২৪তম তারাবিতে আজ যা পড়া হবে

প্রকাশ : ২৯ মে ২০১৯, ১৭:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

  আল ফাতাহ মামুন

ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৪তম তারাবিতে সূরা জারিয়াতের দ্বিতীয় রুকুর শেষার্ধ থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত পড়া হবে। সঙ্গে সূরা তুর, সূরা নাজম, সূরা কামার, সূরা আর রহমান, সূরা ওয়াকিয়া এবং সূরা হাদিদ পুরো সূরা পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে ২৭তম পারা। 

পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের মূলবিষয়বস্তু তুলে ধরা হল।

৫১. সূরা জারিয়াত : ৩১-৬০

দ্বিতীয়  রুকুর শেষার্ধ।  ৩১ থেকে ৪৬ নম্বর আয়াতে হজরত ইবরাহিমের (আ.) মেহমানদ্বয়ের ঘটনার বাকী অংশ বলা হয়েছে।

তৃতীয় তথা শেষ রুকু।  ৪৭ থেকে ৬০ নম্বর আয়াতে সত্য অস্বীকারকারীদের সঙ্গে নবী ও দায়ীদের আচরণ কেমন হবে তা বলেই সূরা সমাপ্তি টানা হয়েছে।

৫২. সূরা তুর : ১-৪৯

সূরা তুর।  নাজিল হয়েছে মক্কায়।  আয়াত সংখ্যা ৪৯।  রুকু ২টি। 

প্রথম ও দ্বিতীয় তথা শেষ রুকু।  ১ থেকে ৪৯ নম্বর আয়াতে কেয়ামত সংঘটিত হবে, কীভাবে সে বিষয়ে বলে নবী ও বিশ্বাসীদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।  আর যারা আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করেনি তাদের পরিণতি কত ভয়াবহ হবে তারও উল্লেখ রয়েছে।  সব অবস্থায় ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে- এ উপদেশ  দিয়ে সূরা শেষ করা হয়েছে। 

সূরা নাজম : ১-৬২

৫৩. সূরা নাজম।  নাজিল হয়েছে মক্কায়।  আয়াত ৬২ এবং রুকু সংখ্যা ৩।

প্রথম থেকে তৃতীয় তথা শেষ রুকু, ১ থেকে ৬২ নম্বর আয়াত।  সূরার শুরুতে রাসুল (সা.) ও কোরআনুল কারিমের সম্মান ও মর্যাদার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।  আকাশে অনেক ফেরেশতা আছে, কিন্তু আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারবে না।  তাই আল্লাহকে মেনে নেয়া ছাড়া ভিন্ন কোন পথ আদম সন্তানের জন্য খোলা নেই। শেষের দিকে মানুষকে মর্মস্পর্শী ভাষায় উপদেশ দেয়া হয়েছে। 

৫৪. সূরা কামার : ১-৫৫

মক্কায় নাজিল হওয়া সূরা কামারের আয়াত সংখ্যা ৫৫।  রুকু ৩টি। 

প্রথম থেকে শেষ রুকু, ১ থেকে ৫৫ নম্বর আয়াত।  সূরা শুরু হয়েছে কেয়ামতের ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে।  যারা এসব কথা অবিশ্বাস করবে তাদের উপেক্ষা করে আল্লাহর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাওয়া নবীদের কর্তব্য। অতীতের নূহ, লূতসহ অন্যান্য সব নবীই এই নীতি অবলম্বন করেছেন। 
অবিশ্বাসীদের জন্য শুধু ধ্বংস আর ধ্বংসই রয়েছে।  আর বিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে মনোরম জান্নাত। 

৫৫. সূরা আর রাহমান :  ১-৭৮

এ সূরা নাজিল হয়েছে পবিত্র মদীনায়। এর আয়াত সংখ্যা ৭৮। রুকু মোট ৩টি। 

প্রথম থেকে শেষ রুকু, ১ থেকে ৭৮ নম্বর আয়াত। মানুষের ওপর আল্লাহর অজস্র নেয়ামতের বর্ণনা রয়েছে এ সূরায়। আর বারবার মানুষকে প্রশ্ন করা হয়েছে, হে মানুষ!  এ আল্লাহ প্রদত্ত কোন কোন নেয়ামত তুমি অস্বীকার করবে? যারা আল্লাহর নেয়ামত লাভ করে কৃতজ্ঞতার জীবনযাপন করবে আল্লাহ তাদের জন্য এর চেয়ে বেশি নেয়ামত সমৃদ্ধ জান্নাত তৈরী করে রেখেছেন। 

৫৬. সূরা ওয়াকিয়া : ১-৯৬

এ সূরা নাজিল হয়েছে মক্কায়। এর আয়াত ৯৬টি এবং রুকু ৩টি। 

প্রথম থেকে শেষ রুকু, ১ থেকে ৯৬ নম্বর আয়াত। এ সূরাও শুরু হয়েছে কেয়ামতের আলোচনা দিয়ে। কেয়ামতের দিন ডানপন্থি, বামপন্থি ও অগ্রগামী দলের লোকদের অবস্থা কী হবে তা আলোচনা করা হয়েছে বিস্তারিত। সূরার শেষের দিকে পবিত্র কোরআনের মাহাত্ম্য, মর্যাদা আলোচনা হয়েছে বিশদভাবে। 

৫৭. সূরা হাদিদ : ১-২৯

এ সূরা নাজিল হয়েছে পবিত্র মদিনায়। এর আয়াত সংখ্য ২৯। রুকু ৪টি। এ সূরা পূর্ণ তেলাওয়াতের মধ্য দিয়েই শেষ হবে আজকের তারাবির নামাজ।

প্রথম থেকে চতুর্থ তথা শেষ রুকু, ১ থেকে ২৯ নম্বর আয়াত। সূরা শুরু হয়েছে আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি নৈপুন্য ও তার মহান মর্যাদার বর্ণনা দিয়ে। এত নিপুন স্রষ্ঠা মানুষের জন্য কিছু বিধান দিয়েছেন তা বলা হয়েছে সূরার দ্বিতীয় ও তৃতীয় রুকুতে। 
শেষের দিকে পূর্বের যে সব সৎ বান্দারা নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহর বিধান মেনে চলেছেন, সংক্ষেপে তাদের উপমা টানা হয়েছে। আবার বিশ্বাসী বান্দাদের নসিহত করে সূরার বক্তব্য শেষ করা হয়েছে।