বিদ্বেষ পরিহার করো হে মুসলিম
jugantor
বিদ্বেষ পরিহার করো হে মুসলিম

  ফয়জুল্লাহ আমান  

১১ জুন ২০২০, ২২:২০:৫৯  |  অনলাইন সংস্করণ

বিদ্বেষ পরিহার করো হে মুসলিম

প্রত্যেক সোম ও বৃহস্পতিবার মানুষের আমল আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করা হয়, আল্লাহ ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের সবার গুনাহ মাফ করেন, কেবল যারা মনের ভেতর অন্যদের প্রতি বিদ্বেষ পুষে রাখে তাদের ক্ষমা করেন না। (মুসলিম)

রাসূলকে (সা.) জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল, শ্রেষ্ঠ মানুষ কে? রাসূল (সা.) বললেন, যার অন্তর পরিচ্ছন্ন এবং যে সত্যবাদী।

সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, পরিচ্ছন্ন অন্তর দ্বারা কী উদ্দেশ্য? রাসূল (সা.) বললেন, যার মনে কোনো হিংসা নেই, বিদ্বেষ নেই, অন্যের অনিষ্টের চিন্তা নেই, পাপহীন অন্তর। (ইবন মাজাহ)

অন্য বর্ণনায় রাসূল (সা.) বলেন, তোমাদের ভেতর পূর্ববর্তী জাতিসমূহের রোগ সংক্রমিত হবে। তাদের মতো তোমাদের ভেতর বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়বে। জেনে রেখ, বিদ্বেষ মানুষের ধর্ম শেষ করে দেয়। (তিরমিযি)

মানুষ একজন আরেকজনের সঙ্গে বিদ্বেষ বা শত্রুতা কেন করে? কী নিয়ে বিদ্বেষ হয়? টাকা-পয়সা, জায়গা-জমি, অর্থ-সম্পদ নিয়ে একজন আরেকজনের সঙ্গে শত্রুতা করে। ক্ষমতা প্রতিপত্তি ও সম্মানের জন্য পরস্পর শত্রুতা সৃষ্টি হয়। নারী নিয়েও দুশমনি হয়।

কিন্তু এ সব কিছুর চেয়ে হয়ত বেশি বিদ্বেষ বর্তমান দুনিয়ায় দেখা যায় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের কারণে দ্বন্দ্ব-সংঘাত। অর্থ, নারী ও ধর্ম- এ তিনটিকেই মূল ধরা যায়। রাজনীতি ও ক্ষমতার বিষয়টিও অনেকটা অর্থনৈতিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট।

মানুষের বেঁচে থাকতে অর্থের প্রয়োজন। নারী-পুরুষ সম্পর্কও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর পরই আসে ধর্ম ও মতাদর্শের বিষয়। জীবন থেমে থাকে সঠিক ধর্মাচার ছাড়া। জীবনকে গতিশীল করে ধর্মের চর্চা।

যে কোনো কারণেই বিদ্বেষ ঘর করুক মনের ভেতর, মানুষের জীবনের স্বাভাবিকত্ব নষ্ট করে দেয়। বিদ্বিষ্ট মানুষের মনে কোনো শান্তি থাকে না।

একটি সমাজ কতটুকু অগ্রসর তা এ একটি বিষয়ের দ্বারা যাচাই করা সম্ভব। সমাজের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক কতটুকু সুন্দর তা দেখতে হবে। সভ্যতার সর্বোচ্চ নিদর্শন হচ্ছে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা।

এটি এমন একটি গুণ যা অন্য সব পশু থেকে মানুষকে পৃথক করে। অন্য পশুদের ভেতর হৃদয় বলে কিছু নেই। মানুষের ভেতর হৃদয় আছে। হৃদয়বান মানুষ তা সত্ত্বেও পশুর চেয়েও মন্দ আচরণ যখন করে তখন বিস্মিত হতে হয়। পশুকেও হার মানায় এই মানুষ।

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব যখন নিকৃষ্ট আচরণ করে তখন তা সত্যি দুঃখজনক হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে চরম বিদ্বেষ সৃষ্টি হয় আমাদের সমাজে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি বেঁধে যায়। খুনোখুনি পর্যন্ত হয়।

সব মানুষের কথা বাদ দিলাম। আমরা মুসলিম হয়ে কী করে এমন হীন হতে পারি? আমাদের প্রিয় নবীজী আমাদের কী শিক্ষা দিয়েছেন? পবিত্র কুরআন বা নবীজীর সুন্নাহর কোথাও কি সমাজের মানুষের সঙ্গে হাঙ্গামা বাধানোর কথা আছে?

একটি আয়াত বা হাদীস দেখানো যাবে না। তাহলে কেন আমরা এমন শত্রুতার পরিবেশ সৃষ্টি করি? বিশেষত যারা নিজেদেরকে ধার্মিক পরিচয় দেই, তাদের এ সব বিষয়ে খুবই সতর্ক থাকা উচিত।

দিনের পর দিন শত্রুতা জিঁইয়ে রাখা আপনার স্বাস্থ্য ও মনের পক্ষে শুভ নয়। আপনার পরকালের জন্যও ভালো নয়। জান্নাতে যেতে হলে মন পরিচ্ছন্ন করতে হবে। জান্নাতে কেউ কাউকে হিংসা করবে না, কারো সঙ্গে শত্রুতা করে থাকা যাবে না জান্নাতে।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, আমি জান্নাতিদের অন্তর থেকে বিদ্বেষ দূর করে দিব, তারা ভ্রাতৃভাবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে আসনে অবস্থান করবে। (সূরা হিজর, আয়াত: ৪৭)

একবার রাসূল (সা.) মসজিদে নববীতে সাহাবিদের নিয়ে বসে আছেন। এ সময় রাসূল (সা.) বললেন, কিছুক্ষণেই তোমাদের ভেতর একজন জান্নাতি মানুষ আসবে। সবাই অপেক্ষা করতে লাগল, কে সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি! কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরই দেখা গেল একজন আনসারী সাহাবি মসজিদে আসলেন।

পরদিন আবারও রাসূল (সা.) একই রকম কথা বললেন, তোমাদের মাঝে একজন জান্নাতি মানুষ আসবে কিছুক্ষণের ভেতর। সব সাহাবি আজও উৎসুক হলেন তাকে দেখার জন্য। সেই একই আনসারি সাহাবি আজও মসজিদে প্রবেশ করলেন।

তৃতীয় দিন আবারও রাসূল (সা.) এমন ঘোষণা করলেন। হজরত আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা.) খুব উৎসুক হলেন। কী এমন আমল করেন যে, রাসূল (সা.) তার জান্নাতি হওয়ার ঘোষণা করলেন পরপর তিনদিন।

নামাজ শেষে সেই সাহাবি সঙ্গে সঙ্গে তার বাড়িতে গেলেন। তার ঘরে মেহমান হলেন। তিনদিন তিনরাত তার আমল দেখলেন। অবশেষে তাকে বললেন, জনাব, আপনাকে রাতে দেখি ঘুমিয়ে পড়েন, দিনেও রোজা রাখেন না, তেমন কোনো আমলই করতে দেখি না?

অথচ রাসূল সা. আপনার ব্যাপারে জান্নাতি হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পরপর তিনদিন। আনসারি সাহাবি বললেন, ভাই তুমি যা দেখেছ তা-ই। এর চেয়ে বেশি আমল আমি করি না। তবে আমি প্রতিদিন রাতে যখন ঘুমুতে যাই, তখন আমার মনে কারও প্রতি কোনো বিদ্বেষ বা শত্রুতা থাকে না। মন পরিষ্কার করে আমি ঘুমাই।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা.) বললেন, তাহলে এ বিষয়টির কারণেই আপনি আল্লাহর প্রিয় হয়েছেন; অন্য কিছু নয়। (নাসাই শরীফ)

ঘটনাটি খুবই শিক্ষণীয়। আল্লাহর জান্নাত পেতে অনেক আমলের চেয়ে বেশি সহজ উপায় হচ্ছে নিজের মন পরিচ্ছন্ন করা। অন্তরে কারও প্রতি বিদ্বেষ বা শত্রুতা না রাখা। এ কাজের জন্য কোনো টাকা-পয়সা খরচ হয় না, শারীরিক কোনো কসরতও করতে হয় না।

শরিয়তের অনেক বিধান মানা কঠিন হলেও এ বিধান মানা কত সহজ! সহজ এ মহৎ আমলটি আমাদের মুসলিম সমাজে আজ কত অবহেলিত!

আসুন, এ সহজ আমলটি আমরা শুরু করি। এতে আমাদের মুসলিম সমাজ অনেক সুন্দর হয়ে উঠবে। আমাদের স্বভাবের পরিবর্তন বিশ্ববাসীকে ইসলামের নিকটবর্তী করবে। আর আমাদের জান্নাতে যাওয়াও হবে সহজ।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদের সবার পারস্পরিক শত্রুতা দূর করে দিন। আমাদের সমাজের মানুষের মাঝে সৃষ্টি করে দেন সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্। আমীন।

বিদ্বেষ পরিহার করো হে মুসলিম

 ফয়জুল্লাহ আমান 
১১ জুন ২০২০, ১০:২০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বিদ্বেষ পরিহার করো হে মুসলিম
ছবি: সংগৃহীত

প্রত্যেক সোম ও বৃহস্পতিবার মানুষের আমল আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করা হয়, আল্লাহ ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের সবার গুনাহ মাফ করেন, কেবল যারা মনের ভেতর অন্যদের প্রতি বিদ্বেষ পুষে রাখে তাদের ক্ষমা করেন না। (মুসলিম)

রাসূলকে (সা.) জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল, শ্রেষ্ঠ মানুষ কে? রাসূল (সা.) বললেন, যার অন্তর পরিচ্ছন্ন এবং যে সত্যবাদী। 

সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, পরিচ্ছন্ন অন্তর দ্বারা কী উদ্দেশ্য? রাসূল (সা.) বললেন, যার মনে কোনো হিংসা নেই, বিদ্বেষ নেই, অন্যের অনিষ্টের চিন্তা নেই, পাপহীন অন্তর। (ইবন মাজাহ)

অন্য বর্ণনায় রাসূল (সা.) বলেন, তোমাদের ভেতর পূর্ববর্তী জাতিসমূহের রোগ সংক্রমিত হবে। তাদের মতো তোমাদের ভেতর বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়বে। জেনে রেখ, বিদ্বেষ মানুষের ধর্ম শেষ করে দেয়। (তিরমিযি)

মানুষ একজন আরেকজনের সঙ্গে বিদ্বেষ বা শত্রুতা কেন করে? কী নিয়ে বিদ্বেষ হয়? টাকা-পয়সা, জায়গা-জমি, অর্থ-সম্পদ নিয়ে একজন আরেকজনের সঙ্গে শত্রুতা করে। ক্ষমতা প্রতিপত্তি ও সম্মানের জন্য পরস্পর শত্রুতা সৃষ্টি হয়। নারী নিয়েও দুশমনি হয়। 

কিন্তু এ সব কিছুর চেয়ে হয়ত বেশি বিদ্বেষ বর্তমান দুনিয়ায় দেখা যায় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের কারণে দ্বন্দ্ব-সংঘাত। অর্থ, নারী ও ধর্ম- এ তিনটিকেই মূল ধরা যায়। রাজনীতি ও ক্ষমতার বিষয়টিও অনেকটা অর্থনৈতিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট।

মানুষের বেঁচে থাকতে অর্থের প্রয়োজন। নারী-পুরুষ সম্পর্কও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর পরই আসে ধর্ম ও মতাদর্শের বিষয়। জীবন থেমে থাকে সঠিক ধর্মাচার ছাড়া। জীবনকে গতিশীল করে ধর্মের চর্চা। 

যে কোনো কারণেই বিদ্বেষ ঘর করুক মনের ভেতর, মানুষের জীবনের স্বাভাবিকত্ব নষ্ট করে দেয়। বিদ্বিষ্ট মানুষের মনে কোনো শান্তি থাকে না। 

একটি সমাজ কতটুকু অগ্রসর তা এ একটি বিষয়ের দ্বারা যাচাই করা সম্ভব। সমাজের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক কতটুকু সুন্দর তা দেখতে হবে। সভ্যতার সর্বোচ্চ নিদর্শন হচ্ছে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা। 

এটি এমন একটি গুণ যা অন্য সব পশু থেকে মানুষকে পৃথক করে। অন্য পশুদের ভেতর হৃদয় বলে কিছু নেই। মানুষের ভেতর হৃদয় আছে। হৃদয়বান মানুষ তা সত্ত্বেও পশুর চেয়েও মন্দ আচরণ যখন করে তখন বিস্মিত হতে হয়। পশুকেও হার মানায় এই মানুষ। 

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব যখন নিকৃষ্ট আচরণ করে তখন তা সত্যি দুঃখজনক হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে চরম বিদ্বেষ সৃষ্টি হয় আমাদের সমাজে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি বেঁধে যায়। খুনোখুনি পর্যন্ত হয়। 
 
সব মানুষের কথা বাদ দিলাম। আমরা মুসলিম হয়ে কী করে এমন হীন হতে পারি? আমাদের প্রিয় নবীজী আমাদের কী শিক্ষা দিয়েছেন? পবিত্র কুরআন বা নবীজীর সুন্নাহর কোথাও কি সমাজের মানুষের সঙ্গে হাঙ্গামা বাধানোর কথা আছে? 

একটি আয়াত বা হাদীস দেখানো যাবে না। তাহলে কেন আমরা এমন শত্রুতার পরিবেশ সৃষ্টি করি? বিশেষত যারা নিজেদেরকে ধার্মিক পরিচয় দেই, তাদের এ সব বিষয়ে খুবই সতর্ক থাকা উচিত।

দিনের পর দিন শত্রুতা জিঁইয়ে রাখা আপনার স্বাস্থ্য ও মনের পক্ষে শুভ নয়। আপনার পরকালের জন্যও ভালো নয়। জান্নাতে যেতে হলে মন পরিচ্ছন্ন করতে হবে। জান্নাতে কেউ কাউকে হিংসা করবে না, কারো সঙ্গে শত্রুতা করে থাকা যাবে না জান্নাতে। 

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, আমি জান্নাতিদের অন্তর থেকে বিদ্বেষ দূর করে দিব, তারা ভ্রাতৃভাবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে আসনে অবস্থান করবে। (সূরা হিজর, আয়াত: ৪৭)

একবার রাসূল (সা.) মসজিদে নববীতে সাহাবিদের নিয়ে বসে আছেন। এ সময় রাসূল (সা.) বললেন, কিছুক্ষণেই তোমাদের ভেতর একজন জান্নাতি মানুষ আসবে। সবাই অপেক্ষা করতে লাগল, কে সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি! কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরই দেখা গেল একজন আনসারী সাহাবি মসজিদে আসলেন। 

পরদিন আবারও রাসূল (সা.) একই রকম কথা বললেন, তোমাদের মাঝে একজন জান্নাতি মানুষ আসবে কিছুক্ষণের ভেতর। সব সাহাবি আজও  উৎসুক হলেন তাকে দেখার জন্য। সেই একই আনসারি সাহাবি আজও  মসজিদে প্রবেশ করলেন। 

তৃতীয় দিন আবারও রাসূল (সা.) এমন ঘোষণা করলেন। হজরত আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা.) খুব উৎসুক হলেন। কী এমন আমল করেন যে, রাসূল (সা.) তার জান্নাতি হওয়ার ঘোষণা করলেন পরপর তিনদিন। 

নামাজ শেষে সেই সাহাবি সঙ্গে সঙ্গে তার বাড়িতে গেলেন। তার ঘরে মেহমান হলেন। তিনদিন তিনরাত তার আমল দেখলেন। অবশেষে তাকে বললেন, জনাব, আপনাকে রাতে দেখি ঘুমিয়ে পড়েন, দিনেও রোজা রাখেন না, তেমন কোনো আমলই করতে দেখি না? 

অথচ রাসূল সা. আপনার ব্যাপারে জান্নাতি হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পরপর তিনদিন। আনসারি সাহাবি বললেন, ভাই তুমি যা দেখেছ তা-ই। এর চেয়ে বেশি আমল আমি করি না। তবে আমি প্রতিদিন রাতে যখন ঘুমুতে যাই, তখন আমার মনে কারও প্রতি কোনো বিদ্বেষ বা শত্রুতা থাকে না। মন পরিষ্কার করে আমি ঘুমাই। 

হজরত আব্দুল্লাহ ইবন আমর  (রা.) বললেন, তাহলে এ বিষয়টির কারণেই আপনি আল্লাহর প্রিয় হয়েছেন; অন্য কিছু নয়। (নাসাই শরীফ)

ঘটনাটি খুবই শিক্ষণীয়। আল্লাহর জান্নাত পেতে অনেক আমলের চেয়ে বেশি সহজ উপায় হচ্ছে নিজের মন পরিচ্ছন্ন করা। অন্তরে কারও প্রতি বিদ্বেষ বা শত্রুতা না রাখা। এ কাজের জন্য কোনো টাকা-পয়সা খরচ হয় না, শারীরিক কোনো কসরতও করতে হয় না। 

শরিয়তের অনেক বিধান মানা কঠিন হলেও এ বিধান মানা কত সহজ! সহজ এ মহৎ আমলটি আমাদের মুসলিম সমাজে আজ কত অবহেলিত! 

আসুন, এ সহজ আমলটি আমরা শুরু করি। এতে আমাদের মুসলিম সমাজ অনেক সুন্দর হয়ে উঠবে। আমাদের স্বভাবের পরিবর্তন বিশ্ববাসীকে ইসলামের নিকটবর্তী করবে। আর আমাদের জান্নাতে যাওয়াও হবে সহজ। 

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদের সবার পারস্পরিক শত্রুতা দূর করে দিন। আমাদের সমাজের মানুষের মাঝে সৃষ্টি করে দেন সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্। আমীন। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ফয়জুল্লাহ আমানের লেখা