শবেবরাত কি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত?

  অনলাইন ডেস্ক ২১ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

শবেবরাত কি হাদিস দ্বারা প্রমাণিত?
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: আজকাল কারো কারো মুখে শোনা যায় যে, শবেবরাত বলতে কিছু নেই, এ রাতের ফজিলত বিষয়ে যত রেওয়ায়েত আছে সব মওযু বা যয়িফ। তাই শবেবরাতকে ফজিলতপূর্ণ রাত মনে করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা জায়েজ নয়। তাদের কথা কি ঠিক?

যদি ঠিক না হয় তাহলে হাদিস ও সুন্নাহর আলোকে শবেবরাতের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে জানতে চাই।

উত্তর: শবেবরাত অর্থাৎ ১৫ শাবানের রজনীর ফজিলত সম্পর্কে সহিহ হাদিস রয়েছে। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, (তরজমা) আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে (শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। সহীহ ইবনে হিব্বান হাদিস: ৫৬৬৫

শবেবরাতের গুরুত্ব ও ফজিলত প্রমাণিত হওয়ার জন্য এই একটি হাদিসই যথেষ্ট। তবুও হাদিসের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে এ বিষয়ক আরও হাদিস উল্লেখ করা সম্ভব। নিম্নে আরেকটি হাদিস উল্লেখ করা হলো।

হজরত আ’লা ইবনুল হারিছ রাহ. থেকে বর্ণিত, উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা রা. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নামাজে দাঁড়ালেন এবং এত দীর্ঘ সেজদা করলেন যে, আমার আশঙ্কা হলো, তাঁর হয়তো ইন্তেকাল হয়ে গেছে। আমি তখন উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ করে বললেন, হে আয়েশা! অথবা বলেছেন, ও হুমায়রা! তোমার কি এই আশঙ্কা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার আশঙ্কা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না।

নবীজি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি জান এটা কোন্ রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি তখন বললেন, এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত। (শাবানের ১৪ তারিখের দিবাগত রাত)। আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে তাঁর বান্দাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি প্রদান করেন, ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই। শুআবুল ঈমান, বায়হাকী ৩/৩৮২,৩৮৩

উল্লিখিত হাদিস থেকে এ রাতের ফজিলত যেমন জানা যায় তদ্রুপ এ রাতের আমল কেমন হওয়া উচিত তাও বোঝা যায়। অর্থাৎ দীর্ঘ নামাজ পড়া, সেজদা দীর্ঘ হওয়া, দোয়া ও ইস্তেগফার করা ইত্যাদি।

মোটকথা, সহিহ হাদিস থাকা অবস্থায় শবেবরাতের ফজিলত ও গুরুত্বকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা এবং এ সংক্রান্ত সব রেওয়ায়েতকে মওযু বা যয়িফ বলা যে কত বড় অন্যায়, তা তো বলাই বাহুল্য।

উত্তর প্রদানে: ফতওয়া বিভাগ, মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া,পল্লবী,মিরপুর,ঢাকা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×