রমজানে নারীদের ইবাদতের সুযোগ দিতে হবে

  মাহমুদা আক্তার নীনা ১৬ মে ২০১৯, ১৬:২২ | অনলাইন সংস্করণ

রমজানে নারীদের ইবাদতের সুযোগ দিতে হবে
ছবি: সংগৃহীত

নারী-পুরুষ উভয়ই আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি। প্রিয় মানুষকে নিজ হাতে গড়েছেন তিনি। রমজান বড়ই পুণ্যবান মাস। এ মাসে নারীরা ইবাদতের ক্ষেত্রে অনেক সময় অবহেলিত হন।

রমজান ইবাদতের জন্য শ্রেষ্ঠ মাস হলেও নারীরা অনেক ক্ষেত্রে হন বঞ্চিত। সাংসারিক কাজকর্ম তাদের এতই ব্যস্ত করে দেয় যে, ইবাদতের তেমন সুযোগ তারা পান না।

আমাদের সমাজে কে কত রকমভাবে ইফতারির আয়োজন করবেন তার একটা প্রতিযোগিতা চলে নিত্যনতুন খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে, যা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য ও ব্যয়বহুল। এ কাজের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব পড়ে পরিবারের গৃহিণীর ওপর। রমজানে নারীদের মননে ঘুরপাক খায় খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের কথা।

সৌভাগ্যবান নারীদের সাহায্যকারী থাকলেও নিজেদের নিবিড় তদারকির প্রয়োজন হয়। সময়ে স্বামীদের আবদার রক্ষায় নিজ হাতে করতে হয় রন্ধন কর্মটি। ইফতার, রাতের খাবার এবং সেহরিতে খাদ্যের যেন ভিন্নতা থাকে সে দিকেও খেয়াল রাখতে হয়। এ ছাড়া ঈদ উৎসবের জন্যও নারীদের বিভিন্নভাবে প্রস্তুতি নিতে হয় রমজানে। কেনাকাটা ইত্যাদিতে সময় ব্যয় করার কাজে। অথচ নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য মাসটি পুণ্য অর্জনের।

পেশাজীবী নারীদের অবস্থা তো আরও করুন। সারা দিন বাইরে পরিশ্রমের পর বাড়িতে ঢুকে কোমর বেঁধে লেগে যেতে হয় গৃহ ও সন্তান পালন কর্মে। আল্লাহপাককে একান্ত মনে ডাকা, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ইত্যাদিতে মনোসংযোগ দিতে অক্ষম হয়ে যায়। আত্মার খাদ্যদানে তারা বিফল হয়। এভাবে কলুষিত আত্মার প্রভাব পড়ে পরিবারে। এভাবে একদিন পরিবারগুলো অশান্তির আখড়ায় পরিণত হয়।

রমজানে তারাবির নামাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারাবির নামাজে কোরআন খতম করা হয় মসজিদে। প্রতিটা মুসলমানের জন্য জীবনে একবার পবিত্র কোরআন খতম জরুরি। অনেকেই কোরআন পড়তে পারে না, তাদের জন্য ইমামের তিলাওয়াত শুনলেও চলবে। এ ক্ষেত্রেও নারীরা বঞ্চিত হন। তাদের মসজিদে যাওয়া নিয়ে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়। অথচ বাইরের কাজকর্ম এমনকি বাজারঘাট করার ব্যাপারে তাদের এগিয়ে দেয়া হয়।

আমাদের দেশে বেশিরভাগ মসজিদে নারীদের নামাজ পড়ার সুব্যবস্থা নেই। অথচ বিশ্বের মুসলিম দেশসহ পাশ্চাত্য দেশগুলোয় এর সুব্যবস্থা রয়েছে। তবে আশার কথা বর্তমানে কিছু বহুতল মসজিদে খতম তারাবির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা নারীদের হয়েছে।

বোখারি শরিফে রয়েছে যে ব্যক্তি ঈমান ও ইখলাসের সঙ্গে কিয়াম করবে তার আগের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। হজরত নববী (রা.) মুসলিম শরিফের শরাহে লিখেছেন, কিয়াম শব্দটি দিয়ে মূলত সালাতুত তারাবিহকে বোঝানো হয়েছে। তাই গোনাহ থেকে মুক্তি পেতে নারীরা তার পরিবারকে শান্তির নিবাস বানাতে পারবে কিয়ামুল লাইল কায়েম করে।

লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আল্লাহপাক সুরা কদরে জানিয়েছেন, এটি হাজার মাস থেকে উত্তম।

লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য রমজানের শেষ দশ দিন রাসুল সাল্লালাহু আলাইহিহ ওয়াসাল্লাম ইতেকাফ করতেন এবং তার স্ত্রীরা তার জীবদ্দশায় এবং তার ওফাতের পরও করেছেন। ইতেকাফ করতে গিয়ে নারীদের বিরাট সমস্যার পড়তে হয়। অথচ যখন তাদের কোনো অফিসের কাজ কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য গৃহের বাইরে থাকতে হয়, তখন পরিবারের লোকজন তা আনন্দচিত্তে মেনে নেয়। গৃহ পরিচালনা নিয়ে তখন তারা শঙ্কিত হয় না। আমাদের উচিত এ অবস্থা থেকে সরে এসে নারীদের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের ইবাদত-বন্দেগি করার ব্যাপারে সহযোগিতা করা।

পুরুষের মর্যাদা হলো সে দাতা- নারীর অহঙ্কার হলো সে গ্রহীতা। এ ক্ষেত্রে বোঝা যাচ্ছে দুজনেই সমান মর্যাদার। স্ত্রী হওয়া, মা হওয়া, মেয়েদের স্বভাব, দাসী হওয়া নয়। ভালোবাসার অংশ মেয়েদের স্বভাবে বেশি আছে- তা না হলে সন্তান মানুষ হতো না, সংসার টিকত না। স্নেহ আছে বলেই মা সন্তানের সেবা করে, প্রেম আছে বলেই স্ত্রী স্বামীর সেবা করে। এই রমজানে আমরা যেন নারীদের প্রতি বেখেয়ালি না হই। তাদেরও আছে সিয়াম ও তারাবি। পুরুষেরা নারীদের ইবাদতের বিষয়ে যেন সহযোগিতা করি।

আল্লাহ সবাইকে সহি বুঝ দান করুন।

ঘটনাপ্রবাহ : রমজান ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×