৮ম তারাবিতে পঠিত আয়াতসমূহের সারাংশ

  আল ফাতাহ মামুন ১৩ মে ২০১৯, ১৭:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

তারাবির জামাত
ছবি: সংগৃহীত

আজ ৮ম তারাবিতে সুরা তাওবার ১২তম রুকুর চতুর্থ আয়াত থেকে শেষ পর্যন্ত পড়া হবে। সঙ্গে সুরা ইউনুসের পুরো অংশ এবং সুরা হুদের প্রথম রুকুর প্রথমার্ধ পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১১তম পারা।

যুগান্তর অনলাইনের পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের মূলবিষয়বস্ত তুলে ধরা হল।

৯. সুরা তাওবাহ : ৯৪-১২৯

১২তম রুকুর শেষাংশে, ৯৪ থেকে ৯৯ নম্বর আয়াতে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করা মোনাফিকরা কীভাবে রাসুল (সা.)কে ধোঁকা দেয়ার জন্য মিথ্যা কসম পর্যন্ত করবে সে কথা বলা হয়েছে। রাসুল যেন এদের এ ধরণের কথা বিশ্বাস না করেন, সে হেদায়াতও আল্লাহ তায়ালা করেছেন নবীজীকে। বেদুইন মোনাফিকদের অন্যতম বৈশিষ্ট হল, তারা আল্লাহর পথে দান করাকে জরিমানা মনে করে। তাই এদের থেকে সচেতন থাকতে হবে।

১৩তম রুকু। ১০০ থেকে ১১০ নম্বর আয়াতে মোনাফিকদের বিচিত্র আচরণ ও বৈশিষ্ট সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তাদের শাস্তি দুনিয়া ও আখেরাতে কত কঠিন সে কথাও বলা হয়েছে।

১৪ ও ১৫তম রুকু। ১১১ থেকে ১২২ নম্বর আয়াতে বিশ্বাসীদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই তিন সাহাবি সম্পর্কেও ক্ষমার ঘোষণা করা হয়েছে, যারা তাবুক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করার কারণে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন।

১৬তম তথা শেষ রুকু। ১২৩ থেকে ১২৯ নম্বর আয়াতে কাফেরদের ব্যাপারে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোরআনের কোন নতুন আয়াত নাজিল হলে কাফের ও মোনাফিকরা কী ধরণের মন্তব্য করে এবং নিজেদের মাঝে কী বলাবলি করে- তাও বলা হয়েছে। সুরা শেষ করা হয়েছে এই বলে যে, ‘হে নবী! এরপরও যদি সত্য অস্বীকারকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তাদের বলে দিন যে, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি। তিনিই মহা আরশের অধিপতি।’

১০. সুরা ইউনুস : ১-১০৯

সুরা ইউনুস। মক্কায় অবতীর্ণ। আয়াত ১০৯। রুকু সংখ্যা ১১। পবিত্র কোরআনের ১০ম সুরা এটি। আজকের তারাবিতে পূর্ণ সুরাই পঠিত হবে।

প্রথম রুকু। ১ থেকে ১০ নম্বর অয়াতে পবিত্র কোরআন নাজিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করে বিশ্বজগত সৃষ্টি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। যারা আল্লাহর নিদর্শন দেখা সত্বেও ইমান আনবে না তাদের জন্য কঠিন আজাব রয়েছে সে কথাও বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় রুকু। ১১ থেকে ২০ নম্বর আয়াতে সত্য অস্বীকারকারীরা পার্থিব জীবনে বিপদে পড়লে কীভাবে হন্ত-দন্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ধরণা দেয় সে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

পরের রুকু তথা তৃতীয় রুকুতে, ২১ থেকে ৩০ নম্বর আয়াতে বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার পর ওই সব অবিশ্বাসীরা কত স্বেচ্চাচারী হয়ে ওঠে সে কথা বলা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, একদিন এসব হঠকারি আচরণের বিচার হবেই হবে।

চতুর্থ রুকু। ৩১ থেকে ৪০ নম্বর আয়াতে এই ধরণের অবিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন করে তিনি নিজেই আবার উত্তর দিয়েছেন। যাতে করে অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের ঘুমন্ত বিবেক সহজেই জাগ্রত হতে পারে।

পঞ্চম ও ষষ্ঠ রুকু। ৪১ থেকে ৬০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এবার সরাসরি নবী (সা.)কে সম্বোধন করে বলছেন, এরপরও যদি তারা তোমার কাছে প্রেরিত কিতাবের অনুসরণ না করে তবে তোমার ওপর অর্পিত দায় থেকে তুমি মুক্তি পাবে। তারা দুনিয়ার জীবনে ভোগবিলাসে মত্ত থাকুক। আখেরাতের আদালতে তারা কঠিন হিসাবের সম্মুখীন হবে। সে দিন তারা বাাঁচার জন্য তাদের সব সম্পদ বিলিয়ে দিতে চাইবে, কিন্তু এতে কোন লাভ হবে না।

সপ্তম রুকু। ৬১ থেকে ৭০ নম্বর আয়াতে নবী (সা.)কে উদ্দেশ্য করে ইমানদারদের জন্য কিছু নসিহত করা হয়েছে। বলেছে, তারা যদি সত্যিকার অর্থেই আল্লাহভীরু হয়, তবে আখেরাতের আদালতে তাদের কোন ভয় নেই, চিন্তাও নেই।

অষ্টম থেকে দশম রুকু। ১০৩নং আয়াতে হজরত নূহ এবং হজরত মুসা (আ.) এর উদাহরণ টেনে বিশ্বাসী সম্প্রদায় ও অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের পরিণতি কী তা হাতে-কলমে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে।

১১তম তথা শেষ রুকু। ১০৪ থেকে ১০৯ নম্বর আয়াতে আবার মোমিনদের উদ্দ্যেশ্যে বিভিন্ন নসিহত করে সূরা শেষ করা হয়েছে। সর্বশেষ আয়াতের নসিহত হল এরকম- ‘হে নবী! তোমার ওপর যে বাণী ও বিধিবিধান নাজিল হয়েছে, তুমি তা অনুসরণ করো। আর আল্লাহ তাঁর ফায়সালা না করা পর্যন্ত সব বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করো। নিশ্চয়ই! আল্লাহ সর্বত্তোম বিচারক।

১১. সুরা হুদ : (১-৫৬)

দশ রুকু সম্বিলিত সুরা হুদ নাজিল হয়েছে মক্কা আল মোকাররমায়। এর আয়াত সংখ্যা মোট ১২৩টি। এটি কোরআনের ১১তম সুরা। আজ প্রথম রুকুর প্রথার্ধ তেলাওয়াত হবে।

প্রথম রুকুর প্রথমার্ধে, ১ থেকে ৫ নম্বর আয়াতে ভূমিকা স্বরুপ পবিত্র কোরআন নাজিলের উদ্দেশ্য কী তা বলা হয়েছে। যারা এ কোরআন অনুযায়ী নিজেদের জীবন পরিচালনা করবেন তাদের আখেরাত কেমন হবে- এ কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি সত্য অস্বীকারকারীদের মনের সব অবস্থা আল্লাহ জানেন এও বলা হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : তারাবিতে পঠিত আয়াতসমূহের সারাংশ

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×