১০ম তারাবিতে পঠিত আয়াতসমূহের সারাংশ

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯, ১৭:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

  আল ফাতাহ মামুন

ছবি: সংগৃহীত

আজ ১০ম তারাবিতে সূরা ইউসুফের সপ্তম রুকুর মাঝামাঝি থেকে শেষ রুকু পর্যন্ত পড়া হবে। সঙ্গে সূরা রা’দ এবং সূরা ইবরাহিমও পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৩তম পারা। 

পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের মূলবিষয়বস্ত তুলে ধরা হল। 

১২. সূরা ইউসুফ : ৫৩-১১১

সপ্তম রুকুর শেষার্ধ, ৫৩ থেকে ৫৭ নম্বর আয়াত।  ইউসুফ (আ.) নির্দোষ প্রমাণীত হয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান। শুধু তাই নয়, মিশরের ধনভান্ডারের রক্ষক তথা অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বেও অধিষ্ঠিত হন। 

অষ্টম রুকু, ৫৮ থেকে ৬৮ নম্বর আয়াত।  রাজার ওই স্বপ্ন অনুযায়ী মিশরে অল্প ক’বছরে দুর্র্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ে। অন্যান্যদের মত তার বৈমাত্রেয় ভাইয়েরাও মিশরে আসেন খাদ্য-শস্য নেয়ার জন্য। ইউসুফ নবী ভাইদের চিনতে পারেন। কিন্তু ভাইয়েরা তাকে চিনতে পারেনি। ভাইদের পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য দিয়ে এই বলে সতর্ক করা হয়েছে যে, পরবর্তী সময়ে তাদের আরেক ভাই বিন ইয়ামিনকে যেন সঙ্গে আনে। তা না হলে তাদেরকে আর কোন শস্য দেয়া হবে না। ভাইয়েরা তাদের পিতা ইয়াকুব (আ.)কে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে, শপথ করে বিন ইয়ামিনকে সঙ্গে করে মিশরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেছে। 

নবম রুকু, ৬৯ থেকে ৭৯ নম্বর আয়াত।  খাদ্য-শস্যসহ ফেরার পথে কৌশলে বিন ইয়ামিনকে ইউসুফ (আ.) এর কাছে রেখে দেয়া হয়। অন্য ভাইয়েরা অগত্যা বিন ইয়ামিনকে ছাড়াই পিতার সামনে দাঁড়ায়। 

১০ম ও ১১তম রুকু, ৮০ থেকে ১০৪ নম্বর আয়াত।  বিন ইয়ামিনকে না পেয়ে ইয়াকুব নবী আবার তাদেরকে মিশর যেতে বলেন। এবার ইউসুফ নবী ভাইদের পরিচয় দেন এবং বলেন, আমিই সেই ইউসুফ, যাকে তোমরা হত্যা করতে চেয়েছিলে। আজ তোমাদের প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই। যাও ফিরে যাও এবং আব্বা-আম্মাসহ বাকী সবাইকে নিয়ে আসো। 
সবাই এসে ইউসুফের উদ্দেশ্যে বিনীত হয়ে সেজদাবনত হয়। 

১২তম তথা শেষ রুকু, ১০৫ থেকে ১১১ নম্বর আয়াত। মোমিনদের উদ্দেশ্যে নসিহতের মাধ্যমে সূরার সমাপ্তি টানা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘জেনে রাখ! এই রাসুলদের জীবনকাহিনীতেই অন্তদৃষ্টিদের জন্য রয়েছে অগণিত শিক্ষা।

১৩. সূরা রা’দ : ১-৪৩

ছয় রুকু বিশিষ্ট সূরা রা’দ নাজিল হয়েছে রাসুল (সা.) এর মাদানী জীবনে। এর আয়াত সংখ্যা ৪৩। আজ পুরো সূরা পঠিত হবে সালাতুত তারাবিতে। 

প্রথম রুকু।  ১ থেকে ৭ নম্বর আয়াতে ভূমিকা স্বরুপ আল্লাহর সৃষ্টি বৈচিত্রের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। সৃষ্টিরাজিতে ছড়িয়ে থাকা এতসব নিদর্শন প্রত্যক্ষ করা সত্তেও যারা আল্লাহর কালাম অবিশ্বাস করে তাদের জন্য কঠোর আজাবের ব্যবস্থা রয়েছে। নবীর দায়িত্ব শুধু তাবলিগ করা। যেমন পূর্ববতী নবীরাও করে গেছেন। 

দ্বিতীয় রুকু।  ৮ থেকে ১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহর জ্ঞান বৈচিত্রের কথা বলা হয়েছে। তারপর প্রশ্ন করা হয়েছে, যারা অসীম জ্ঞানের অধিকারী আল্লাহকে মানে আর যারা মানে না তারা কি সমান হতে পারে? যারা আল্লাহকে মানে না তাদের জন্য কতই না নিকৃষ্ট পরিণাম অপেক্ষা করছে! 

তৃতীয় রুকু।  ১৯ থেকে ২৬ নম্বর আয়াতে যারা আল্লাহ এবং তার কালামে বিশ্বাস করে তাদের বৈশিষ্ট্য কী তা বলে দেয়া হয়েছে।  আবার যারা এর বিপরীত বিশ্বাস পোষণ করে তাদের বৈশিষ্ট্য কী তাও বলা হয়েছে। 

চতুর্থ ও পঞ্চম রুকু।  ২৭ থেকে ৩৭ নম্বর আয়াতে নবীকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে যে, হে নবী! তোমার পূর্বেও এমন অনেক জাতি গত হয়েছে যারা সত্যের আহ্বানে সাড়া দেয়ার বদলে গোয়ার্তুমির আশ্রয় নিয়েছে। এখন যারা সত্য অস্বীকার করছে তাদের যত অলৌকিক কিছুই দেখানো হোক না কেন- তারা ইমান আনবে না।  
পক্ষান্তরে যারা ইমানের রঙে নিজেদের রাঙিয়েছে আল্লাহ তাদের পরকালকে অপরুপ নেয়ামতরাজি দিয়ে সাজিয়ে রেখেছেন। 

ষষ্ঠ তথা শেষ রুকু।  ৩৮ থেকে ৪৩ নম্বর আয়াতে কাফেরদের থেকে উত্থাপিত দাবির জবাব দেয়া হয়েছে। কাফেররা বিভিন্ন অলৌকিক নিদর্শন দাবি করছিলো। আল্লাহ বলছেন, অলৌকিক নিদর্শন শুধু আল্লাহর এখতিয়ারধীন। কোন নবী বা অলির ইচ্ছায় অলৌকিক কিছু হয় না। আল্লাহ যখন তার আজাব বাস্তবায়ন করবে তখন কাফেরদের আর পালানোর কোন জায়গা থাকবে না। 

১৪. সূরা ইবরাহিম : (১-৫২)

সূরা ইবরাহিম। নাজিল হয়েছে মক্কায়। আয়াত সংখ্যা ৫২, রুকু সাতটি। পুরো সূরা তেলাওয়াতের মাধ্যমে শেষ হবে আজকের তারাবি। 

প্রথম থেকে তৃতীয় রুকু।  ১ থেকে ২১ নম্বর আয়াতে কোরআনের মাহাত্ম্য সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনার মাধ্যমে ভূমিকা পর্ব শেষ করে মূল কথায় প্রবেশ করা হয়েছে। পূর্ববর্তী নবীদের দাওয়াতী কৌশল আলোচনা করতে গিয়ে মূসা (আ.) সম্পর্কে অল্প কথায় আলোচনা করে অন্যান্য রাসুলদের বিষয়ে বলা হয়েছে। তবে মূসা (আ.) ছাড়া আর কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। 

চতুর্থ রুকু।  ২২ থেকে ২৭ নম্বর আয়াতে কেয়ামতের দিন ফায়সালার পর জাহান্নামে শয়তান ও পরস্পরের সঙ্গে কী ধরণের বাক-বিতন্ডা, তর্ক-বিতর্ক হবে তা আলোচনা করা হয়েছে।

পঞ্চম রুকু।  ২৮ থেকে ৩৪ নম্বর আয়াতে পাপী সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, ওই কঠিন আজাব আসার আগেই পাপ থেকে ফিরে এসে ইবাদতময় জীবন গঠন কর। তবেই আল্লাহর আজাব থেকে মুক্তি মিলবে। 

ষষ্ঠ রুকু।  ৩৫ থেকে ৪১ নম্বর আয়াতে হজরত ইবরাহিম (আ.) এর আলোচনা করা হয়েছে। তিনি তার প্রভুর কাছে একান্তে কিছু প্রার্থনা করেছিলেন, যা পরবর্তীতে কবুল হয়েছে সেসব এখানে তুলে দেওয়া হয়েছে। 

সপ্তম তথা শেষ রুকু।  ৪২ থেকে ৫২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং ঔদ্ধত্তপূর্ণ কথা বলে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বে-খবর নন।  আল্লাহর দেয়া অবকাশ শেষ হলেই তাদেরকে পাকড়াও করা হবে। সে সময় আসা পর্যন্ত এ কোরআন দিয়ে মানুষকে সতর্ক করতে থাকা নবীর জন্য কর্তব্য।