক্তি রয়েছে। শক্তি ও সৌভাগ্য নিয়েই এরা জন্মান। এছাড়া এরা পারফেকশনিস্ট ও আদর্শবাদী হন।

লাইভ সায়েন্স অবলম্বনে।

চীনের রাশিচক্র শেং জিয়াও

 রবিউল কমল 
২৩ আগস্ট ২০২১, ০২:৫৩ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চীনা রাশিচক্রের নাম শেং জিয়াও। প্রতি ১২ বছরে ১২টি প্রাণীর সঙ্গে মিলিয়ে শেং জিয়াও গণনা করা হয়। চীনা লুনার ক্যালেন্ডার মেনে একেকটি বছর একেকটি প্রাণীর নামে উৎসর্গ করা হয়। এই ১২টি প্রাণী হলো- ইঁদুর, ষাঁড়, বাঘ, খরগোশ, ড্রাগন, সাপ, ঘোড়া, ভেড়া, বাঁদর, মোরগ, কুকুর এবং শূকর।

এই ১২ বছরের একেকটি বছর একেকজন প্রাণীর নামে নির্দিষ্ট। চার্ট মিলিয়ে জেনে নিন চীনা হরস্কোপ অনুসারে আপনি কোন প্রাণীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বহন করছেন।

এই ১২টি প্রাণীর চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য:

সাপ
এই রাশির মানুষরা সাপের মতোই রহস্যময়। এরা সাধারণত কিছুটা মুডি ও হিংসুটে হন। তবে মানুষের মন জয়ে এদের জুড়ি নেই। এরা চট করে মাথা গরম করে ফেলেন। এই রাশির জাতকদের আর্থিক সংকট সাধারণত হয় না। গরিব মানুষকে সাহায্য করতে এরা সবসময় তৎপর থাকেন। নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছতে এরা সবকিছু করতে পারেন। ব্যর্থতাকে এরা ঘৃণা করেন। তাই কোনোভাবেই ব্যর্থ হওয়া মেনে নিতে পারেন না।

ঘোড়া
ঠিক ঘোড়ার মতোই এই রাশির জাতকরা প্রাণশক্তিতে ভরপুর হন। এক জায়গায় বেশি দিন এরা আটকে থাকতে পারেন না। ভ্রমণ এদের অত্যান্ত পছন্দের একটি বিষয়। এরা প্রেমে পড়তে ভালোবাসেন এবং অন্যরাও এদের প্রতি সহজে আকৃষ্ট হন।

ভেড়া
এই রাশির মানুষরা প্রকৃতির উপহার বলা যেতে পারে। এরা অত্যন্ত সুন্দর, সভ্য ও শৈল্পিক প্রকৃতির হন। সৃজনশীল কাজে এদেও উৎসাহ বেশি থাকে। সুন্দর ব্যবহারের জন্য অনেকেই এদের বন্ধু হতে চান। তবে ভেড়া রাশির জাতকরা নিরাপত্তার অভাবে ভোগেন। এদের মনে সব সময় একটা অজানা ভয় কাজ করে। স্রোতের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে এরা ভয় পান।

বাঁদর
মজা করতে এরা সব সময় খুব ভালেবাসেন এবং অত্যন্ত চালাক হন। নিজেদের চারপাশকে কী করে সুন্দর করা যায় তা এই রাশির জাতকরা বেশ ভালোই বোঝেন। যে কোনও পার্টি জমিয়ে তুলতে এদের বিকল্প নেই। প্রাণপ্রাচুর্য ও সেন্স অফ হিউমারের কারণে অনেক বন্ধু হয় এদের। যে কোনো সমস্যার সমাধান সব সময় এদের কাছে থাকে।

মোরগ
এদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা অত্যন্ত তীব্র হয়। এটাও বলা যেতে পারে যে মোরগ রাশির জাতকদের সিক্স সেন্স খুবই প্রবল। এই রাশির জাতকদের চরিত্র একটা খোলা বইয়ের মতো। চোখ বুজে এদের বিশ্বাস করা যায়। সোজা কথা মুখের ওপর বলে দিতে এদের জুড়ি নেই।

কুকুর
কুকুরের বছরে জন্ম হয়েছে এরকম ব্যক্তি অত্যন্ত স্ট্রেট ফরওয়ার্ড হন। পেশাগত দিকে হোক বা ব্যক্তিগত সম্পর্কে, এরা অত্যন্ত বিশ্বাসী হন ঠিক কুকুরের মতোই। এরা সাহসী, স্মার্ট ও মুক্তমনা হন। অন্যের আত্মবিশ্বাসকে খুব সহজে এরা জাগিয়ে তুলতে পারেন। এই রাশির জাতকদের নেতৃত্বদানের ক্ষমতা সহজাত। তবে নিজের মনে অনেক সময়ই অনেক কিছু গোপন করে রাখেন এরা।

শূকর
মনের দিক থেকে অত্যন্ত খাঁটি হন শূকর রাশির জাতকরা। এদের সহ্যশক্তি অপরিসীম। অন্যের সুবিধা-অসুবিধার প্রতি সব সময় খেয়াল রাখেন। শূকর রাশির কোনো জাতকের ওপর ভরসা করলে আপনি কখনও ঠকবেন না। এরা প্রাণ দিয়েও আপনার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবেন। তবে এদের সরলতার সুযোগ নিয়ে অনেকেই ঠকিয়ে থাকেন।

ইঁদুর
শক্তি ও বুদ্ধির মিশ্রণে তৈরি এই রাশির জাতকরা। ইঁদুর রাশির জাতকরা অত্যন্ত সজাগ ও নমনীয় হন। যে কোনও পরিস্থিতির সঙ্গে এরা মানিয়ে নিতে পারেন। টাকা-পয়সার অভাব সাধারণত এদের হয় না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে ভালোবাসেন। এরা অত্যন্ত চালাক, কৌতুহলী এবং শ্রদ্ধাশীল হন। 
ষাঁড়
এরা অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী হন। যে কোনো কাজে ধৈর্যের সঙ্গে লেগে থাকেন। এরা খুবই আত্মবিশ্বাসী। যে কোনো বিষয়কে এরা দুটি ভাগে ভাগ করেন। খারাপ ও ভালো। এদের কাছে মাঝামাঝি কিছু হয় না। নিজেদের মতের সঙ্গে মেলে না, এমন মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারেন না এরা। ষাঁড় রাশির জাতকরা খুব একটা সামাজিক মেলামেশায় অভ্যস্ত নন।

বাঘ
নেতৃত্বের সহজাত গুণ নিয়েই এরা জন্মেছে। যে কোনো স্থানে নেতার আসনে একজন বাঘ রাশির জাতককেই দেখা যায়। এরা মহান ও সাহসী। সাহসের জন্যই সবার কাছে এরা শ্রদ্ধার পাত্র। এরা লড়াকু প্রকৃতির হন এবং যা ঠিক বলে বিশ্বাস করেন, তার জন্য প্রাণ দিতেও প্রস্তুত থাকেন। এদের চৌম্বক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সহজেই সবাইকে আকৃষ্ট করে।

খরগোশ
সব প্রাণীর মধ্যে খরগোশ সবচেয়ে স্পর্শকাতর। খরগোশ রাশির জাতকরাও তাই। এরা দয়ালু, কিউট ও জনপ্রিয় হন। এদের কেউ সহজে উপেক্ষা করতে পারে না। কারণ এরা সবার সঙ্গে সহজে মিশতে পারেন। এই রাশির জাতকদের সৌন্দর্যবোধ অত্যন্ত প্রবল হয়। এরা নিজেদের চারপাশ সুন্দর করে গুছিয়ে রাখতে ভালোবাসেন।

ড্রাগন
কাল্পনিক এই চিনা প্রাণীর মধ্যে রাজকীয় একটা ব্যাপার রয়েছে। এদের জাতকের মধ্যেও তাই। এদের বর্ন লিডার বলা হয়। যে কোনো অনুষ্ঠানে এরা সবার আকর্ষণের পাত্র বনে যান। এদের মধ্যে নতুন কিছু শুরু করার শক্তি রয়েছে। শক্তি ও সৌভাগ্য নিয়েই এরা জন্মান। এছাড়া এরা পারফেকশনিস্ট ও আদর্শবাদী হন।

লাইভ সায়েন্স অবলম্বনে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন