৭ম তারাবিতে পঠিত আয়াতসমূহের সারাংশ

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ১৭:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

  আল ফাতাহ মামুন

ছবি: সংগৃহীত

আজ ৭ম তারাবিতে সুরা আনফালের পঞ্চম রুকুর তৃতীয় আয়াত থেকে শুরু করে শেষ রুকু পর্যন্ত, ৪১ থেকে ৭৫ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। সঙ্গে সুরা তাওবার প্রথম থেকে ১২তম রুকুর তৃতীয় আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১০ম পারা। 

যুগান্তর অনলাইনের পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের মূলভাব তুলে ধরা হল। 

৮. সুরা আনফাল : ৪১-৭৫

পঞ্চম রুকুর তৃতীয় আয়াত থেকে রুকুর শেষ পর্যন্ত, ৪১ থেকে ৪৪ নম্বর আয়াতে গনিমত তথা যুদ্ধলদ্ব সম্পদের মালিক কারা তা বিস্তারিত বলা হয়েছে। আল্লাহ কীভাবে যুদ্ধের ময়দানে মোমিনদের সাহায্য করেন সে সম্পর্কেও বলা হয়েছে এ রুকুতে। 

ষষ্ঠ রুকু। ৪৫ থেকে ৪৮ নম্বর আয়াতে মোমিনবাহিনীকে যুদ্ধের ময়দানে সফলতার ম‚লমন্ত্র বলে দেওয়া হয়েছে। জিহাদের ময়দানে দৃঢ় থাক এবং বেশি করে আল্লাহরকে স্মরণ করো, তবেই তোমরা বিজয়ী হবে। 

সপ্তম রুকু। ৪৯ থেকে ৫৮ নম্বর আয়াতে জিহাদের সময় মোনাফিকদের ভূমিকা কেমন হয় তা বলা হয়েছে। 

অষ্টম রুকু। ৫৯ থেকে ৬৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ চলতে থাকবে। তবে তারা যদি সন্ধি করতে চায় মোমিন দলও সন্ধির পথেই হাঁটবে। 

নবম ও দশম রুকু। ৬৫ থেকে ৭৫ নম্বর আয়াতে যুদ্ধবন্দীদের বিষয়ে বিস্তারিত বিধান দেয়া হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে দুনিয়ার চেয়ে আখেরাতকেই বেশি প্রাধান্য দিতে হবে- এ হেদায়াতের পাশাপাশি মোহাজিরদের মর্যাদা বলে সুরা শেষ হয়েছে। 

৯. সুরা তাওবাহ : ১-৯৩

মদিনায় অবতীর্ণ সুরা তাওবার মোট আয়াত সংখ্যা ১২৯। রুকু ১৬টি। আজ পঠিত হবে ১ থেকে ৯৩ নম্বর আয়াত পর্যন্ত।

প্রথম দুই রুকু। ১ থেকে ১৬ নম্বর আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে কাফেরদের সঙ্গে মোমিনবাহিনীর করা চুক্তি ভেঙে ফেলার নির্দেশদান সম্পর্কে। যেহেতু কাফেররা তাদের চুক্তি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাই তাদের সঙ্গে চুক্তি ভেঙ্গে ফেলাই সময় ও প্রয়োজনের দাবি। তবে যেসব কাফেররা এখনো মোমিনদের সঙ্গে করা চুক্তি অটুট রেখেছে, তাদের সঙ্গে আগ বাড়িয়ে চুক্তি ভাঙতে নিষেধ করা হয়েছে, যত দিন না তাদের পক্ষ থেকে চুক্তিবহির্ভূত কোন আচরণ পাওয়া না যায়।
 
তৃতীয় ও চতুর্থ রুকু। ১৭ থেকে ২৯ নম্বর আয়াতে মোমিনদের সঙ্গে কাফেরদের বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক থাকতে পারে না- এ কথা জোরালভাবে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, আল্লাহর ওপর ইমান আনয়নকারী, মোহাজির ও মোজাহিদরা কখনোই ওই সব কাফেরদের সমান হতে পারে না, যারা শুধু মানুষকে ঠকিয়ে ধর্ম নিয়ে ব্যবসায় মেতে আছে। তাই এসব ভন্ড-অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। এমনকি তারা নিজ পরিবারের সদস্য হলেও। 

পঞ্চম রুকু। ৩০ থেকে ৩৭ নম্বর আয়াতে ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে যারা মানুষের মাঝে শিরক ও ভ্রান্ত আকিদার বিস্তার ছড়িয়েছে, বিশেষত ইহুদী ও খ্রিস্টান ধর্মীয় পন্ডিতরা, তাদের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। তারা কীভাবে মানুষদের ঠকাত তাও বলা হয়েছে। এরপর মানুষের গণনার জন্য যে মাসপদ্ধতির বিধান দেয়া হয়েছে তা সংক্ষেপে বলে রুকুর সমাপ্তি টানা হয়েছে। 

ষষ্ঠ রুকু। ৩৮ থেকে ৪২ নম্বর আয়াতে যারা আল্লাহর পথে সংগ্রামে বের হতে গড়িমসি করে তাদের তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে। এ হুমকিও দেয়া হয়েছে, তোমরা যদি আল্লাহর নবীকে সাহায্য না কর, তবে জেনে রেখ! নবীর জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। যেমন তিনি যথেষ্ট ছিলেন সাওর পর্বতসহ সব বিপদ-আপদে।

সপ্তম রুকু। ৪৩ থেকে ৫৯ নম্বর আয়াতে মোনফিকদের মুখোশ উম্মোচন করে দেয়া হয়েছে। যখনই জিহাদের ডাক আসে তারা কীভাবে না যাওয়ার ফন্দি-ফিকির করে, আবার আল্লাহর পথে বের হলেও পথে কত ধরণের প্রতিবন্ধকতা, পিছিয়ে আসার মত আচরণ করে সব চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে। 

অষ্টম রুকু। ৬০ থেকে ৬৬ নম্বর আয়াতে জাকাতের হক কারা তাদের পরিচয় দিয়েই আবার মোনাফিকদের প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তারা কীভাবে আল্লাহ ও আল্লাহর বিধান নিয়ে হাশি-তামাশা করে এ সম্পর্কে হাতে ধরে বলে দেয়া হয়েছ।
 
৯ ও ১০ম রুকু। ৬৭ থেকে ৮০ নম্বর আয়াতে মোনাফিকদের ইতিহাস পর্যালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যুগ যুগ ধরে মোনাফিক সম্প্রদায়ের আচরণ-বৈশিষ্ট এক ও অভিন্ন ছিল। তাই মোমিনবাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হল, কাফেরদের সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি যেন মোনাফিকদের সঙ্গেও সর্বাত্মক লড়াই করে। তবেই খাঁটি মোমিন ও মোনাফিকের মাঝে স্পষ্ট দেয়াল তৈরী হয়ে যাবে। 

১১ ও ১২তম রুকুর মাঝামাঝি, ৮১ থেকে ৯৩ নম্বর আয়াতে তাবুক যুদ্ধের সময় মোনাফিকরা নবির সঙ্গে কী আচরণ করেছে তা বলা হয়েছে। তারা যে শুধু নিজেরাই জিহাদ থেকে দূরে থেকেছে তাই নয় বরং অন্যদেরও দূরে রেখেছে। এ ধরণের মোনাফিকদের জানাজা পড়তে নবীজীকে নিষেধ করা হয়েছে। পাশাপাশি এও বলা হয়েছে, এক শ্রেণীর লোক সত্যিকার অর্থেই জিহাদে যেতে সক্ষম নয়, তাদের ব্যাপারে ভিন্ন হুকুম। তারা মোনাফিকদের মত নয়। বরং তাদের মর্যাদা আল্লাহর কাছে অন্য সবার মতই অনন্য।