সদকাতুল ফিতর আদায়ে ঈদ হয় আনন্দঘন
jugantor
সদকাতুল ফিতর আদায়ে ঈদ হয় আনন্দঘন

  মুফতি জহির ইবনে মুসলিম  

১৩ মে ২০২১, ১৬:০৬:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

পূর্ণ এক মাস সিয়াম সাধনার পর প্রতি বছর মুসলিম উম্মাহর দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয় আনন্দময় দিন ঈদুল ফিতর।

কিন্তু আমাদের আর্থসামাজিক পরিস্থিতির দরুন সে আনন্দ ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই সমানভাবে ভোগ করতে পারে না। বিত্তশালীরাই সাধারণত আনন্দ ফুর্তিতে মেতে উঠে।

বহু হতদরিদ্র পরিবার সেদিনও ক্ষুধা-ক্লিষ্টে দিন কাটায়, ফলে পবিত্র ঈদের নির্মল আনন্দের ছোঁয়া তারা পায় না। অথচ মানুষ হিসাবে আমাদের উচিত, তাদেরও আনন্দের সে মিছিলে শামিল করা।

ইসলাম ও মানবতা কিন্তু সে কথাই বলে। ইসলাম গরিবের বন্ধু; তবে ধনীর শত্রু না। ইসলাম সহানুভূতির ভিত্তিতে ধনীকে গরিবের পাশে নিতে চায়। চায়, ধনী-গরিবের মাঝে সুসম্পর্ক ও হৃদ্যতা গড়ে তুলতে।

ইসলাম চায়, ধনীদের মতো গরিবকেও ঈদের পবিত্র আনন্দ মিছিলে শরিক করতে। তাই আল্লাহতায়ালা ধনীদের জন্য একান্ত অপরিহার্য করেছেন- জাকাত, সাদকাতুল ফিতর ও অন্যান্য দান-সাদকাহকে।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, আমি যে অর্থ জাকাত বা সাদকাতুল ফিতর হিসাবে গরিবকে দিচ্ছি, এতে আমি গরিবকে অনুগ্রহ করছি বা সে আমার আজ্ঞাবহ- এমনটি ভাবার কোনো অবকাশ নেই।

কারণ, জাকাত ও সাদকাতুল ফিতর গরিবের প্রাপ্য; তার অধিকার। আল্লাহ আমার কাছে তা গচ্ছিত রেখেছিলেন। জাকাত আর সাদকাতুল ফিতর হিসাবে তা প্রদান করে আমি দায়মুক্ত হলাম।

এদিকে ইঈিত করেই পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন- ‘তাদের সম্পদে নির্ধারিত হক রয়েছে প্রার্থী ও বঞ্চিতের। (সূরা মায়ারিজ, আয়াত-২৮)।

সাদকাতুল ফিতর। ফিতর অর্থ হলো- রোজা ভঙ্গ করা বা রোজা না রাখা; আর সাদকা অর্থ দান। তা হলো সাদকাতুল ফিতরের অর্থ দাঁড়াচ্ছে, রোজা ভঙ্গ করার দান।

অর্থাৎ এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের চাঁদ উদিত হলে আমি সে রোজা ভঙ্গ করছি, এ হিসাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ কিছু দান করাকে সাদকাতুল ফিতর বলে অবহিত করা হয়।

যে মুসলিম নর-নারীর কাছে ঈদের দিন নেসাবে জাকাত তথা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা এর মূল্য সমপরিমাণ টাকা-পয়সা, মালামাল নিত্যপ্রয়োজনের বেশি থাকবে, তার জন্য অপরিহার্য ন্যূনতম ১ কেজি ৬৩৩ গ্রাম গম বা তার মূল্য ঈদের দিন ঈদগায় যাওয়ার আগে গরিব-দুঃখীকে ফিতরা হিসাবে প্রদান করা।

হাদিসে ঈদগায়ে যাওয়ার আগে আদায় করার কথা বলা হয়েছে। কেউ যদি আগে আদায় না করতে পারে, তাহলে ঈদের পরে হলেও তাকে আদায় করতে হবে। আদায় পূর্ব পর্যন্ত ওয়াজিব হিসাবে তার জিম্মায় থেকে যাবে।

গমের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আমাদের দেশে এবার ফিতরা নির্ধারণ করেছে ন্যূনতম ৭০ টাকা আর সর্বোচ্চ ২৩৩০ টাকা।

হাদিসে সাদকাতুল ফিতর সম্পর্কে শুকনা খেজুর, কিশমিশ ও গমের কথা এসেছে। আমরা বলেছি, ইসলাম গরিবের বন্ধু; তবে ধনীর শত্রু নয়। সহানুভূতির ভিত্তিতে ধনীকে গরিবের পাশে নিতে চায়।
এ মূলনীতির আলোকে হাদিস ও ফিকহে হানাফিতে সাদকাতুল ফিতর সম্পর্কে যা বর্ণনা করা হয়েছে তাতে আমরা উচ্চবিত্তের জন্য সাড়ে তিন সের কিশমিশ ও মধ্যবিত্তের জন্য সাড়ে তিন সের শুকনো খেজুরের বাজারমূল্যের পরিমাণকে সাদকায়ে ফিতরা ঘোষণা দিতে পারি এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত যাদের উপর শুধু ফিতরা ওয়াজিব (জাকাত নয়) তাদের জন্য গম বা আটার ১ কেজি ৬৩৩ গ্রাম মূল্যের সমপরিমাণ অর্থকে আমরা সর্বনিম্ন সাদকায়ে ফিতর ঘোষণা করতে পারি।

এর ফলে বিরাট অঙ্কের বাধ্যতামূলক প্রদেয় অর্থ ঢাকা শহরসহ সারা দেশের ধনীদের হাত থেকে অভাবী নিঃস্বজনদের হাতে পৌঁছবে এবং ঈদটা তাদের জন্য অনেকাংশে অর্থবহ হবে।

গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সাদকাতুল ফিতর এর মাঝে দুটো বিষয় রয়েছে। এর একটা ফিতরা প্রদানকারীর সঙ্গে সম্পৃক্ত; অপরটি গৃহীতা অর্থাৎ গরিব-দুঃখীর সঙ্গে। প্রথম দিকটার ব্যাপারে মনীষীরা মতামত ব্যক্ত করেছেন এভাবে, পূর্ণ এক মাস আমি সিয়াম সাধনা করলাম।

এ সাধনা যেভাবে আমার করা দরকার ছিল, সেভাবে আমি করতে পারিনি- এতে ক্রটি-বিচ্যুতি হয়েছে। সাদকাতুল ফিতর সে ক্রটি-বিচ্যুতির ক্ষতিপূরক বা কাফফারা হিসাবে কাজ করে।

তাই অনেকে মতব্যক্ত করেছেন, যাদের ওপর ফিতরা ওয়াজিব না তাদের জন্যও কিছু দান-সদকা করা উচিত, কারণ কোনো মানুষই এটির ঊর্ধ্বে নয়।

দ্বিতীয় দিকটা হলো, গরিব-দুঃখীর প্রতি সাহায্য সহানুভূতির দিক। এ দিকটা অত্যন্ত তাৎপর্যময়, গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক। ঈদের দিন আমাদের যাদের অর্থবিত্ত রয়েছে, রয়েছে সামর্থ্য তারা তো নতুন নতুন বাহারি পোষাক, দামি পারফিউম, সুগন্ধি লাগিয়ে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ঈদগাহে যাব।
বাড়িতে রান্না হবে কোরমা-পোলাও ও নানা রকমের পায়েস-ফিন্নি। কিন্তু আমার প্রতিবেশী যার গায়ে শত তালির ছেঁড়াফাটা পোষাক, দু’বেলা পেটভরে খেতে পায় না, রোগে নাই পথ্য, এ বিশাল পৃথিবীতে তার নেই এতটুকু মাথা গুজার ঠাঁই, সে কী করে মুসলিম উম্মাহর এ আনন্দ মিছিলে শরিক হবে। সে তো ক্ষুধা-ক্লিষ্টে কাতর; তার তো নেই আনন্দ ভোগের কোনো উপকরণ।

কিন্তু মানুষ হিসাবে তারও তো আনন্দ ভোগের অধিকার রয়েছে। অধিকার আছে ঈদগায়ে অন্য পাঁচজনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানোর। এসব দুঃখীজন যেন ঈদের দিন কিছুটা হলেও আনন্দ উপভোগ করতে পারে, ঈদের দিন অন্তত দু’বেলা পেট ভরে খেতে পারে- এ জন্য আল্লাহতায়ালা জাকাত, সাদকাতুল ফিতর ও অন্যান্য দান-অনুদানকে বিত্তশালীদের জন্য অপরিহার্য করেছেন।

নিজে কেবল আনন্দে মেতে উঠলাম গরিব-দুঃখী আত্মীয়স্বজন-প্রতিবেশীর খোঁজ নিলাম না। তার প্রতি সাহয্যের হাতকে করলাম না প্রসারিত, সে আনন্দে সুখ নেই। বরং তা বিবেক ও মানবতাবিরোধী।

আমার নিজের বিলাস কিছুটা কমিয়ে অন্য আরও পাঁচজনকে যদি কিছুটা আনন্দ দিতে পারি, তাতেই রয়েছে প্রকৃত আনন্দ ও সুখ।

এবারের ঈদে আমরা জাকাত, সাদকাতুল ফিতর ও অন্য দান-অনুদানের মাধ্যমে গরিব-দুঃখীদেরও যদি ঈদের আনন্দে শরিক করতে পারি, তাহলে ঈদ হবে আরও আনন্দঘন ও অর্থবহ।

এবারের ঈদ বয়ে আনুক ধনী-গরিব সবার জন্য আনন্দ ও খুশির বারতা। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক: মুহাদ্দিস, খতিব ও প্রবন্ধকার


সদকাতুল ফিতর আদায়ে ঈদ হয় আনন্দঘন

 মুফতি জহির ইবনে মুসলিম 
১৩ মে ২০২১, ০৪:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পূর্ণ এক মাস সিয়াম সাধনার পর প্রতি বছর মুসলিম উম্মাহর দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয় আনন্দময় দিন ঈদুল ফিতর। 

কিন্তু আমাদের আর্থসামাজিক পরিস্থিতির দরুন সে আনন্দ ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই সমানভাবে ভোগ করতে পারে না। বিত্তশালীরাই সাধারণত আনন্দ ফুর্তিতে মেতে উঠে। 

বহু হতদরিদ্র পরিবার সেদিনও ক্ষুধা-ক্লিষ্টে দিন কাটায়, ফলে পবিত্র ঈদের নির্মল আনন্দের ছোঁয়া তারা পায় না। অথচ মানুষ হিসাবে আমাদের উচিত, তাদেরও আনন্দের সে মিছিলে শামিল করা। 

ইসলাম ও মানবতা কিন্তু সে কথাই বলে। ইসলাম গরিবের বন্ধু; তবে ধনীর শত্রু না। ইসলাম সহানুভূতির ভিত্তিতে ধনীকে গরিবের পাশে নিতে চায়। চায়, ধনী-গরিবের মাঝে সুসম্পর্ক ও হৃদ্যতা গড়ে তুলতে। 

ইসলাম চায়, ধনীদের মতো গরিবকেও ঈদের পবিত্র আনন্দ মিছিলে শরিক করতে। তাই আল্লাহতায়ালা ধনীদের জন্য একান্ত অপরিহার্য করেছেন- জাকাত, সাদকাতুল ফিতর ও অন্যান্য দান-সাদকাহকে। 

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, আমি যে অর্থ জাকাত বা সাদকাতুল ফিতর হিসাবে গরিবকে দিচ্ছি, এতে আমি গরিবকে অনুগ্রহ করছি বা সে আমার আজ্ঞাবহ- এমনটি ভাবার কোনো অবকাশ নেই। 

কারণ, জাকাত ও সাদকাতুল ফিতর গরিবের প্রাপ্য; তার অধিকার। আল্লাহ আমার কাছে তা গচ্ছিত রেখেছিলেন। জাকাত আর সাদকাতুল ফিতর হিসাবে তা প্রদান করে আমি দায়মুক্ত হলাম।

এদিকে ইঈিত করেই পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন- ‘তাদের সম্পদে নির্ধারিত হক রয়েছে প্রার্থী ও বঞ্চিতের। (সূরা মায়ারিজ, আয়াত-২৮)।

সাদকাতুল ফিতর। ফিতর অর্থ হলো- রোজা ভঙ্গ করা বা রোজা না রাখা; আর সাদকা অর্থ দান। তা হলো সাদকাতুল ফিতরের অর্থ দাঁড়াচ্ছে, রোজা ভঙ্গ করার দান। 

অর্থাৎ এক মাস রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের চাঁদ উদিত হলে আমি সে রোজা ভঙ্গ করছি, এ হিসাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ কিছু দান করাকে সাদকাতুল ফিতর বলে অবহিত করা হয়। 

যে মুসলিম নর-নারীর কাছে ঈদের দিন নেসাবে জাকাত তথা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা এর মূল্য সমপরিমাণ টাকা-পয়সা, মালামাল নিত্যপ্রয়োজনের বেশি থাকবে, তার জন্য অপরিহার্য ন্যূনতম ১ কেজি ৬৩৩ গ্রাম গম বা তার মূল্য ঈদের দিন ঈদগায় যাওয়ার আগে গরিব-দুঃখীকে ফিতরা হিসাবে প্রদান করা। 

হাদিসে ঈদগায়ে যাওয়ার আগে আদায় করার কথা বলা হয়েছে। কেউ যদি আগে আদায় না করতে পারে, তাহলে ঈদের পরে হলেও তাকে আদায় করতে হবে। আদায় পূর্ব পর্যন্ত ওয়াজিব হিসাবে তার জিম্মায় থেকে যাবে। 

গমের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আমাদের দেশে এবার ফিতরা নির্ধারণ করেছে ন্যূনতম ৭০ টাকা আর সর্বোচ্চ ২৩৩০ টাকা। 

হাদিসে সাদকাতুল ফিতর সম্পর্কে শুকনা খেজুর, কিশমিশ ও গমের কথা এসেছে। আমরা বলেছি, ইসলাম গরিবের বন্ধু; তবে ধনীর শত্রু নয়। সহানুভূতির ভিত্তিতে ধনীকে গরিবের পাশে নিতে চায়। 
এ মূলনীতির আলোকে হাদিস ও ফিকহে হানাফিতে সাদকাতুল ফিতর সম্পর্কে যা বর্ণনা করা হয়েছে তাতে আমরা উচ্চবিত্তের জন্য সাড়ে তিন সের কিশমিশ ও মধ্যবিত্তের জন্য সাড়ে তিন সের শুকনো খেজুরের বাজারমূল্যের পরিমাণকে সাদকায়ে ফিতরা ঘোষণা দিতে পারি এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত যাদের উপর শুধু ফিতরা ওয়াজিব (জাকাত নয়) তাদের জন্য গম বা আটার ১ কেজি ৬৩৩ গ্রাম মূল্যের সমপরিমাণ অর্থকে আমরা সর্বনিম্ন সাদকায়ে ফিতর ঘোষণা করতে পারি। 

এর ফলে বিরাট অঙ্কের বাধ্যতামূলক প্রদেয় অর্থ ঢাকা শহরসহ সারা দেশের ধনীদের হাত থেকে অভাবী নিঃস্বজনদের হাতে পৌঁছবে এবং ঈদটা তাদের জন্য অনেকাংশে অর্থবহ হবে। 

গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সাদকাতুল ফিতর এর মাঝে দুটো বিষয় রয়েছে। এর একটা ফিতরা প্রদানকারীর সঙ্গে সম্পৃক্ত; অপরটি গৃহীতা অর্থাৎ গরিব-দুঃখীর সঙ্গে। প্রথম দিকটার ব্যাপারে মনীষীরা মতামত ব্যক্ত করেছেন এভাবে, পূর্ণ এক মাস আমি সিয়াম সাধনা করলাম। 

এ সাধনা যেভাবে আমার করা দরকার ছিল, সেভাবে আমি করতে পারিনি- এতে ক্রটি-বিচ্যুতি হয়েছে। সাদকাতুল ফিতর সে ক্রটি-বিচ্যুতির ক্ষতিপূরক বা কাফফারা হিসাবে কাজ করে। 

তাই অনেকে মতব্যক্ত করেছেন, যাদের ওপর ফিতরা ওয়াজিব না তাদের জন্যও কিছু দান-সদকা করা উচিত, কারণ কোনো মানুষই এটির ঊর্ধ্বে নয়। 

দ্বিতীয় দিকটা হলো, গরিব-দুঃখীর প্রতি সাহায্য সহানুভূতির দিক। এ দিকটা অত্যন্ত তাৎপর্যময়, গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক। ঈদের দিন আমাদের যাদের অর্থবিত্ত রয়েছে, রয়েছে সামর্থ্য তারা তো নতুন নতুন বাহারি পোষাক, দামি পারফিউম, সুগন্ধি লাগিয়ে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ঈদগাহে যাব। 
বাড়িতে রান্না হবে কোরমা-পোলাও ও নানা রকমের পায়েস-ফিন্নি। কিন্তু আমার প্রতিবেশী যার গায়ে শত তালির ছেঁড়াফাটা পোষাক, দু’বেলা পেটভরে খেতে পায় না, রোগে নাই পথ্য, এ বিশাল পৃথিবীতে তার নেই এতটুকু মাথা গুজার ঠাঁই, সে কী করে মুসলিম উম্মাহর এ আনন্দ মিছিলে শরিক হবে। সে তো ক্ষুধা-ক্লিষ্টে কাতর; তার তো নেই আনন্দ ভোগের কোনো উপকরণ। 

কিন্তু মানুষ হিসাবে তারও তো আনন্দ ভোগের অধিকার রয়েছে। অধিকার আছে ঈদগায়ে অন্য পাঁচজনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানোর। এসব দুঃখীজন যেন ঈদের দিন কিছুটা হলেও আনন্দ উপভোগ করতে পারে, ঈদের দিন অন্তত দু’বেলা পেট ভরে খেতে পারে- এ জন্য আল্লাহতায়ালা জাকাত, সাদকাতুল ফিতর ও অন্যান্য দান-অনুদানকে বিত্তশালীদের জন্য অপরিহার্য করেছেন। 

নিজে কেবল আনন্দে মেতে উঠলাম গরিব-দুঃখী আত্মীয়স্বজন-প্রতিবেশীর খোঁজ নিলাম না। তার প্রতি সাহয্যের হাতকে করলাম না প্রসারিত, সে আনন্দে সুখ নেই। বরং তা বিবেক ও মানবতাবিরোধী। 

আমার নিজের বিলাস কিছুটা কমিয়ে অন্য আরও পাঁচজনকে যদি কিছুটা আনন্দ দিতে পারি, তাতেই রয়েছে প্রকৃত আনন্দ ও সুখ। 

এবারের ঈদে আমরা জাকাত, সাদকাতুল ফিতর ও অন্য দান-অনুদানের মাধ্যমে গরিব-দুঃখীদেরও যদি ঈদের আনন্দে শরিক করতে পারি, তাহলে ঈদ হবে আরও আনন্দঘন ও অর্থবহ। 

এবারের ঈদ বয়ে আনুক ধনী-গরিব সবার জন্য আনন্দ ও খুশির বারতা। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক: মুহাদ্দিস, খতিব ও প্রবন্ধকার


 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন