কোরআনে ঘোষিত বিজয় দিবসের তিন কর্মসূচি

  এহসান বিন মুজাহির ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় পতাকা
ছবি: সংগৃহীত

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জন্য গৌরবময় একটি দিন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে স্বাধীন-স্বকীয় জাতি হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে।

৩০ লাখ প্রাণ আর দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের দামে অর্জন আমাদের মহান বিজয়। গৌরবদীপ্ত ও দুর্বিনীত সাহসী জাতি হিসেবে আমাদের কাছে ১৬ ডিসেম্বর বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন।

বছরের একটি মাত্র দিন হলেও জাতির মনে এক ভিন্নতর ভঙ্গী ও অনুভূতি শব্দায়মান হয়ে ওঠে। আলোকোজ্জ্বল এ দিনটি আমাদের সামগ্রিক জীবন ও ইতিহাসে এবং তার সত্তা ও স্বরূপকে পরিব্যক্ত ও পরিধৃত করে বিরাজ করছে বিস্ময়কর অভিভবে।

আজকের নিবন্ধে ইসলামের দৃষ্টিতে বিজয় দিবস উদযাপন নিয়ে আলোকপাত করা হল।

পবিত্র কোরআন কারিমে দু’টি সুরায় বিজয় দিবসের কর্মসূচি বর্ণনা করা হয়েছে। সূরাদ্বয়ের একটির নাম সুরা ফাতাহ, অপরটির নাম সুরা নাসর। ‘ফাতাহ’ অর্থ বিজয়, আর ‘নাছর’ অর্থ মুক্তি বা সাহায্য।

দেশ-স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলন করতে গিয়ে দেশ ও মাটির গাদ্দারদের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ দখলমুক্ত করার নাম বিজয়। আর বিজয় অর্জনের পেছনে অলৌকিক শক্তির নাম হচ্ছে নাসর বা সাহায্য। বিজয় অর্জন হলে কি করতে হবে তা সুরা নাসর থেকে বুঝার চেষ্টা করি।

মহান রাব্বুল আলামিন সুরা নাছরের প্রথম আয়াতে এরশাদ করেন,‘যখন তোমাদের বিজয় আসবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য আসবে, তখন দেখবে, দলে দলে মানুষ ইসলাম ধর্মে প্রবিষ্ট হচ্ছে’।

মহান রাব্বুল আলামিন তিনটি কর্মসুচি এই সুরায় ঘোষণা করেছেন। সেগুলো হল: ১.ফাসাব্বিহ, (আল্লাহর তাসবিহ পাঠ তথা পবিত্রতা বর্ণনা করা) পাঠ করা। ২. বিহামদী রাব্বিক, (আল্লাহর হামদ তথা শুকরিয়া) আদায় করা। ৩. ওয়াসতাগফীর, (যুদ্ধের সময় ভুলভ্রান্তি তথা সীমালংঘন থেকে রবের কাছে ক্ষমা চাওয়া) প্রার্থনা করা।

স্বাধীনতা এবং বিজয় একমাত্র মহান করুণাময় আল্লাহ তায়ালারই দান। আল্লাহ তায়াআলার অশেষ করুণার বদৌলতেই আমরা দেশ বিজয় করতে পেরেছি। তাই শুকরিয়াও করতে হবে তারই।

অতএব তিনটি কর্মসুচি পালনের মাধ্যমেই আমাদেরকে বিজয়ের আনন্দ করতে হবে। বিজয়ের দিন মহান রবের কাছে সেজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে শুকরিয়া আদায় করা নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব। বিজয়ের দিন শুকরিয়া নামাজ পড়া নবীজীর সুন্নাত।

ইতিহাস থেকে জানা যায় নবী (সা.) দশ বছর পর বিজয়েরবেশে সহস্র সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে যখন মক্কা নগরীতে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি চেহারা নিম্নগামী অবস্থায় একটি উটের ওপর বসা ছিলেন। প্রথমে হযরত উম্মে হানীন (রা.) ঘরে প্রবেশ করে আট রাকাত নামাজ আদায় করলেন। সেই নামাজকে সালাতুল ফাতহ বা বিজয়ের নামাজ বলা হয়। এ ছিলো নবীযুগের কথা।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও শিক্ষক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×