যে পাপের আজাব থেকে মুক্তিতে পৃথিবীর সব সম্পদও কাজে আসবে না
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানুষ দুনিয়ায় নানা ধরনের পাপ করে। কিছু পাপ তাওবার মাধ্যমে ক্ষমা হয়ে যায়, কিছু পাপের শাস্তি ভোগের পর মুক্তি মিলতে পারে। কিন্তু এমন একটি পাপ আছে, যা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ভয়াবহ— সেটি হলো শিরক; অর্থাৎ আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার বা শরিক করা।
শিরক মানুষের সমস্ত নেক আমল ধ্বংস করে দেয়, তাওহিদের ভিত্তিকে ভেঙে দেয় এবং আখিরাতে তাকে চরম ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়। তাই কুরআন ও সুন্নাহ বারবার আমাদের শিরক থেকে সতর্ক করেছে।
কিয়ামতের সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য
হজরত আনাস ইবন মালিক (রা.) বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
يُؤْتَى بِأَهْوَنِ أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيُقَالُ لَهُ: لَوْ أَنَّ لَكَ مَا فِي الْأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ أَكُنْتَ تَفْتَدِي بِهِ؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ. فَيَقُولُ: قَدْ أَرَدْتُ مِنْكَ أَهْوَنَ مِنْ هَذَا وَأَنْتَ فِي صُلْبِ آدَمَ: أَنْ لَا تُشْرِكَ بِي شَيْئًا، فَأَبَيْتَ إِلَّا أَنْ تُشْرِكَ بِي
‘কিয়ামতের দিন জাহান্নামবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বলা হবে, ‘যদি পৃথিবীর সবকিছু তোমার হয়ে যেত, তাহলে কি তুমি এই শাস্তি থেকে মুক্তির জন্য তা দিয়ে দিতে?’ সে বলবে, ‘হ্যাঁ।’ তখন আল্লাহ বলবেন, ‘আমি তো তোমার কাছে এর চেয়েও সহজ একটি বিষয় চেয়েছিলাম, যখন তুমি আদমের পৃষ্ঠদেশে ছিলে— যেন তুমি আমার সঙ্গে কাউকে শরিক না কর। কিন্তু তুমি তা মানোনি; বরং শিরকই করেছ।’ (বুখারি ৩৩৩৪, মুসলিম ২৮০৫)
শিরক সম্পর্কে কুরআনের কঠোর সতর্কবাণী
আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। তবে এর নিচের (অন্যান্য) পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ৪৮)
আরও বলেন—
إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ
‘নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।’ (সুরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ৭২)
শিরক সব নেক আমল ধ্বংস করে দেয়
আল্লাহ তাআলা তার নবীকেও সতর্ক করে বলেছেন—
لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
‘যদি আপনি শিরক করেন, তবে অবশ্যই আপনার সব আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং আপনি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।’ (সুরা আয-যুমার: আয়াত ৬৫)
তাওহিদের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য এটি মূলত উম্মতের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা।
মুমিনের সর্বপ্রথম দায়িত্ব— তাওহিদকে আঁকড়ে ধরা
রাসুলুল্লাহ (সা.) তাওহিদের দাওয়াত দিয়েই তার নবুয়তের সূচনা করেছিলেন। কারণ তাওহিদ ছাড়া কোনো ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আমাদের উচিত—
- শুধু আল্লাহর কাছেই দোয়া করা।
- শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করা।
- সব ধরনের বড় ও ছোট শির্ক থেকে বেঁচে থাকা।
- কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী ইবাদত করা।
তাওহিদের ওপর থাকার দোয়া
আল্লাহ তাআলা বলেন—
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
উচ্চারণ: ‘রব্বানা লা তুযেগ ক্বুলুবানা বাঅ’দা ইজ হাদাইতানা ওয়াহাব লানা মিল্লাদুংকা রাহমাহ। ইন্নাকা আংতাল ওয়াহহাব।’
অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আপনি আমাদের হিদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনিই মহাদাতা।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ৮)
শিরক এমন একটি পাপ, যার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কিয়ামতের দিন পৃথিবীর সমস্ত ধন-সম্পদ দিয়েও একজন মুশরিক নিজের শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে না। অথচ আল্লাহ আমাদের কাছে যে বিষয়টি চেয়েছেন, তা অত্যন্ত সহজ— শুধু তারই ইবাদত করা এবং তার সঙ্গে কাউকে শরিক না করা।
আসুন, আমরা আমাদের আকিদাহ বিশুদ্ধ করি, তাওহিদকে জীবনের ভিত্তি বানাই এবং প্রকাশ্য ও গোপন সব ধরনের শিরক থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বিশুদ্ধ তাওহিদের ওপর অবিচল রাখুন, সব ধরনের শিরক—বড় ও ছোট—থেকে হেফাজত করুন এবং ইমানের সঙ্গে মৃত্যু দান করুন। আমিন।

