আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর রোজা ও ঈদের স্মৃতি

  তানজিল আমির ২৯ মে ২০১৯, ১৩:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। ছবি: সংগৃহীত

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও পাপ মোচনের মাস পবিত্র রমজান। মুসলমানদের প্রশিক্ষণের মাস রমজান। সিয়াম সাধনার পাশাপাশি সেহরি-ইফতারসহ বিভিন্ন আমলের মধ্য দিয়ে এ মাসটি অতিবাহিত করেন মুসলমানরা।

রমজানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যুগান্তর অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের অন্যতম ইসলামিক ব্যক্তিত্ব দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী মহাপরিচালক আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী।

জাকাত বিষয়ে সুচিন্তিত মতামত ছাড়াও বিদগ্ধ মুহাদ্দিস ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব জানিয়েছেন তার ছোটবেলার রোজার কথা। রমজানের শেষ সময়ে বরেণ্য আলেমে দ্বীন আল্লামা বাবুনগরীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- তানজিল আমির

যুগান্তর: আপনার ছোটবেলার রোজার স্মৃতি জানতে চাই। রমজানের কোনো ঘটনা কি এখনও মনে পড়ে?

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী: ছোটবেলার সময়টা আমার নানা ও বাবার সান্নিধ্যে কেটেছে। রমজানের স্মৃতি বলতে ছোটবেলায় নানার সঙ্গে কাটানো সময়গুলোর কথা মনে পড়ে। আমার নানাজান আল্লামা হারুন বাবুনগরী (রহ.) প্রতি বছর ইতেকাফ করতেন। নানার সঙ্গে আমিও মসজিদে ইতেকাফে থাকতাম। ভোররাতে জিকিরের সময় আমাকে নানা তার কোলে রাখতেন। আমাকে কোলে রেখে নানা তাহাজ্জুদের সময় জিকিরে বসতেন। সেই সময় বয়স কত হবে? বড়জোর ৮-৯ বছর। একজন বুজুর্গের জিকিরের সময় তার কোলে থাকার বিষয়টি এখন উপলদ্ধি করি।

ছোটবেলার আরেকটি স্মৃতি মনে পড়ে, যখন আমি হিফজ শেষ করি, তখন এক বৈঠকে পুরো কোরআন শরিফ আমি শুনিয়েছি। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর আমার নানা-বাবা আমার পেছনে তারাবির নামাজ পড়েছেন। এ স্মৃতিগুলো এখনও মনে পড়ে।

যুগান্তর: রমজান মাসে বেশিরভাগ মুসলমানই জাকাত আদায় করে থাকেন, কিন্তু জাকাতের কারণে দারিদ্র্যতা বিমোচনের কথা থাকলেও সেই অর্থে তা পরিলক্ষিত হচ্ছে না- এর কারণ কী হতে পারে?

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী: নামাজের মতোই জাকাত একটি ফরজ আমল। নামাজ শরীরের হক আর জাকাত মালের হক। বাংলাদেশে যে পরিমাণ মানুষের ওপর জাকাত ফরজ হয়, সে হিসাবে সবাই ঠিকমতো জাকাত আদায় করেন না। আর যারাও জাকাত দেন, একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে দিয়ে দেন। পুরোপুরি সম্পদের হিসাব করে ধনীরা জাকাত দিচ্ছেন না। এটি একটি বড় কারণ।

রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশ তেমন ধনী রাষ্ট্র নয়। যাদের ওপর জাকাত ফরজ হয়, সবাই যদি ঠিকমতো তাদের জাকাতগুলো হিসাব করে তা সঠিক খাতে ব্যয় করেন, তা হলে দেশে দারিদ্র্যতার হার অনেকটাই কমে যেত। অভাব-অনটন এখনকার মতো থাকত না। বাংলাদেশ নিজের সম্পদেই স্বাবলম্বী থাকত।

কিন্তু এখন তো আমরা জাকাত আদায় করছি না, আর যারাও দিচ্ছি, পুরো সম্পদের হিসাব না করে কিছুটা দিয়ে দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছি। এ জন্য জাকাত আদায় করতে হবে হিসাব করে। পুরো সম্পদের তালিকা করে হিসাব বের করতে হবে।

যুগান্তর: ইসলামী রাষ্ট্রে তো সরকারিভাবে জাকাত আদায়ের নিয়ম, কিন্তু আমাদের দেশে সে সুযোগ নেই- এ ক্ষেত্রে করণীয় কী?

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী: এ ক্ষেত্রে আলেম-ইমামরা জনসচেতনতামূলক কাজ করতে পারেন। আমাদের ইমাম-আলেমরা সাধ্যমতো সে চেষ্টা করছেনও। তবে তাদের তো চাপ প্রয়োগের কোনো ক্ষমতা নেই। এ জন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে একটা সমন্বয় দরকার। সরকারি জাকাত খাতকে আরও বেগবান করতে হবে। আর ব্যক্তি উদ্যোগে যেসব জাকাত দেয়া হচ্ছে, তাতে সমন্বয় সাধন করা উচিত। প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেয়া যায়। প্রচলিত ধারায় শাড়ি-লুঙ্গি দেয়ার পাশাপাশি তালিকাভিত্তিক ব্যক্তিদের হাঁস-মুরগি-ছাগল বা অন্য কিছু কিনে দেয়া যায় অথবা নগদ টাকা দেয়া যায়, যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।

সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

যুগান্তর: ছোটবেলার ঈদের কোনো স্মৃতি মনে পড়ে?

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী: ছোটবেলার একটা স্মৃতি খুব মনে পড়ে। আমার বাবা যে ঈদগাহ ময়দানে নামাজ পড়াতেন, সেখানে একবার আমি মুসল্লিদের সামনে রমজান ও ঈদ বিষয়ে বয়ান করেছিলাম। ওই বয়ানে ঈদের তাৎপর্য তুলে ধরতে চেয়েছি। পরে আমার বাবা ঘরে এসে আম্মাকে বলেছিলেন, আমার জুনায়েদ আজকে অনেক সুন্দর কথা বলেছে। আব্বা-আম্মা উভয়ে তখন অনেক খুশি হয়েছিলেন।

যুগান্তর: রমজান মাসে কোন আমলগুলো বেশি করা উচিত?

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী: রমজান মাস কোরআন নাজিলের মাস। তাই বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা উচিত। পাশাপাশি বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার, জিকির, তাহাজ্জুদ ও সালাতুত তাসবিহ আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। সামর্থ্যানুযায়ী দান-সদকাও করা উচিত। এগুলোই রমজানের মূল আমল।

যুগান্তর: ঈদের খুশি আমরা কীভাবে উদযাপন করব?

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী: ঈদ হলো- আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলিম উম্মাহকে খুশি উদযাপনে দেয়া বিশেষ উপহার। ঈদের দিনে আমরা মা-বাবা, ভাইবোন ও আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নিব। ঈদ উদযাপনের ক্ষেত্রে ইসলামে কোনো বাধানিষেধ নেই। তবে উদযাপনটা হতে হবে শরিয়তের সীমারেখার ভেতরে। কিন্তু ইদানীং ঈদের দিনগুলোতে দেখা যায়, আনন্দের নামে তরুণ-তরুণীরা এমনকি মহিলারা পর্যন্ত রাস্তাঘাটে-পার্কে বেপর্দা ঘুরে বেড়ায়। বিভিন্ন অশ্লীলতায় মেতে ওঠে। এসব গর্হিত কাজ ইসলাম কখনই সমর্থন করে না। ঈদের আনন্দের নামে এসব পরিহার করা প্রত্যেক মুসলমানের একান্ত কর্তব্য।

যুগান্তর: ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী: আপনাকেও ধন্যবাদ। যুগান্তর তো আমাদের প্রিয় পত্রিকা। আমি সবসময় যুগান্তর পড়ি। যুগান্তরের জন্য দোয়া রইলো।

ঘটনাপ্রবাহ : রমজান ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×