সালামের পরিবেশ শান্তি ছড়িয়ে দিতে পারে বিশ্বময়
jugantor
সালামের পরিবেশ শান্তি ছড়িয়ে দিতে পারে বিশ্বময়

  ফয়জুল্লাহ আমান  

০৯ জুন ২০২০, ১৯:৫৩:৩১  |  অনলাইন সংস্করণ

সালামের পরিবেশ শান্তি ছড়িয়ে দিতে পারে বিশ্বময়

সালাম ইসলাম ধর্মের একটি অন্যতম নিদর্শন বা প্রতীক। দু’জন মুসলিম সাক্ষাৎ হলেই সালাম বিনিময়ের নিয়ম। নবীজীর সুন্নাহ এবং পবিত্র কোরআনের নির্দেশ।

মুসলিমের অধিকার এই সালাম। সালামের মতো সুন্দর কিছু নেই পৃথিবীর ভাষাসমূহে। দেখা হলেই মিষ্টি হেসে বলতে হবে আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। তোমার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম শব্দের অর্থ শান্তি। এর প্রতিটি বিধানে এক শান্তিবাদী রূপ রয়েছে। অভিবাদনের এই অনন্য শব্দ ইসলাম ধর্মের প্রকৃতি বুঝতে আমাদের সাহায্য করে।

যে তার মুসলিম ভাইকে দেখেই সালাম দিতে অভ্যস্ত তার ভেতর শান্তি ও সম্প্রীতির এক অভ্যাস গড়ে ওঠে। মুসলিম সমাজে যখন সম্প্রীতি ও সৌহার্দ চর্চায় অভ্যস্থ হয় তখন অমুসলিম ও অন্যান্য প্রাণীকুলের প্রতিও কোমল আচরণ প্রকাশ তার জন্য সহজ হয়।

পারস্পরিক প্রীতি ও ভালোবাসার এ শিক্ষা অন্য কোনো ধর্মে এত সুন্দরভাবে দেয়া হয়নি। প্রত্যেক ধর্মেই শান্তি ও সম্প্রীতির কথা আছে। ইসলামে এ প্রীতির প্রকাশ অন্য সব ধর্মের তুলনায় অনন্য এ কথা বলতেই হয়।

আব্দুল্লাহ ইবন সালাম একজন ইহুদি পণ্ডিত ছিলেন, রাসূল সা. যখন প্রথম মদীনা মুনাওয়ারায় প্রবেশ করেন, তিনি নবীজীকে দেখতে যান।

প্রথম যখন নবীজীকে দেখেন, সে সময় নবীজী সা.-এর জবান মুবারক থেকে এ হাদীস শোনেন, হে লোক সকল, তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, লোকদেরকে খাবার খাওয়াও, সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ আদায় করো, শান্তির সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করো।’

নবীজীর মুখে এমন প্রিয় কথা শুনেই তিনি বুঝে ফেলেন, ইনি সত্য নবী। সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেন।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ব্যতীত অন্য কারও ঘরে অনুমতি ছাড়া এবং সালাম না দিয়ে প্রবেশ করো না। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। (সূরা নূর, আয়াত: ২৭)

অন্যত্র ইরশাদ করেন, যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে তখন তোমরা তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম করবে অভিবাদনস্বরূপ যা আল্লাহর নিকট থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র। (সূরা: নূর, আয়াত: ৬১)

আরও ইরশাদ করেন, তোমাদেরকে যখন সালাম করা হয় তখন তোমরা আরও সুন্দরভাবে সালামের উত্তর দিবে অথবা তার অনুরূপ উত্তর করবে। (সূরা: নিসা, আয়াত: ৮৬)

হজরত ইবন আমর রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূল সা.কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামের কোন্ আমলটি সর্বোত্তম? রাসূল সা. বললেন, মানুষকে খাবার খাওয়ানো ও চেনা-অচেনা সবাইকে সালাম দেয়া। (বুখারী ও মুসলিম)

সালাম মুসলিমদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সালাম বিহীন মুসলিম সমাজ কল্পনা করা যায় না। সালামের গুরুত্ব সম্পর্কে অসংখ্য হাদীস রয়েছে। এখানে কেবল একটি হাদীস উল্লেখ করব।

রাসূল সা. বলেন, তোমরা জান্নাতে যেতে পারবে না, ইমান ছাড়া। ইমানদার হতে পারবে না পারস্পরিক মহব্বত ছাড়া। আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি বিষয় শিখিয়ে দিব না, যা করলে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসতে পারবে? সালামের প্রসার ঘটাও। বেশি বেশি সালাম দাও। (বুখারী)

জান্নাতে যেতে হলে পরস্পরকে ভালোবাসতে হবে। সামাজিক সম্প্রীতির জন্য এর চেয়ে বেশি আর কি বলা যেতে পারে? পারস্পরিক সৌহার্দ সৃষ্টির এমন নজীর অন্য কোনো ধর্মে কি খুঁজে পাওয়া যাবে?

আজকের আমরা সামান্য কারণে একে অপরের সঙ্গে ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত হয়ে যাই। এক মুসলিম আরেক মুসলিমের সঙ্গে শত্রুতা করি। বিদ্বেষ পুষে রাখি মনের ভেতর।

সব সময় অন্যের ক্ষতির ফিকিরে লেগে থাকি। এর নাম তো ইসলাম নয়। এ সব তো কোনো মুসলিমের কাজ হতে পারে না।

ইসলামী দল করার নামে অন্য দলের লোকদের ইসলামের শত্রু মনে করি। এক মুসলিম অপর মুসলিমকে ইসলামের দুশমন বলে গালি দেই। এ সব কি করছি আমরা?

ইসলাম তো আমাদের শত্রুতার শিক্ষা দেয় না। বিদ্বেষ আর কলহ শিক্ষা দেয় না। তাহলে কোত্থেকে পেলাম এমন নষ্ট মানসিকতা? আমাদের স্বভাবের বদ দিকগুলো কোত্থেকে অর্জন করলাম?

প্রিয় পাঠক, আজ এই এখন থেকেই আসুন আমরা ইসলামের অনন্য শিক্ষা ধারণ করি। সমস্ত মানুষকে বন্ধু ভাবতে শিখি। আমাদের অভিধানে যেন শত্রুতা বলে কিছু না থাকে। সমাজের সবখানে ছড়িয়ে দেই ভালোবাসা।

নির্মল মনে একটি সালাম দিয়ে দেখুন। আপনার অন্তর ভালো লাগায় ভরে যাবে। আপনার হৃদয়ের নির্মলতা অন্যদেরও স্পর্শ করে যাবে। রহমত ও বরকতে ভরে যাবে সমাজ। পরিবেশে এর প্রভাব পড়বে দ্রুতই। খুব সহজেই আমরা শান্তি ছড়িয়ে দিতে পারব বিশ্বময়।

হজরত ইবন উমর রা. বাজারে যেতেন কেবল সালাম দিতে। আমাদের দেশে মানুষের অভাব নেই। ঘর থেকে পথে বের হলেই লোক পেয়ে যাবেন। আজ এই এখন থেকে বেশি বেশি সালাম দেয়ার সংকল্প করুন। একটু কষ্ট করে বলুন, আসসালামু আলাইকুম।

আমি শুরু করছি, আপনিও শুরু করুন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। তোমার ওপর আল্লাহর রহমত বরকত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমীন।

সালামের পরিবেশ শান্তি ছড়িয়ে দিতে পারে বিশ্বময়

 ফয়জুল্লাহ আমান 
০৯ জুন ২০২০, ০৭:৫৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সালামের পরিবেশ শান্তি ছড়িয়ে দিতে পারে বিশ্বময়
ছবি: সংগৃহীত

সালাম ইসলাম ধর্মের একটি অন্যতম নিদর্শন বা প্রতীক। দু’জন মুসলিম সাক্ষাৎ হলেই সালাম বিনিময়ের নিয়ম। নবীজীর সুন্নাহ এবং পবিত্র কোরআনের নির্দেশ। 

মুসলিমের অধিকার এই সালাম। সালামের মতো সুন্দর কিছু নেই পৃথিবীর ভাষাসমূহে। দেখা হলেই মিষ্টি হেসে বলতে হবে আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। তোমার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। 

ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম শব্দের অর্থ শান্তি। এর প্রতিটি বিধানে এক শান্তিবাদী রূপ রয়েছে। অভিবাদনের এই অনন্য শব্দ ইসলাম ধর্মের প্রকৃতি বুঝতে আমাদের সাহায্য করে।

যে তার মুসলিম ভাইকে দেখেই সালাম দিতে অভ্যস্ত তার ভেতর শান্তি ও সম্প্রীতির এক অভ্যাস গড়ে ওঠে। মুসলিম সমাজে যখন সম্প্রীতি ও সৌহার্দ চর্চায় অভ্যস্থ হয় তখন অমুসলিম ও অন্যান্য প্রাণীকুলের প্রতিও কোমল আচরণ প্রকাশ তার জন্য সহজ হয়। 

পারস্পরিক প্রীতি ও ভালোবাসার এ শিক্ষা অন্য কোনো ধর্মে এত সুন্দরভাবে দেয়া হয়নি। প্রত্যেক ধর্মেই শান্তি ও সম্প্রীতির কথা আছে। ইসলামে এ প্রীতির প্রকাশ অন্য সব ধর্মের তুলনায় অনন্য এ কথা বলতেই হয়।

আব্দুল্লাহ ইবন সালাম একজন ইহুদি পণ্ডিত ছিলেন, রাসূল সা. যখন প্রথম মদীনা মুনাওয়ারায় প্রবেশ করেন, তিনি নবীজীকে দেখতে যান। 

প্রথম যখন নবীজীকে দেখেন, সে সময় নবীজী সা.-এর জবান মুবারক থেকে এ হাদীস শোনেন, হে লোক সকল, তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, লোকদেরকে খাবার খাওয়াও, সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ আদায় করো, শান্তির সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করো।’ 

নবীজীর মুখে এমন প্রিয় কথা শুনেই তিনি বুঝে ফেলেন, ইনি সত্য নবী। সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেন।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ব্যতীত অন্য কারও ঘরে অনুমতি ছাড়া এবং সালাম না দিয়ে প্রবেশ করো না। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। (সূরা নূর, আয়াত: ২৭)

অন্যত্র ইরশাদ করেন, যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে তখন তোমরা তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম করবে অভিবাদনস্বরূপ যা আল্লাহর নিকট থেকে কল্যাণময় ও পবিত্র। (সূরা: নূর, আয়াত: ৬১)

আরও ইরশাদ করেন, তোমাদেরকে যখন সালাম করা হয় তখন তোমরা আরও সুন্দরভাবে সালামের উত্তর দিবে অথবা তার অনুরূপ উত্তর করবে। (সূরা: নিসা, আয়াত: ৮৬)

হজরত ইবন আমর রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূল সা.কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামের কোন্ আমলটি সর্বোত্তম? রাসূল সা. বললেন, মানুষকে খাবার খাওয়ানো ও চেনা-অচেনা সবাইকে সালাম দেয়া। (বুখারী ও মুসলিম)

সালাম মুসলিমদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। সালাম বিহীন মুসলিম সমাজ কল্পনা করা যায় না। সালামের গুরুত্ব সম্পর্কে অসংখ্য হাদীস রয়েছে। এখানে কেবল একটি হাদীস উল্লেখ করব। 

রাসূল সা. বলেন, তোমরা জান্নাতে যেতে পারবে না, ইমান ছাড়া। ইমানদার হতে পারবে না পারস্পরিক মহব্বত ছাড়া। আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি বিষয় শিখিয়ে দিব না, যা করলে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসতে পারবে? সালামের প্রসার ঘটাও। বেশি বেশি সালাম দাও। (বুখারী)

জান্নাতে যেতে হলে পরস্পরকে ভালোবাসতে হবে। সামাজিক সম্প্রীতির জন্য এর চেয়ে বেশি আর কি বলা যেতে পারে? পারস্পরিক সৌহার্দ সৃষ্টির এমন নজীর অন্য কোনো ধর্মে কি খুঁজে পাওয়া যাবে?

আজকের আমরা সামান্য কারণে একে অপরের সঙ্গে ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত হয়ে যাই। এক মুসলিম আরেক মুসলিমের সঙ্গে শত্রুতা করি। বিদ্বেষ পুষে রাখি মনের ভেতর। 

সব সময় অন্যের ক্ষতির ফিকিরে লেগে থাকি। এর নাম তো ইসলাম নয়। এ সব তো কোনো মুসলিমের কাজ হতে পারে না। 

ইসলামী দল করার নামে অন্য দলের লোকদের ইসলামের শত্রু মনে করি। এক মুসলিম অপর মুসলিমকে ইসলামের দুশমন বলে গালি দেই। এ সব কি করছি আমরা? 

ইসলাম তো আমাদের শত্রুতার শিক্ষা দেয় না। বিদ্বেষ আর কলহ শিক্ষা দেয় না। তাহলে কোত্থেকে পেলাম এমন নষ্ট মানসিকতা? আমাদের স্বভাবের বদ দিকগুলো কোত্থেকে অর্জন করলাম?

প্রিয় পাঠক, আজ এই এখন থেকেই আসুন আমরা ইসলামের অনন্য শিক্ষা ধারণ করি। সমস্ত মানুষকে বন্ধু ভাবতে শিখি। আমাদের অভিধানে যেন শত্রুতা বলে কিছু না থাকে। সমাজের সবখানে ছড়িয়ে দেই ভালোবাসা।

নির্মল মনে একটি সালাম দিয়ে দেখুন। আপনার অন্তর ভালো লাগায় ভরে যাবে। আপনার হৃদয়ের নির্মলতা অন্যদেরও স্পর্শ করে যাবে। রহমত ও বরকতে ভরে যাবে সমাজ। পরিবেশে এর প্রভাব পড়বে দ্রুতই। খুব সহজেই আমরা শান্তি ছড়িয়ে দিতে পারব বিশ্বময়। 

হজরত ইবন উমর রা. বাজারে যেতেন কেবল সালাম দিতে। আমাদের দেশে মানুষের অভাব নেই। ঘর থেকে পথে বের হলেই লোক পেয়ে যাবেন। আজ এই এখন থেকে বেশি বেশি সালাম দেয়ার সংকল্প করুন। একটু কষ্ট করে বলুন, আসসালামু আলাইকুম। 

আমি শুরু করছি, আপনিও শুরু করুন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। তোমার ওপর আল্লাহর রহমত বরকত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমীন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ফয়জুল্লাহ আমানের লেখা