ইসলামের পক্ষে কথা বলতে কাউকে ভয় পাননি শাইখুল হাদীস আজিজুল হক 
jugantor
‘বরেণ্যদের চোখে শাইখুল হাদীস’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন 
ইসলামের পক্ষে কথা বলতে কাউকে ভয় পাননি শাইখুল হাদীস আজিজুল হক 

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৩ নভেম্বর ২০২০, ২১:২৬:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

‘বরেণ্যদের চোখে শাইখুল হাদীস’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের দেশের প্রখ্যাত আলেমরা। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের পক্ষে কথা বলতে শাইখুল হাদীস আজিজুল হক কাউকে ভয় পাননি বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী।

তিনি বলেন, শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. ছিলেন আমাদের আকাবেরদের নমুনা। তিনি যোগ্য আলেম ছিলেন। সাহসি রাজনীতিবিদ ছিলেন। ইসলামের পক্ষে কথা বলতে কাউকে ভয় পাননি। বাতিলের সাথে কখনো আপোষ করেননি। বারবার কারা নির্যাতন সহ্য করেছেন। এই প্রজন্মের জন্য শাইখুল হাদীস রহ. এর জীবন উত্তম আদর্শ।

‘বরেণ্যদের চোখে শাইখুল হাদীস’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ, কিংবদন্তি আলেম শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ.-এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় রাজধানীর মুহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মাওলানা মুহম্মাদ মামুনুল হকের সম্পাদনায় ‘বরেণ্যদের চোখে শাইখুল হাদীস’ গ্রন্থটি রচনা ও সংকলন করেছেন শাইখুল হাদীস রহ. এরই প্রিয় দৌহিত্র মাওলানা এহসানুল হক।

আল্লামা কাসেমী বলেন, শাইখুল হাদীসকে জানতে হলে, চিনতে হলে ‘বরেণ্যদের চোখে শাইখুল হাদীস’ এই বইটি পড়তে হবে।

মাওলানা আতাউর রহমান ও মাওলানা গাজী সানাউল্লাহ রাহমানীর উপস্থাপনায় বক্তারা বলেন, শাইখুল হাদীস রহ. ছিলেন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব, এ জাতির ওপর তার অবদান ব্যাপক, শুধু বাংলাদেশ নয় উপমহাদেশের মানুষের জন্যও তিনি কাজ করে গেছেন। বুখারির সর্ব প্রথম বঙ্গানুবাদসহ লেখালেখির ময়দানের তার অবদান অপরিসীম।

বক্তারা বলেন, এসবের পাশাপাশি তিনি ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের এক মহান কান্ডারী। শাইখুল হাদিস রহ.-এর জীবনী নিয়ে বরেণ্য ব্যক্তিদের এ স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থটি সবাইকে পড়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেন, আমি শাইখুল হাদীস রহ. এর সরাসরি ছাত্র। আমি হুজুরের কাছেই বুখারি শরিফ পড়েছি। আমি ছোটকাল থেকেই হুজুরের স্নেহ পেয়ে ধন্য হয়েছি। আমার বাবা হাফেজ্জী হুজুর রহ. শাইখুল হাদীস সাহেবকে কতটা গুরুত্ব দিতেন তা ভাষায় ব্যক্ত করার মতো না। শাইখুল হাদীস রহ. এর মতো ব্যক্তিত্ব গোটা উপমহাদেশে বিরল।

কলামিস্ট মাওলানা যাইনুল আবিদীন বলেন, বরেণ্যদের চোখে শাইখুল হাদীস গ্রন্থটি একটি অসামন্য জীবনি গ্রন্থ। এই গ্রন্থে এমন কিছু বিষয় পত্রস্থ হয়েছে যা মাওলানা এহসানুল হক ছাড়া অন্য কারো পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভবপর ছিলো না। মাওলানা এহসান একদিকে যেমন শাইখুল হাদীস এর সহকর্মী মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, মুফতি আমিনী, আল্লামা আহমদ শফি এর কাছে যেতে পেরেছে, তেমনই ঘরের সন্তান হওয়ায় শাইখুল হাদীস এর স্ত্রী ও কন্যাদের মুখোমুখি বসতে পেরেছে। তাদের কাছে শাইখুল হাদীস এর জীবনের অমূল্য দুর্লভ কাহিনীগুলো তুলে আনতে পেরেছে। এই বিচারে বরেণ্যদের চোখে শাইখুল হাদীস অদ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ।

অনুষ্ঠানে জামিয়া রাহমানিয়ার প্রিন্সিপাল ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা নুর হুসাইন কাসেমী, খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী, বেফাকের সহসভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলাম। আরও বক্তব্য রাখেন, মুফতি দেলোয়ার হুসাইন, মাওলানা ইসমাঈল বরিশালী, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ, মাওলানা যাইনুল আবিদীন, মাওলানা শাহেদ রাহমানী, মাওলানা আশরাফুজ্জামান, মাওলানা জালালুদ্দীন, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মুফতী এনায়েতুল্লাহ, মুফতী সাঈদ আহমাদ, মাওলানা ওয়াজেদ আলী, মাওলানাআবু সাঈদ প্রমুখ।

‘বরেণ্যদের চোখে শাইখুল হাদীস’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন 

ইসলামের পক্ষে কথা বলতে কাউকে ভয় পাননি শাইখুল হাদীস আজিজুল হক 

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৩ নভেম্বর ২০২০, ০৯:২৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
‘বরেণ্যদের চোখে শাইখুল হাদীস’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের দেশের প্রখ্যাত আলেমরা। ছবি: সংগৃহীত
‘বরেণ্যদের চোখে শাইখুল হাদীস’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের দেশের প্রখ্যাত আলেমরা। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের পক্ষে কথা বলতে শাইখুল হাদীস আজিজুল হক কাউকে ভয় পাননি বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী। 

তিনি বলেন, শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. ছিলেন আমাদের আকাবেরদের নমুনা। তিনি যোগ্য আলেম ছিলেন। সাহসি রাজনীতিবিদ ছিলেন। ইসলামের পক্ষে কথা বলতে কাউকে ভয় পাননি। বাতিলের সাথে কখনো আপোষ করেননি। বারবার কারা নির্যাতন সহ্য করেছেন। এই প্রজন্মের জন্য শাইখুল হাদীস রহ. এর জীবন উত্তম আদর্শ। 

‘বরেণ্যদের চোখে শাইখুল হাদীস’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ, কিংবদন্তি আলেম শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ.-এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় রাজধানীর মুহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

মাওলানা মুহম্মাদ মামুনুল হকের সম্পাদনায় ‘বরেণ্যদের চোখে শাইখুল হাদীস’ গ্রন্থটি রচনা ও সংকলন করেছেন শাইখুল হাদীস রহ. এরই প্রিয় দৌহিত্র মাওলানা এহসানুল হক।

আল্লামা কাসেমী বলেন, শাইখুল হাদীসকে জানতে হলে, চিনতে হলে ‘বরেণ্যদের চোখে শাইখুল হাদীস’ এই বইটি পড়তে হবে।

মাওলানা আতাউর রহমান ও মাওলানা গাজী সানাউল্লাহ রাহমানীর উপস্থাপনায় বক্তারা বলেন, শাইখুল হাদীস রহ. ছিলেন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব, এ জাতির ওপর তার অবদান ব্যাপক, শুধু বাংলাদেশ নয় উপমহাদেশের মানুষের জন্যও তিনি কাজ করে গেছেন। বুখারির সর্ব প্রথম বঙ্গানুবাদসহ লেখালেখির ময়দানের তার অবদান অপরিসীম। 

বক্তারা বলেন, এসবের পাশাপাশি তিনি ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের এক মহান কান্ডারী। শাইখুল হাদিস রহ.-এর জীবনী নিয়ে বরেণ্য ব্যক্তিদের এ স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থটি সবাইকে পড়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেন, আমি শাইখুল হাদীস রহ. এর সরাসরি ছাত্র। আমি হুজুরের কাছেই বুখারি শরিফ পড়েছি। আমি ছোটকাল থেকেই হুজুরের স্নেহ পেয়ে ধন্য হয়েছি। আমার বাবা হাফেজ্জী হুজুর রহ. শাইখুল হাদীস সাহেবকে কতটা গুরুত্ব দিতেন তা ভাষায় ব্যক্ত করার মতো না। শাইখুল হাদীস রহ. এর মতো ব্যক্তিত্ব গোটা উপমহাদেশে বিরল।

কলামিস্ট মাওলানা যাইনুল আবিদীন বলেন, বরেণ্যদের চোখে শাইখুল হাদীস গ্রন্থটি একটি অসামন্য জীবনি গ্রন্থ। এই গ্রন্থে এমন কিছু বিষয় পত্রস্থ হয়েছে যা মাওলানা এহসানুল হক ছাড়া অন্য কারো পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভবপর ছিলো না। মাওলানা এহসান একদিকে যেমন শাইখুল হাদীস এর সহকর্মী মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, মুফতি আমিনী, আল্লামা আহমদ শফি এর কাছে যেতে পেরেছে, তেমনই ঘরের সন্তান হওয়ায় শাইখুল হাদীস এর স্ত্রী ও কন্যাদের মুখোমুখি বসতে পেরেছে। তাদের কাছে শাইখুল হাদীস এর জীবনের অমূল্য দুর্লভ কাহিনীগুলো তুলে আনতে পেরেছে। এই বিচারে বরেণ্যদের চোখে শাইখুল হাদীস অদ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ।

অনুষ্ঠানে জামিয়া রাহমানিয়ার প্রিন্সিপাল ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা নুর হুসাইন কাসেমী, খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী, বেফাকের সহসভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলাম। আরও বক্তব্য রাখেন, মুফতি দেলোয়ার হুসাইন, মাওলানা ইসমাঈল বরিশালী, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ, মাওলানা যাইনুল আবিদীন, মাওলানা শাহেদ রাহমানী, মাওলানা আশরাফুজ্জামান, মাওলানা জালালুদ্দীন, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মুফতী এনায়েতুল্লাহ, মুফতী সাঈদ আহমাদ,  মাওলানা ওয়াজেদ আলী, মাওলানা আবু সাঈদ প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন