যে কারণে রমজানের ইবাদতে এত প্রশান্তি
jugantor
যে কারণে রমজানের ইবাদতে এত প্রশান্তি

  মাহমুদ আহমদ  

২১ এপ্রিল ২০২১, ১৫:৪০:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

পবিত্র রমজানের রহমতের দিনগুলো আমরা অতিবাহিত করছি। ইনশাল্লাহ দু’দিন পরেই আমরা মাগফিরাতের দশকে প্রবেশ করব।

মহামারি করোনাকালেও বিশ্বের মুসলমানরা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে পবিত্র এ বরকতপূর্ণ দিনগুলোতে বিশেষ ইবাদতে রত থেকে অতিবাহিত করছেন।

পবিত্র মাহে রমজানে রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাত লাভের প্রত্যাশায় মুমিনরা তাদের ইবাদতে এনে থাকে আমুল পরিবর্তন।

একজন মুমিন কেন রমজানের ইবাদতে এত প্রশান্তি পায়? এজন্যই পায়, কারণ এ মাসে শয়তান যেহেতু শিকলাবদ্ধ থাকে তাই মুমিনরা অত্যন্ত আরামের সাথে তাদের ইবাদত-বন্দেগি করার সুযোগ পায়। তাইতো মুমিন রমজানের অপেক্ষায় অধির আগ্রহে থাকে। রমজানের ইবাদতে সে পায় প্রশান্তি। তার আত্মা শান্তিপ্রাপ্ত আত্মায় পরিণত হয়।

হাদিসে এসেছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) বলেন, ‘যখন রমজান আসে তখন জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। আর শয়তানকে শিকলাবদ্ধ করা হয়’ (বোখারি ও মুসলিম)।

অপর এক হাদিসে বলা হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন রমজান মাসের প্রথম রাত হয় শয়তান ও অবাধ্য জিনগুলোকে শৃঙ্খলিত করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয়। অতঃপর একটি দরজাও খোলা হয় না।
আর জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, অতঃপর এর একটি দরজাও বন্ধ করা হয় না। এক আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকেন, হে পুণ্যের অন্বেষণকারী! সম্মুখে অগ্রসর হও। আর হে মন্দের অন্বেষণকারী! থেমে যাও। এ মাসে আল্লাহতায়ালা অনেককে দোজখের আগুন থেকে মুক্তি দেন। আর এটা প্রতি রাতেই সংঘটিত হয়ে থাকে’ (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)।

শয়তান শিকলাবদ্ধ থাকার অর্থ কি মানুষ এদিনগুলোতে কোন প্রকার পাপ কাজে লিপ্ত হবে না? অবশ্য তা নয়। শয়তান বিভিন্নভাবে মানুষকে পাপ কাজে লিপ্ত করতে উদ্বুদ্ধ করতে চাইবে ঠিকই কিন্তু একজন মুমিন ব্যক্তি যে রোজা রেখে অধিকহারে ইবাদতে রত থাকবে তাকে শয়তান কিছুই করতে পারবে না।

যে ব্যক্তির রোজা শুরু হয় তাহাজ্জদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আর দিন অতিবাহিত হয় খোদার স্মরণে, তার ওপর কোনভাবেই শয়তান ভর করতে পারবে না।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে তা হতে তোমরা আহর করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করিও না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু’ (সুরা বাকারা, আয়াত:১৬৮)।

শয়তান যেহেতু আমাদের প্রকাশ্য শত্রু, তাই আমরা যদি আন্তরিকতার সাথে রোজা রাখি, নেককর্ম করতে থাকি তাহলে সে আমাদের কোন ক্ষতিই করতে পারবে। কিন্তু আমরা যদি রোজা রেখে রোজার হক আদায় না করি, তাহলে শয়তান আমাদের ওপর ভর করবে আর আমাদের দ্বারা মন্দকাজ সংঘটিত হবে।

আসলে মানুষ যখন রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে গাফেল হয়ে যায় তখন সে শুধু নিজেকে উপবাসই রাখে যা আল্লাহতায়ালার জন্য কোন প্রয়োজন নেই।

আসলে যে ব্যক্তি রোজা রেখে বৃথা কাজকর্ম করে, মিথ্যা কথা বলে, ধোকা দেয়, ব্যবসায় অধিক মুনাফা আদায় করে এবং প্রতারণা করে, সেটি মূলত তার জন্য রোজা নয় বরং শুধুমাত্র উপবাস থাকারই নামান্তর। আল্লাহ মানুষের অন্তর দেখেন, কোন নিয়তে সে রোজা রাখছে এটাই মূল বিষয়।

আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে রমজান থেকে কল্যাণমণ্ডিত হয়ে তার প্রিয়দের অন্তর্ভূক্ত করুন, আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com

যে কারণে রমজানের ইবাদতে এত প্রশান্তি

 মাহমুদ আহমদ 
২১ এপ্রিল ২০২১, ০৩:৪০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পবিত্র রমজানের রহমতের দিনগুলো আমরা অতিবাহিত করছি। ইনশাল্লাহ দু’দিন পরেই আমরা মাগফিরাতের দশকে প্রবেশ করব। 

মহামারি করোনাকালেও বিশ্বের মুসলমানরা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে পবিত্র এ বরকতপূর্ণ দিনগুলোতে বিশেষ ইবাদতে রত থেকে অতিবাহিত করছেন। 

পবিত্র মাহে রমজানে রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাত লাভের প্রত্যাশায় মুমিনরা তাদের ইবাদতে এনে থাকে আমুল পরিবর্তন। 

একজন মুমিন কেন রমজানের ইবাদতে এত প্রশান্তি পায়? এজন্যই পায়, কারণ এ মাসে শয়তান যেহেতু শিকলাবদ্ধ থাকে তাই মুমিনরা অত্যন্ত আরামের সাথে তাদের ইবাদত-বন্দেগি করার সুযোগ পায়। তাইতো মুমিন রমজানের অপেক্ষায় অধির আগ্রহে থাকে। রমজানের ইবাদতে সে পায় প্রশান্তি। তার আত্মা শান্তিপ্রাপ্ত আত্মায় পরিণত হয়। 

হাদিসে এসেছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) বলেন, ‘যখন রমজান আসে তখন জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। আর শয়তানকে শিকলাবদ্ধ করা হয়’ (বোখারি ও মুসলিম)। 

অপর এক হাদিসে বলা হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন রমজান মাসের প্রথম রাত হয় শয়তান ও অবাধ্য জিনগুলোকে শৃঙ্খলিত করা হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয়। অতঃপর একটি দরজাও খোলা হয় না। 
আর জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, অতঃপর এর একটি দরজাও বন্ধ করা হয় না। এক আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকেন, হে পুণ্যের অন্বেষণকারী! সম্মুখে অগ্রসর হও। আর হে মন্দের অন্বেষণকারী! থেমে যাও। এ মাসে আল্লাহতায়ালা অনেককে দোজখের আগুন থেকে মুক্তি দেন। আর এটা প্রতি রাতেই সংঘটিত হয়ে থাকে’ (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)।

শয়তান শিকলাবদ্ধ থাকার অর্থ কি মানুষ এদিনগুলোতে কোন প্রকার পাপ কাজে লিপ্ত হবে না? অবশ্য তা নয়। শয়তান বিভিন্নভাবে মানুষকে পাপ কাজে লিপ্ত করতে উদ্বুদ্ধ করতে চাইবে ঠিকই কিন্তু একজন মুমিন ব্যক্তি যে রোজা রেখে অধিকহারে ইবাদতে রত থাকবে তাকে শয়তান কিছুই করতে পারবে না। 

যে ব্যক্তির রোজা শুরু হয় তাহাজ্জদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আর দিন অতিবাহিত হয় খোদার স্মরণে, তার ওপর কোনভাবেই শয়তান ভর করতে পারবে না। 

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে তা হতে তোমরা আহর করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করিও না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু’ (সুরা বাকারা, আয়াত:১৬৮)। 

শয়তান যেহেতু আমাদের প্রকাশ্য শত্রু, তাই আমরা যদি আন্তরিকতার সাথে রোজা রাখি, নেককর্ম করতে থাকি তাহলে সে আমাদের কোন ক্ষতিই করতে পারবে। কিন্তু আমরা যদি রোজা রেখে রোজার হক আদায় না করি, তাহলে শয়তান আমাদের ওপর ভর করবে আর আমাদের দ্বারা মন্দকাজ সংঘটিত হবে। 

আসলে মানুষ যখন রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে গাফেল হয়ে যায় তখন সে শুধু নিজেকে উপবাসই রাখে যা আল্লাহতায়ালার জন্য কোন প্রয়োজন নেই। 

আসলে যে ব্যক্তি রোজা রেখে বৃথা কাজকর্ম করে, মিথ্যা কথা বলে, ধোকা দেয়, ব্যবসায় অধিক মুনাফা আদায় করে এবং প্রতারণা করে, সেটি মূলত তার জন্য রোজা নয় বরং শুধুমাত্র উপবাস থাকারই নামান্তর। আল্লাহ মানুষের অন্তর দেখেন, কোন নিয়তে সে রোজা রাখছে এটাই মূল বিষয়। 

আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে রমজান থেকে কল্যাণমণ্ডিত হয়ে তার প্রিয়দের অন্তর্ভূক্ত করুন, আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন