যে আমলে জীবন সুখের হয়
jugantor
যে আমলে জীবন সুখের হয়

  মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২০:১৭  |  অনলাইন সংস্করণ

যে আমলে জীবন সুখের হয়

মানুষের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ হল ‘সবর’ করা। এই সবর বা ধৈর্যধারণের ক্ষমতা না থাকার কারণে চারপাশের মানুষজন আমাদের কথায় এবং আচরণে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায়।

প্রতিটি ক্ষেত্রে সবর করা একেবারে অসম্ভবও নয়। চাইলেই করা যায়। কিন্তু আমরা করি না বা করতে পারি না।

ধৈর্যহীনতার কারণে সবার আগে সক্রিয় হয় আমাদের জিহ্বা। ফলে মনে যাই আসে তা-ই বলে দিই। একটুও ভাবি না, আমার এই লাগামহীন কথাবার্তায় সামনে থাকা মানুষটার কতো কষ্ট হবে!
তিনি কত আহত হবেন! নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার মোক্ষম হাতিয়ার কিন্তু এটাই।

পবিত্র কোরআনের অনেক জায়গায় আল্লাহতায়ালা সবর করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং একে সাহসিকতা ও হিম্মতের কাজ বলে অভিহিত করেছেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমরা তোমাদের জান-মালের ক্ষেত্রে অবশ্যই পরীক্ষার মুখোমুখি হবে আর তোমরা আহলে কিতাব ও মুশরিকদের পক্ষ থেকে অনেক পীড়াদায়ক কথা শুনবে। তোমরা যদি সবর ও তাকওয়া অবলম্বন কর, তাহলে অবশ্যই তা বড় হিম্মতের কাজ। (সূরা আলে ইমরান(৩): ১৮৬)

কারও কথায় বা আচরণে মনের মধ্যে যে অবস্থাই সৃষ্টি হোক না কেন, সবর করতে হবে, ভেতরের প্রতিক্রিয়া বাইরে প্রকাশ করা যাবে না; তাহলে আসন্ন অপ্রত্যাশিত অনেক মুসিবত থেকে খুব সহজেই আপনি নিস্তার পাবেন এবং সাময়িক একটু কষ্ট অনুভব করলেও পরে ঠিকই সুকুন বা প্রশান্তি অনুভব করবেন।

সবরের একটি বড় উপকারিতা হল, এর দ্বারা আপনি কারও কাছে কখনও ছোট হবেন না। বরং সম্মানিত ও শ্রদ্ধার পাত্র হবেন। শুধু তাই নয়, সবরকারিদের জন্য আল্লাহতায়ালা সুসংবাদ ও পুরষ্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন।

কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব (কখনও) ভয়-ভীতি, (কখনও) ক্ষুধা দ্বারা এবং (কখনও) জানমাল ও ফলফসলের ক্ষয়-ক্ষতি দ্বারা, আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। (সূরা বাকারা (২): ১৫৫)

২০০৭ সালে ফুলার থিওলজিক্যাল সেমিনারে প্রফেসর সারাহ এ স্নিটকার এবং ইউসি ডেভিসের মনোবিজ্ঞানী রবার্ট এমোনস বলেন, ধৈর্যশীল মানুষ অপেক্ষাকৃত বিষণ্নতায় কম ভোগেন। তাদের মধ্যে নেতিবাচক আবেগ কম কাজ করে। যেকোনো পরিবেশে নিজেদের সামাল দিতে পারেন তারা।

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন নবী-রাসুলরা। প্রতিটি পদে পদে তাদের ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তাদেরকে নানা কটুকথা বলা হয়েছে, আহত ও রক্তাক্ত করা হয়েছে, তবুও তারা ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

নবী হযরত আইয়ুব (আ.) টানা ১৮ বছর ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন। অতঃপর, তার নামই রেখে দেওয়া হয়েছে হযরত সাবের (আ.) বলে। যার অর্থ ধৈর্য ধারণকারী।

বিপদের সময় বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো মুহুর্তে আমরা যদি জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, মুখে যাই আসে তা যদি না বলি, তাহলে আমরাও সুসংবাদ প্রাপ্ত হব এবং সফল হব।

নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি গোলামকে থাপ্পড় মারে; তার এ কাজের কাফফারা হলো গোলামটিকে আজাদ করে দেওয়া। আর যে ব্যক্তি (শরিয়ত পরিপন্থী কথা-বার্তা থেকে) নিজের জিহ্বা হেফাজত করবে; তাকে (জাহান্নামের) আজাব হতে মুক্তি দেওয়া হবে। যে আল্লাহ তায়ালার কাছে নিজের ওজর পেশ করবে; তা কবুল করা হবে।

আরেক হাদিসে আছে, প্রকৃত মুসলমান তো সেই ব্যক্তি; যার হাত ও জিহ্বা থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।

তাই আসুন, প্রতিটি ক্ষেত্রে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে আমরাও প্রকৃত মুমিনদের কাতারে শামিল হই! আল্লাহ তায়ালা কবুল করুন। আমিন।

লেখক: তরুণ আলেম ও সংবাদকর্মী

[email protected]

যে আমলে জীবন সুখের হয়

 মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:২০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
যে আমলে জীবন সুখের হয়
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ হল ‘সবর’ করা। এই সবর বা ধৈর্যধারণের ক্ষমতা না থাকার কারণে চারপাশের মানুষজন আমাদের কথায় এবং আচরণে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায়। 

প্রতিটি ক্ষেত্রে সবর করা একেবারে অসম্ভবও নয়। চাইলেই করা যায়। কিন্তু আমরা করি না বা করতে পারি না। 

ধৈর্যহীনতার কারণে সবার আগে সক্রিয় হয় আমাদের জিহ্বা। ফলে মনে যাই আসে তা-ই বলে দিই। একটুও ভাবি না, আমার এই লাগামহীন কথাবার্তায় সামনে থাকা মানুষটার কতো কষ্ট হবে! 
তিনি কত আহত হবেন! নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার মোক্ষম হাতিয়ার কিন্তু এটাই। 

পবিত্র কোরআনের অনেক জায়গায় আল্লাহতায়ালা সবর করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং একে সাহসিকতা ও হিম্মতের কাজ বলে অভিহিত করেছেন। 

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমরা তোমাদের জান-মালের ক্ষেত্রে অবশ্যই পরীক্ষার মুখোমুখি হবে আর তোমরা আহলে কিতাব ও মুশরিকদের পক্ষ থেকে অনেক পীড়াদায়ক কথা শুনবে। তোমরা যদি সবর ও তাকওয়া অবলম্বন কর, তাহলে অবশ্যই তা বড় হিম্মতের কাজ। (সূরা আলে ইমরান(৩): ১৮৬)

কারও কথায় বা আচরণে মনের মধ্যে যে অবস্থাই সৃষ্টি হোক না কেন, সবর করতে হবে, ভেতরের প্রতিক্রিয়া বাইরে প্রকাশ করা যাবে না; তাহলে আসন্ন অপ্রত্যাশিত অনেক মুসিবত থেকে খুব সহজেই আপনি নিস্তার পাবেন এবং সাময়িক একটু কষ্ট অনুভব করলেও পরে ঠিকই সুকুন বা প্রশান্তি অনুভব করবেন। 

সবরের একটি বড় উপকারিতা হল, এর দ্বারা আপনি কারও কাছে কখনও ছোট হবেন না। বরং সম্মানিত ও শ্রদ্ধার পাত্র হবেন। শুধু তাই নয়, সবরকারিদের জন্য আল্লাহতায়ালা সুসংবাদ ও পুরষ্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন। 

কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব (কখনও) ভয়-ভীতি, (কখনও) ক্ষুধা দ্বারা এবং (কখনও) জানমাল ও ফলফসলের ক্ষয়-ক্ষতি দ্বারা, আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। (সূরা বাকারা (২): ১৫৫)

২০০৭ সালে ফুলার থিওলজিক্যাল সেমিনারে প্রফেসর সারাহ এ স্নিটকার এবং ইউসি ডেভিসের মনোবিজ্ঞানী রবার্ট এমোনস বলেন, ধৈর্যশীল মানুষ অপেক্ষাকৃত বিষণ্নতায় কম ভোগেন। তাদের মধ্যে নেতিবাচক আবেগ কম কাজ করে। যেকোনো পরিবেশে নিজেদের সামাল দিতে পারেন তারা।

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন নবী-রাসুলরা। প্রতিটি পদে পদে তাদের ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তাদেরকে নানা কটুকথা বলা হয়েছে, আহত ও রক্তাক্ত করা হয়েছে, তবুও তারা ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। 

নবী হযরত আইয়ুব (আ.) টানা ১৮ বছর ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন। অতঃপর, তার নামই রেখে দেওয়া হয়েছে হযরত সাবের (আ.) বলে। যার অর্থ ধৈর্য ধারণকারী।
 
বিপদের সময় বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো মুহুর্তে আমরা যদি জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, মুখে যাই আসে তা যদি না বলি, তাহলে আমরাও সুসংবাদ প্রাপ্ত হব এবং সফল হব। 

নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি গোলামকে থাপ্পড় মারে; তার এ কাজের কাফফারা হলো গোলামটিকে আজাদ করে দেওয়া। আর যে ব্যক্তি (শরিয়ত পরিপন্থী কথা-বার্তা থেকে) নিজের জিহ্বা হেফাজত করবে; তাকে (জাহান্নামের) আজাব হতে মুক্তি দেওয়া হবে। যে আল্লাহ তায়ালার কাছে নিজের ওজর পেশ করবে; তা কবুল করা হবে।

আরেক হাদিসে আছে, প্রকৃত মুসলমান তো সেই ব্যক্তি; যার হাত ও জিহ্বা থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।

তাই আসুন, প্রতিটি ক্ষেত্রে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে আমরাও প্রকৃত মুমিনদের কাতারে শামিল হই! আল্লাহ তায়ালা কবুল করুন। আমিন।

 

লেখক: তরুণ আলেম ও সংবাদকর্মী 

[email protected]