বালিশ ও বই কাণ্ডের মূলে রয়েছে আত্মার ব্যাধি

  মাওলানা হুসাইন আহমদ বাহুবলী ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

দূর্নীতি
প্রতীকি ছবি

সময় পাল্টেছে। বদলে গেছে চিকিৎসার ধরন। এক ডাক্তার সব রোগের চিকিৎসা করবেন এই নিয়ম বিলুপ্তির পথে। কেউ চোখ, কেউ কান, কেউ নাক, কেউ হার্ট এরকম বিভিন্ন সেক্টর তৈরি হয়ে আছে চিকিৎসাসেবায়।

আমরা যত এগুচ্ছি, চিকিৎসা সেবার একটি শাখার ভিতরে তত শাখা তৈরি হচ্ছে। একজন ডাক্তার সুনির্দিষ্ট একটি রোগের চিকিৎসা করছেন। মরণব্যাধি বলতে কোনো রোগ আর থাকবে না মনে হয়।

প্রায় সব প্রাণ রোগের ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে। দুনিয়াজুড়ে চিকিৎসাসেবা আধুনিকায়নের হিড়িক পড়েছে। বলা চলে রোগে মরবে না কেউ। মরবে কেবল ভাগ্যের কবলে পড়ে। রোগ সারাবার জন্য ডাক্তাররা যতগুলো নির্দেশনা দেন, তন্মধ্যে পরিমিত সুষম খাবারের প্রতি বেশি জোর দিয়ে থাকেন।

মানব দেহ মাটির সৃষ্টি। এ জন্য মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা এই মাটির দেহের জন্য মাটি থেকে উৎপন্ন খাবার এ দেহ পরিচর্যার উপাদান করেছেন।

একটা দেহের সুস্থতার জন্য চাই পরিমিত সুষম খাবার। এর ব্যত্যয় ঘটলে শরীর হবে অসুস্থ দুর্বল। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানে এই নলেজ খুব মামুলী ব্যাপার।

তাবৎ দুনিয়ার স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা দেহটাকে এই খাবার দিয়েই নিয়ন্ত্রণ করতে চান। তারা একটিবারের জন্য ভাবেন না গোটা দেহটাকে পরিচালিত করে কোন্ শক্তি? দেহের সঙ্গে প্রাণের সমন্বয় না ঘটলে এই দেহের যে কোনো মূল্য নেই।

কাজেই এই দেহের সুস্থতা যতটা না জরুরি, এর চেয়ে বেশি প্রয়োজন এই প্রাণের সুস্থতা। পরিতাপের বিষয় বর্তমান দুনিয়ার স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা এই বিষয়টা নিয়ে ভাবছেন না। বর্তমান দুনিয়ার বিজ্ঞানীরা না ভাবলেও দেড় হাজার বছর আগে এক বিজ্ঞানী গবেষণা করে গেছেন এ সব বিষয়ে। রেখেছেন এ বিষয়ে তার গবেষণার ফসল।

তিনি বলে গেছেন, দেহ সৃষ্টির জন্য যদি মাটি উপাদান হয়ে থাকে, প্রাণেরও কোনো না কোনো উপাদান আছে। প্রাণের উপাদান নিয়ে, তার গতি-প্রকৃতি নিয়ে প্রাচীন বিজ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা অতি পুরনো। তারা আবিষ্কার করতে না পেরেই আমাদের আলোচিত বিজ্ঞানীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

তিনি তার সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে ঐশীবাণীর মাধ্যমে এই সূত্র পেয়েছিলেন। কি সেই সূত্র? ‘বলে দাও, আত্মার উপাদান আমার আদেশমাত্র’

সৃষ্টিকর্তার আদেশের উপাদানে আমাদের আত্মা বা প্রাণ সৃষ্টি। এখানে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে, মাটির উপাদানের সৃষ্ট দেহের জন্য যদি মাটি থেকে উৎপন্ন উপকরণে খাবার তৈরি হয়। তাহলে আল্লাহর নির্দেশের উপাদানে তৈরি প্রাণের খাবার কি হবে?

দেহ যদি পুষ্টিকর, সুষম খাবারে বলিষ্ঠ হতে পারে, পুষ্টিকর খাবারের অভাবে রুগ্ন দুর্বল হতে পারে, আমাদের প্রাণের কি সেই একই অবস্থা হবে না? প্রাণের কি আদৌ কোনো খাবারের প্রয়োজন নেই?

আত্মা তার পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে সতেজ হবে, খাবার না পেলে নেতিয়ে পড়বে এমনটা কি যৌক্তিক নয়?

বর্তমান যুগের ইহজগৎ কেন্দ্রিক বিজ্ঞানীরা এখানে এসে নীরব নিস্তব্ধ হয়ে গেলেন। ইহলৌকিক বিজ্ঞানের যেখানে শেষ, পারলৌকিক বিজ্ঞানের সেখান থেকে শুরু। পারলৌকিক বিজ্ঞানের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, হ্যাঁ।

যে উপাদানে প্রাণের সৃষ্টি, প্রাণের খাবার সেই উপাদানেই সৃষ্ট। দেহের যেমন খাবারের প্রয়োজন, প্রাণের তেমন খাবারের প্রয়োজন। দেহ যেমন পুষ্টিকর খাবারের হয় কল্যাণে বলিষ্ঠ-সুঠাম। উপযোগী খাবারের মাধ্যমে হয় সতেজ, খাবারের অভাবে নেতিয়ে পড়ে।

ঠিক তেমনিভাবে প্রাণ খাবারের অভাবে দুর্বল হতে বাধ্য। অসুস্থ হওয়া অবশ্যম্ভাবী। তারা বলেছেন, আল্লাহর আদেশের উপাদানের সৃষ্ট প্রাণের, খাবার তৈরি হয় আল্লাহর আদেশ পালনের মাধ্যমে। যারা নিয়মিত আল্লাহর আদেশ পালন করবেন তাদের প্রাণ-আত্মা বলিষ্ঠ ও সুস্থ থাকবে। যারা আল্লাহর আদেশ পালনে অভ্যস্ত হবেন না, তাদের প্রাণ আত্মা হবে দুর্বল-রুগ্ন।

প্রাণ-আত্মার ৩২ প্রকার রোগ হতে পারে। এই ৩২ প্রকারের রোগের মৌলিক রোগ হচ্ছে ১০টি। ১. লোভ, ২.ক্ষোভ, ৩.হিংসা, ৪.অহংকার, ৫.কৃপণতা, ৬.স্বার্থপরতা, ৭.কাম, ৮.লৌকিকতা, ৯.আত্মম্ভরিতা, ১০.কুধারণা,

রোগ আবিষ্কার হল। বিজ্ঞানীরা এর চিকিৎসা অবশ্যই আবিষ্কার করেছেন। আজ আমরা শুধু একটি রুগ নিয়ে আলোচনা করব।

প্রথম রোগটি হচ্ছে লোভ। এই রোগের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সুদ, ঘুষ, চুরি-ডাকাতি, দুর্নীতি থেকে নিয়ে একেবারে বালিশ ও বই কান্ড পর্যন্ত সব দুর্নীতি। অন্তরে লোভ নামক রোগ না থাকলে কেউ দুর্নীতির দিকে এগোতে পারে না।

অন্তরে আত্মার ব্যাধি বাসা বেঁধেছে বলেই কর্মকর্তারা আজ দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত। লোভ নামক আত্মার এই মরণব্যাধির কোনো চিকিৎসা আমরা করিনি। করব কিভাবে? এই রোগের অস্তিত্বই তো আমরা জানি না। চিকিৎসাবিহীন রোগ আকার ধারণ করবে মরণব্যাধির এটাই স্বাভাবিক।

আত্মার এই রোগ আজ মরণব্যাধিতে পরিণত। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই রোগের আজ মুমূর্ষু রোগী। এদের চিকিৎসা প্রয়োজন। আত্মার এই রোগের চিকিৎসা না করে, মানব রচিত আইন আর দুদক দিয়ে যে দুর্নীতি দমন সম্ভব নয় তা আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

আত্মার এই মরণব্যাধির আশু চিকিৎসা না করলে আত্মার মৃত্যু ঘটবে নিশ্চিত। উত্তরাধিকার হিসেবে দিয়ে যাবে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অর্থনৈতিক দেউলিয়াপনা। দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে কর্মকর্তাদের মুক্তি পেতে হলে, তারা আল্লাহর আদেশ পালনে অভ্যস্ত হতে হবে। এটাই একমাত্র সফল চিকিৎসা। এই চিকিৎসার বিকল্প নেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×