মানুষ কি অমানুষের কাছে হেরে যাবে?

  আহনাফ আবদুল কাদির ১৬ জুলাই ২০১৯, ২১:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

মানবিকতার পরাজয়
প্রতীকী ছবি

আগেকার সেই সামাজিক অটুট বন্ধন এখন আর নেই। মানুষ মানুষের জন্য হৃদয়ের টান আর অনুভব করেনা। নেই কারো প্রতি কারো মায়া, মমতা ও ভালোবাসার এতটুকুন জায়গা; যতটুকুন থাকলে পরে অনায়াসে কেটে যেতে পারে যাপিত জীবন।

নিরাপদ আশ্রয় ও আশ্রমের মতো স্পর্শকাতর ঠিকানাগুলোতেও দিন দিন ছেদ পড়ছে ।

প্রযুক্তির উন্নয়নে বিশ্ব যেমন মানুষের হাতের মুঠে এসে পৌঁছেছে, তেমনি অপসংস্কৃতির ছোবলে অনৈতিকতা ও নষ্টামির বাজারও চলে এসেছে মানুষের দোর-গোড়ায়।

ধর্ম ও নীতি নৈতিকতার ব্যাপক চর্চা না থাকায় সবত্র ছড়িয়ে পড়ছে নষ্টামীর এই সর্বগ্রাসী কুফল। ফলে রাতারাতি বদলে যাচ্ছে মানুষ ও মানুষের জীবন। পাল্টে যাচ্ছে মানুষের আচার- আচরন, বৈশিষ্ট্য ও ধরন। এ যেন অবিকল মানুষের মত দেখতে ভিন্ন প্রজাতির কোন প্রানী এখন পৃথিবীতে বসবাস করছে।

কোরআনুল কারিমে যাকে ’বালহুম আদল’ বলে বিশেষায়িত করা হয়েছে। পরিবার ও পারিবারিক জীবনেও নেমে এসেছে হৃদয়বিদারক বীভৎস সব চিত্র। মানুষ আজ দূরের মানুষকে কাছে টেনে, বুকে আশ্রয় দিয়ে, শয্যার সঙ্গিনী করে, অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের জড়িয়ে পড়ছে। অথচ ভুলে যাচ্ছে পবিত্র ও বৈধ সম্পর্কের কথা, কাছের মানুষের কথা, বুকের ভালোবাসার কথা, আপন সঙ্গিনীর কথা।

তাই মানব জীবনে নেমে এসেছে আধুনিকতার নামে অনৈতিকতা, প্রগতিশীলতার নামে লজ্জাহীনতা, উদারতার নামে বেহায়াপনা, নারী পুরুষের সহযোগীতা ও বন্ধুত্বের নামে অবাধ মেলামেশা ও পরক্রিয়া।

ফলশ্রুতীতে ফাঁটল দেখা দিচ্ছে স্পর্শকাতর সম্পর্কগুলোয়। বাড়ছে পারিবারিক ভাঙ্গন, সহিংসতা ও খুনোখুনির সংখ্যা। আপন মানুষের দেয়া যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে অনেকে বেছে নিচ্ছে নিজেকে শেষ করে দেয়ার- আত্মহত্যার মত পথ।

এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পিতা-মাতার সম্পর্কের টানাপোড়েনে বলি হচ্ছে নিরাপরাধ অবুঝ শিশু; মা-বাবাই যাদের পৃথিবী, একমাত্র ঠিকানা। সেই ঠিকানা হারিয়ে তারা গড়ে তুলছে ভিন্ন ঠিকানা, অন্য পৃথিবী।

যে পৃথিবী শুধু অপরাধের পৃথিবী। যেখানে কোন প্রেম নেই, ভালোবাসা নেই, স্নেহ নেই, শ্রদ্বা নেই, দয়া নেই, মায়া নেই; আছে শুধু হিংসা, বিদ্বেষ, নিষ্ঠুরতা ও কঠোরতা ও নিজস্ব বলয় গড়ার প্রতিযোগিতা।

যার ফলশ্রুতীতে ছিন্নমুল এসব শিশুরাও জড়িয়ে পড়ছে অসামাজিতকায়। পা বাড়াচ্ছে মাদকতা ও অনৈতিকতার দিকে । নিত্যনতুন অপরাধের পথে। ক্রমেই সমাজ হয়ে উঠছে অপরাধের ঢেরা। প্রতিদিনের সংবাদমাধ্যমগুলো পারিবারিক সহিংসতা, সম্পর্ক ভাঙ্গন ও বড় বড় অপরাধের অসংখ্য ও অগনিত সংবাদ আমাদের সামনে তুলে ধরে।

আমরা হয়তো সেসব ঘটনা পড়ে ব্যাথাতুর হই কিংবা হইনা। অথবা মানবতাবাদী সেজে কিছুটা দু:খ প্রকাশ করি।

কিন্তু এসব অপরাধের পেছনের চিত্রটা যে আরো কতটা ভয়াবহ, বিচ্ছিরি, বীভৎস তা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানে। অপরাধীর কাছে কতটা অসহায় হয়ে একজন ভুক্তভোগী আত্মহত্যার পথ পর্যন্ত বেছে নেয়, সে কথা কি আত্মহত্যাকারী নিজে ব্যাখ্যা করতে পারে নাকি আমরা বুঝি তার ব্যাথার তীব্রতা!

কতবার কান্না হজম করে মানুষ নিজেকে হরণের এমন পথ বেছে নিতে পারে। অপরাধের সব নিত্য-নতুন ভয়াল রুপ; যার একটির নিচে চাপা পড়ছে আরেকটি। নির্মমতার কত নিত্য নতুন উপাখ্যান আজ আমাদের চোখের সামনেই অহরহ ঘটছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। রাতের আধারের ঘটনা এখন দিনের আলোতে রুপ নিয়েছে। প্রতিনিয়ত অপরাধের নিত্য নতুন কলা-কৌশলের কাছে হেরে যাচ্ছে মানুষ, মানবতা।

আর কত নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতার পর জাগ্রত হবে মানুষের বিবেক।

মানুষ কি মানুষের পাশে দাঁড়াবেনা? অপরাধীরা কি শাস্তি পাবেনা আইনের কাছে? নাকি অপরাধ করার পর শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে পেয়ে আরো অপরাধ করে যাবে বুক ফুলিয়ে? এখনি যদি দুর্দষ এসব অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরা না যায় তবে পৃথিবী অমানুষদের দখলে চলে যাবে।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×