Logo
Logo
×
   

ইসলাম ও জীবন

হারাম উপার্জন দিয়ে দান-সদকা করলে কবুল হবে কি?

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

হারাম উপার্জন দিয়ে দান-সদকা করলে কবুল হবে কি?

হারাম উপার্জন সদকা। ছবি: সংগৃহীত

ধন-সম্পদ মানুষের জীবনের এক অনিবার্য প্রয়োজন। এর মাধ্যমে জীবন চলে, পরিবার টিকে থাকে, সমাজ এগিয়ে যায়; কিন্তু ইসলাম আমাদের সতর্ক করে দেয়—সম্পদের পরিমাণ নয়, উৎসই আসল পরীক্ষা। বাহ্যিকভাবে ঝলমলে ও মধুর মনে হলেও হারাম সম্পদ মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, আর হালাল সম্পদ অল্প হলেও এনে দেয় প্রশান্তি ও বরকত। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বাস্তবতাই আমাদের সামনে সুস্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন এভাবে—

হজরত খাওলাহ বিনতে কায়স (রা.) বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন—

إِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ، مَنْ أَصَابَهُ بِحَقِّهِ بُورِكَ لَهُ فِيهِ، وَرُبَّ مُتَخَوِّضٍ فِيمَا شَاءَتْ بِهِ نَفْسُهُ مِنْ مَالِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ، لَيْسَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا النَّارُ

‘নিশ্চয়ই এই দুনিয়ার ধন-সম্পদ শ্যামল ও সুমিষ্ট (অর্থাৎ আকর্ষণীয়)। তবে যে ব্যক্তি তা হালাল ও ন্যায়সঙ্গতভাবে গ্রহণ করে, তার জন্য তাতে বরকত হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসুলের সম্পদ (গনীমত বা জনস্বার্থের মাল) থেকে অন্যায়ভাবে ভোগ করে, কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নামের আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই।’ (তিরমিজি ২৩৭৪, মিশকাতুল মাসাবিহ ৪০১৭)

কুরআনের আলোকে সম্পদের নীতি

সম্পদের অন্যায় ব্যবহার শুধু দুনিয়ার অপরাধ নয়; বরং এটি আখিরাতের ভয়াবহ শাস্তির কারণ। আল্লাহ তাআলা বলেন—

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡكُلُوۡۤا اَمۡوَالَكُمۡ بَیۡنَكُمۡ بِالۡبَاطِلِ

‘হে মুমিনগণ! তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করো না।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ২৯)

হালাল সম্পদে বরকত, হারামে অভিশাপ

হারাম উপার্জন দিয়ে দান-সদকা, ইবাদত বা নেক কাজ করলেও তা আল্লাহর কাছে কবুল হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র (হালাল) জিনিসই গ্রহণ করেন।’ (মুসলিম ১০১৫, তিরমিজি ২৯৮৯, মুসনাদ আহমাদ ৮৮৪৬)


বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে করণীয়

আজকের সমাজে ঘুষ, দুর্নীতি, আত্মসাৎ, প্রতারণা ও অবৈধ আয়ের প্রবণতা ব্যাপক। এই বাস্তবতায় একজন মুসলিমের করণীয়—

> উপার্জনের উৎস হালাল কি না, তা নিশ্চিত করা

> অফিস, ব্যবসা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদে আমানতের খেয়ানত না করা

> সন্দেহজনক আয়ের পথ পরিহার করা

> অন্যায়ভাবে নেওয়া সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া ও তাওবা করা

> অল্প আয় হলেও তাতে সন্তুষ্ট থাকা

হজরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে—

لَا يَكْثُرُ حَرَامٌ قَطُّ إِلَّا كَانَ عَاقِبَتُهُ إِلَى قِلَّةٍ

‘হারাম কখনো বেশি হয় না; এর পরিণতি শেষ পর্যন্ত কমেই যায়।’ (মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা ৩৫৫৬৬, বায়হাকি)

দুনিয়ার সম্পদ দেখতে যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, এর প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হবে কীভাবে তা অর্জিত হয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তরে। হালাল সম্পদ জীবনকে আলোকিত করে, পরিবারে শান্তি আনে, আর আখিরাতে মুক্তির পথ খুলে দেয়। পক্ষান্তরে হারাম সম্পদ বাহ্যিক সুখ দিলেও অন্তরে অশান্তি এবং পরিণামে জাহান্নামের আগুন ছাড়া কিছুই দেয় না। অতএব, আসুন আমরা সম্পদের মোহে নয়—বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .