পঞ্চম তারাবিতে পড়া আয়াতের সারাংশ

  যুগান্তর ডেস্ক ১০ মে ২০১৯, ১৭:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

পঞ্চম তারাবিতে পড়া আয়াতের সারাংশ
প্রতীকী ছবি

আজ পঞ্চম তারাবিতে সুরা মায়েদার এগারতম রুকুর শেষার্ধ থেকে শুরু করে সুরার শেষ রুকু, ৮৩ থেকে ১২০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। সঙ্গে সুরা আনআমের পুরো অংশ এবং পরবর্তী সুরা আরাফের দ্বিতীয় রুকুর প্রথম আয়াত , ১ থেকে ১১ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে।

পারা হিসেবে আজ পড়া হবে সাত পারা থেকে শুরু করে আট পারার প্রথমার্ধ। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের মূলভাব তুলে ধরা হল।

৫. সূরা মায়েদাহ: ৮৩-১২০

এগারতম রুকুর শেষার্ধ, ৮৩ থেকে ৮৬ নম্বর আয়াতে আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা সত্যনিষ্ঠ, তাদের প্রশংসা করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, এসব জ্ঞানীরা আল্লাহর আয়াত শুনে অশ্রুবিগলিত হয়ে পড়ে। তারা বলে, হে আল্লাহ! এ মহাসত্যের সাক্ষী হিসেবে আমাদের তুমি কবুল করে নাও। এদের পুরস্কার হিসেবে জান্নাত দেয়া হবে বলে ওয়াদা করেছেন আল্লাহ তায়ালা। বারতম রুকু, ৮৭ থেকে ৯৩ নম্বর আয়াতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান দেয়া হয়েছে। কসম-শপথ ভাঙার কাফফারা, মদ-জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্যনির্ণায়ক তীর বা পাশা হারাম করা হয়েছে এ রুকুতে।

তেরতম রুকু, ৯৪ থেকে ১০০ নম্বর আয়াতে ইহরাম অবস্থায় শিকার নিষেধ করা হয়েছে। কেউ যদি ইহরাম অবস্থায় শিকার করে ফেলে তবে তার কাফফারা কী হবে, তাও বলা হয়েছে এ রুকুতে। চৌদ্দতম রুকু, ১০১ থেকে ১০৬ নম্বর আয়াতে অহেতুক প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বলা হয়েছে, অহেতুক প্রশ্ন তোমাদের জন্য অকল্যাণ ডেকে আনে। তাই এ থেকে বিরত থাক। আরো বলা হয়েছে, কারো মৃত্যুর সময় অসিয়ত করা জরুরি। আর অসিয়তের সময় যেন দুজন সাক্ষী রাখা হয়।

সাক্ষীদের থেকে যদি মিথ্যার আশঙ্কা থাকে অথবা অন্য কেউ যদি দাবি করে আমাকে ভিন্নরকম অসিয়ত করা হয়েছে- এমন নাজুক পরিস্থিতি মোকাবেলায় কসমের মাধ্যমে সমাধান করতে বলা হয়েছে। পনেরো ও ষোলতম তথা শেষ রুকু, ১০৯ থেকে ১২০ নম্বর আয়াতে কেয়ামতের দিন হজরত ঈসা (আ.) এবং তার মা হজরত মরিয়ম (আ.) এর সঙ্গে আল্লাহ তায়ালা কী কথা বলবেন, খ্রিস্টানদের সম্পর্কে কী জিজ্ঞেস করবেন- এ কথা বলে সুরার ইতি টানা হয়েছে।

৬. সুরা আনআম ১-১৬৫

২০ রুকু ও ১৬৫ আয়াত সম্বলিত এ সুরা অবতীর্ণ হয়েছে মক্কায়। আজকের তারাবিতে সম্পূর্ণ সুরাই পড়া হবে।

সুরার প্রথম রুকু থেকে চতুর্থ রুকু, ১ থেকে ৪১ নম্বর আয়াত পর্যন্ত কাফেরদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব, তাদের হঠকারি আচরণের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।

তাদেরকে বলা হয়েছে, তোমরা একটু চোখ মেলে দেখ ও ভাব। তোমরা যা বলছ ও করছ তা কতটুকু সঠিক?

আমিই তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি, তোমাদের জন্য দিয়েছি একটি নির্দিষ্ট হায়াত, আমি জানি তোমরা কী করছ। তারপরও তোমরা আমার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করছ?

পঞ্চম থেকে দশম রুকু, ৪২ থেকে ৯০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত আগের ধারাবাহিকতায় আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস ও ঈমানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

এখানেও কাফেরদের মনে জাগা ও মুখে তোলা অনেক প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, হে নবী! আপনি আমার বান্দাদের জিজ্ঞেস করুন, তারা যখন জলে-স্থলে বিপদে পড়ে, তখন কে তাদের উদ্ধার করে? কার কাছে তারা কাকুতি-মিনতি করে বলে, হে আল্লাহ আমাকে এবারের মত বাঁচিয়ে দাও। তাহলে আমি তোমার কৃতজ্ঞবান্দা ভালো মানুষ হয়ে জীবনযাপন করব। আমিই তাদের প্রার্থনা শুনি। তাদের বিপদ দূর করি। সুতরাং তোমরা আমার অনুগত বান্দা হয়ে সুন্দর-সুখী জীবনযাপন করো।

পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব ও আখেরাতের বিশালতা উল্লেখ করে মোমিন সম্প্রদায়কে নসিহত করা হয়েছে। এক পর্যায়ে ইবরাহিম(আ.) এর উদাহরণ দেয়া হয়েছে। কীভাবে তিনি ইমানের নিদর্শন পেলেন তা বলা হয়েছে বিস্তারিতভাবে। তার পিতার সঙ্গে যুক্তিতর্কের পুরো দৃশ্য তুলে ধরেছেন বড় নিখুঁতভাবে। এগারতম রুকু, ৯১ থেকে ৯৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব নাজিলের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতা আলোচনা করা হয়েছে।

যারা কিতাব নিয়ে অযথা তর্কবিতর্কে লিপ্ত তাদেরকে তাদের মত ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, আল্লাহর কিতাব নিয়ে যে মিথ্যা বলে তার চেয়ে বড় জালেম আর কেউ নেই। কেয়ামতের দিন সে ভোগ করবে অপমানজনক-লাঞ্চনাদায়ক শাস্তি।

বারতম রুকু, ৯৫ থেকে ১১০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নিজেই নিজের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি কীভাবে বিশ্বরাজ্য পরিচালনা করছেন এর কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে তার প্রতি ঈমান আনার উদাত্ত আহ্বান করা হয়েছে। এরপরও যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে না- তাদের শাস্তি কী হবে তাই বলা হয়েছে।

চৌদ্দ ও পনেরতম রুকু, ১১১ থেকে ১২৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, চোখের সামনে এতসব নিদর্শন দেখেও অনেকেই আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে না। তারা উল্টো হঠকারি আচরণ করবে। পরকালে এদের জীবন কত কষ্ট ও যন্ত্রণাদায়ক হবে তাও বলা হয়েছে।

ষোল ও সতেরতম রুকু, ১৩০ থেকে ১৪৪ নম্বর আয়াতে সাধারণ নসিহত করা হয়েছে, যাতে করে মানুষ আল্লাহ, কিতাব, নবী ও আখেরাতের প্রতি ইমান আনতে পারে।

এজন্য আল্লাহ তায়ালা গাছ, বাগান, ফল, ফুল, শস্য ও গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন কীভাবে সে উদাহরণ দিয়েছেন। কেউ যদি তার চারপাশের এসব সৃষ্টিরাজির প্রতি ভাবুক মন ও গভীর দৃষ্টি নিয়ে তাকায় তাহলেই সে বুঝতে পারবে এসব সৃষ্টির পেছনে যে স্রষ্টা রয়েছে, তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তার কাছেই আবার সবাইকে ফিরে যেতে হবে।

আঠার ও উনিশতম রুকু, ১৩০ থেকে ১৫৪ নম্বর আয়াতে উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য আল্লাহ তায়ালা কী খাদ্য হারাম করেছেন আর ইহুদীদের জন্য কী হারাম করেছিলেন তার একটা তুলনামূলক পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এরপর আল্লাহ তায়ালা বিকৃত ইহুদি ধর্মের সঠিক রূপ বলে দিয়েছেন। ওই ধর্মে আসলেই কী কী নিষিদ্ধ ছিল তা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। বিশতম রুকু, ১৫৫ থেকে ১৬৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী কিতাব যা হারাম করেছে, কোরআনও তাই হারাম করেছে। তাই কোরআনের দাওয়াত মেনে নেয়ার জন্য আর কোন অজুহাত নেই। এর যৌক্তিকতা তুলে ধরেই সুরা আনআম শেষ করা হয়েছে।

৭. সূরা আরাফ: ১-১১

সুরা আরাফ মক্কায় নাজিল হয়েছে। এর আয়াত সংখ্যা ২০৬ এবং রুকু ২৪টি। আজ পড়া হবে প্রথম রুকুর পুরোটা এবং দ্বিতীয় রুকুর প্রথম আয়াত।

প্রথম রুকু, ১ থেকে ১০ নম্বর আয়াতে কোরআন নাজিলের উদ্দেশ্য বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ কিতাব মানুষের হেদায়াতের জন্য নাজিল করা হয়েছে।

এর পর বলা হয়েছে, অতীতে যারাই আল্লাহর কিতাব অমান্য করেছেন, তাদেরকে বিভিন্ন আজাব দিয়ে দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। এখনও যারা আল্লাহর কিতাব মানবে না, তাদেরও একইভাবে শাস্তি দেয়া হবে।

দ্বিতীয় রুকুর প্রথম আয়াত, ১১ নম্বর আয়াতে মানব সৃষ্টির ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সুরা বাকারার পর এখানে আবার আদম (আ.) ও ইবলিসের ঘটনা আরেকটু বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : তারাবিতে পঠিত আয়াতসমূহের সারাংশ

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×