৯ম তারাবিতে পঠিত আয়াসমূহের সারাংশ

  আল ফাতাহ মামুন ১৪ মে ২০১৯, ১৭:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

তারাবির জামাত
ছবি: সংগৃহীত

আজ ৯ম তারাবিতে সূরা হুদের প্রথম রুকুর শেষার্ধ থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত পড়া হবে। সঙ্গে সূরা ইউসুফের প্রথম রুকু থেকে সপ্তম রুকুর মাঝামাঝি পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে বারতম পারা। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের মূলবিষয়বস্ত তুলে ধরা হল।

১১. সূরা হুদ : ৬-১২৩

প্রথম রুকুর শেষার্ধে, ৬ থেকে ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, প্রতিটি সৃষ্টিজীবের রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর। আল্লাহর কাছেই সবাইকে ফিরে যেতে হবে। এখন যারা আল্লাহর বিধান নিয়ে হাসি-তামাশা করছে, আখেরাতে তাদের কঠিন আজাব ভোগ করতে হবে।

দ্বিতীয় রুকু। ৯ থেকে ২৪ নম্বর আয়াতে মোমিন ও কাফেরের আচরণগত পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। সুখে-দুঃখে বিপদে-আপদে মোমিন ও কাফেরের আচরণ কেমন হয়- তা উদাহরণসহ বলা হয়েছে এ রুকুতে।

তৃতীয় ও চতুর্থ রুকু। ২৫ থেকে ৪৯ নম্বর আয়াতে হজরত নূহ (আ.) এর আলোচনা করা হয়েছে। নূহ নবীর উম্মত কত হঠকারী ছিলো এবং তাদের সব ধরণের হঠকারীর জবাবে আল্লাহ কীভাবে বন্যা ও আজাব দিয়ে তাদের শাস্তি দিয়েছেন এসব কিছু বিস্তারিত এসেছে দুই রুকুতে।

পঞ্চম রুকু। ৫০ থেকে ৬০ নম্বর আয়াতে হজরত হূদ (আ.) এর আলোচনা করা হয়েছে। তিনি তার উম্মতকে দাওয়াত দিলে তারা তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে। এক পর্যায়ে এদেরকেও আল্লাহ তায়ালা কঠিন আজাব দিয়ে ধ্বংস করে দেন। তবে মোমিনদেরকে বাঁচিয়ে রাখেন দুনিয়া এবং আখেরাতের লাঞ্চনা থেকে।

ষষ্ঠ রুকু। ৬১ থেকে ৬৮ নম্বর আয়াতে হজরত সালেহ (আ.) এর উম্মতের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। তারাও ইমান আনার বদলে জুলুমের পথ বেছে নেয়। আল্লাহ তায়ালা নির্দশনস্বরুপ একটি উটনী পাঠিয়ে ছিলেন। সে উটনীকেও তারা হত্যা করে ফেলে। অবশেষে আল্লাহর আজাব এসে তাদেরকে ধ্বংসের অতল গহ্বরে ডুবিয়ে দেয়।

সপ্তম রুকু। ৬৯ থেকে ৮৩ নম্বর আয়াতে হজরত লূত (আ.) এর সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে। তারা অপরাধ করতে করতে আজাবের উপযুক্ত হয়ে পড়েছে। তাদের কু-কর্মের জন্য আল্লাহ তায়ালা যন্ত্রণাদায়ক আজাবের মাধ্যমে তাদেরকে পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে বিদায় করে দিয়েছেন।

অষ্টম রুকু। ৮৪ থেকে ৯৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহর নবী হজরত শোয়াইব (আ.) এর উম্মতের কথা বলা হয়েছে। তারাও নবীর কথা না মানার কারণে নূহ, হূদ, সালেহ এবং লূত (আ.) এর উম্মতের মত অভিশপ্ত হয়ে গেছে।

নবম ও দশম তথা শেষ রুকু। ৯৬ থেকে ১২৩ নম্বর আয়াতে হজরত মুসা (আ.) ও ফেরাউনের কথা সংক্ষেপে আলোচনা করে উম্মতে মুহাম্মদীর উদ্দেশ্যে অসিয়ত করা হয়েছে, তোমরাও যেন পূর্ববর্তীদের মত পাপ কাজ ও হঠকারি আচরণ করে আজাবের উপযুক্ত হয়ে না পড়। আল্লাহকে ভয় কর। তাঁর ওপর ভরসা রাখ। তাঁরই ইবাদত কর- এভাবেই সূরার ইতি টানা হয়েছে।

১২. সূরা ইউসুফ : ১-৫২

সূরা ইউসুফ। আয়াত ১১১ এবং রুকু ১২টি। অবতীর্ণ হয়েছে মক্কায়। আজ পড়া হবে প্রথম রুকু থেকে সপ্তম রুকুর মাঝামাঝি পর্যন্ত।

প্রথম রুকু। ১ থেকে ৬ নম্বর আয়াত। ভূমিকাস্বরপ পবিত্র কোরআনের মহাত্ম্য সম্পর্কে অল্প কিছু বলেই মূল আলোচনায় প্রবেশ করা হয়েছে। হজরত ইউসুফ (আ.) এক আশ্চর্য স্বপ্ন দেখে তার পিতাকে স্বপ্নের কথা বলেন। তারা পিতা স্বপ্নের কথা কাউকে বলতে নিষেধ করেন এবং তাকে নবুওয়তের সুসংবাদ দেন।

দ্বিতীয় রুকু। ৭ থেকে ২০ নম্বর আয়াত। হজরত ইউসুফ (আ.) এর বৈমাত্রেয় ১০ ভাই ষড়যন্ত করে তাকে ইয়াকুব নবীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যায়। অনেক দূরে গিয়ে ইউসুফকে একটি কুয়োয় ফেলে দেয়া হয়। সে কুয়ো থেকে একটি কাফেলা ইউসুফকে তুলে নিয়ে বিক্রয় করে দেয়।

তৃতীয় রুকু। ২১থেকে ২৯ নম্বর আয়াত। মিশরের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ইউসুফকে কিনে নেয়। সে তার স্ত্রীকে এর লালন-পালনের দায়িত্ব দেয়। পরবর্তীতে এ মহিলা তার কামনা-বাসনায় অন্ধ হয়ে ইউসুফকে কু-কর্মের প্রতি আহ্বান করে। বিষয়টি পরবর্তীতে ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে প্রমাণিত হয় এবং সে তার স্ত্রীকে প্রবল ভৎসনা করে।

চতুর্থ রুকু। ৩০ থেকে ৪২ নম্বর আয়াত। শহরের মহিলারা ওই মহিলার বিষয়ে কানাঘুষা করতে থাকে। এ অবস্থা দেখে মহিলা একটি ভোজ সভার আয়োজন করে। এতে ইউসুফকে দেখে সব মহিলা তাদের হাত কেটে ফেলে। নারীদের আক্রমন থেকে বাঁচার জন্য ইউসুফ (আ.) কারাগারকে ভালো মনে করলে আল্লাহ তাকে কারাগারে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

পঞ্চম রুকু। ৩৪ থেকে ৪২ নম্বর আয়াত। ইউসুফ (আ.) কারাগারে গিয়ে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ করতে থাকেন। মানুষের স্বপ্নের ব্যাখ্যাও করেন মাঝে মাঝে। দুই রাজকর্মচারীর স্বপ্নের ব্যাখা করেন তিনি। যা অল্প সময়ে অক্ষরে অক্ষরে সত্যে পরিণত হয়।

ষষ্ঠ রুকু এবং সপ্তম রুকুর প্রথমার্ধ, ৪৩ থেকে ৫২ নম্বর আয়াত। দেশের রাজা এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে। যার ব্যখা ইউসুফ ছাড়া আর কেউ দিতে পারেনি। পরবর্তীতে রাজার নিদের্শে ইউসুফ জেলখানা থেকে মুক্তির নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু তিনি বললেন, যারা আমাকে জেলখানায় পাঠিয়েছে তাদের খোঁজ করে জিজ্ঞেস করা হোক কী অপরাধে ইউসুফকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : তারাবিতে পঠিত আয়াতসমূহের সারাংশ

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×