১২তম তারাবিতে পঠিত আয়াতের সারাংশ

  আল ফাতাহ মামুন ১৭ মে ২০১৯, ১৬:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

দিল্লি জামে মসজিদে তারাবির জামাত। ছবি: সংগৃহীত
দিল্লি জামে মসজিদে তারাবির জামাত। ছবি: সংগৃহীত

আজ ১৩তম তারাবিতে সূরা বনি ইসরাইলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এবং সূরা কাহাফের শুরু থেকে ১০ম রুকুর মাঝামাঝি পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ১৫তম পারা।

পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের মূলবিষয়বস্তু তুলে ধরা হল।

১৭. সূরা বনি ইসরাইল : ১-১১১

১১১ আয়াত সংবলিত সূরা বনি ইসরাইল নাজিল হয়েছে পবিত্র মক্কা নগরীতে। ১২ রুকু বিশিষ্ট এ সূরার পুরো অংশই পঠিত হবে আজ।

প্রথম রুকু, ১ থেকে ১০ নম্বর আয়াত। সূরা শুরু হয়েছে ইসরা তথা মেরাজের বর্ণনা দিয়ে। সংক্ষেপে মেরাজের কথা বলেই বনি ইসরাইলের আলোচনা এবং হজরত মুসা (আ.) এর প্রসঙ্গ ধরে আলোচনা এগিয়ে নেয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় রুকু, ১১ থেকে ২২ নম্বর আয়াত। প্রকৃতিগতভাবে মানুষের মাঝে যেসব খারাপ দোষ লুকিয়ে আছে তার বর্ণনা দিয়ে মানুষকে সৎগুনে গুনান্বিত হওয়ার পরার্মশ দেয়া হয়েছে। কেন মানুষ সৎ ও ভাল হবে তার যৌক্তিকতাও তুলে ধরেছেন আল্লাহ তায়ালা।

তৃতীয় ও চতুর্থ রুকু। ২৩ থেকে ৪০ নম্বর আয়াতে মোমিন মুসলমানের জন্য ব্যক্তিগত ও সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। কিছু অর্থনৈতিক নির্দেশনাও আছে।

পঞ্চম ও ষষ্ঠ রুকু। ৪১ থেকে ৬০ নম্বর আয়াতে পবিত্র কোরআনের মাহাত্ম্য বর্ণনার পর বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী উভয় ধরণের বান্দাকে উদ্দেশ্য করে আলাদা আলাদা নসিহত করা হয়েছে। তবে অবিশ্বাসী বান্দার উদ্দেশ্যে পরকাল কেন্দ্রীক নসিহত করা হয়েছে বেশি।

সপ্তম রুকু। ৬১ থেকে ৭০ নম্বর আয়াতে হজরত আদম এবং ইবলিসের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। রুকুর শেষের দিকে আল্লাহর নেয়ামত এবং আজাব দুটো বিষয়ই বান্দাকে সংক্ষেপে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে।

অষ্টম রুকু। ৭১ থেকে ৭৬ নম্বর আয়াতে কেয়ামতের দিন আমলনামা যাদের ডান হাতে দেয়া হবে তাদের আনন্দের সীমা থাকবে না- একথা বলা হয়েছে। এরপর রাসুল (সা.)কে বিশেষ কিছু নসিহত করা হয়েছে।

নবম রুকু। ৭৮ থেকে ৮৪ নম্বর আয়াতেও নবী (সা.) কে আগের ধারাবাহিকতায় নসিহত করা হয়েছে। তবে এ নসিহতে উম্মতও শামিল রয়েছে।

১০ম ও ১১তম রুকু। ৮৫ থেকে ১০০ নম্বর আয়াতে আহলে কিতাব এবং অবিশ্বাসীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের যৌক্তিক ও মনোমুগ্ধকর জবাব দেয়া হয়েছে। যা অনেককেই বিশ্বাসী বান্দায় পরিণত করবে মূহুর্তের মধ্যেই।

১১তম তথা শেষ রুকু। ১০১ থেকে ১১১ নম্বর আয়াতে হজরত মুসা-ফেরাউন ও বনি ইসরাইলের আলোচনা করে উম্মতে মুহাম্মাদীকে গুরুত্বপূর্ণ নসিহতের মাধ্যমে সূরা শেষ করা হয়েছে।

১৮. সূরা কাহাফ : ১-৭৪

মক্কায় অবতীর্ণ সূরা কাহাফের মোট আয়াত সংখ্যা ১১০। রুকু সংখ্যা ১২। আজ পঠিত হবে দশম রুকুর মাঝামাঝি পর্যন্ত।

প্রথম থেকে চতুর্থ রুকু পর্যন্ত, ১ থেকে ৩১ নম্বর আয়াতে কোরআনের মাহাত্ম্য এবং মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আরো আলোচনা হয়েছে যারা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করে তাদের ভয়াবহতা সম্পর্কে। আসহাবে রকিম এবং আসহাবে কাহাফ সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে বিস্তারিতভাবে।

পঞ্চম রুকু। ৩২ থেকে ৪৪ নম্বর আয়াতে দুই ব্যক্তির উপমা দিয়ে আত্মঅহং ও গর্বের পরিণাম কী তা বোঝানো হয়েছে।

ষষ্ঠ রুকু। ৪৫ থেকে ৪৯ নম্বর আয়াতে দুনিয়া আখেরাতের প্রকৃতি ও বাস্তব অবস্থা উদাহরণের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে। কেয়ামতের দিনের অবস্থা কী তাও বলা হয়েছে সংক্ষেপে।

সপ্তম রুকু। ৫০ থেকে ৫৩ নম্বর আয়াতে হজরত আদম (আ.) এবং ইবলিসের ঘটনা আবার বর্ণনা করা হয়েছে অনেকটা সংক্ষিপ্ত আকারেই।

অষ্টম রুকু। ৫৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ কোরআনে এতসব উপমা দেন শুধু মানুষকে বোঝানোর জন্যই। এরপরও যারা আল্লাহর প্রতি অনুগত ও কোরআনময় জীবনযাপন না করবে তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক আজাবের ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে।

৯ম ও ১০ম রুকুর মাঝামাঝি, ৬০ থেকে ৭৪ নম্বর আয়াতে হজরত মুসা এবং খিজির (আ.) এর ঘটনা বিস্তারিত আলেচানা করা হয়েছে। সামনের দিকে এ ঘটনা শেষ হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : তারাবিতে পঠিত আয়াতসমূহের সারাংশ

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×