বিশ্বময় প্রবাহিত হোক শান্তির সুবাতাস
jugantor
বিশ্বময় প্রবাহিত হোক শান্তির সুবাতাস

  মাহমুদ আহমদ  

১৪ মে ২০২১, ০৯:২৫:০৯  |  অনলাইন সংস্করণ

আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর। যদিও বিশ্বময় মহামারি করোনার ফলে সবাই এক বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় পার করছে, তারপরও বিশ্বমুসলিম উম্মাহ অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে গত বছরের মত এবারও ঈদুল ফিতরের জামাত মসজিদে পড়তে হচ্ছে। তাই মসজিদেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবেন এবং বিশ্বমুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে দোয়াও করবেন।

আল্লাহপাকের খাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের একমাস সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে যে ঈদ আসে তা হলো ঈদুল ফিতর।

একজন রোজাদারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী মাসব্যাপী রোজা রাখতে আল্লাহ তাকে তাওফিক দিয়েছেন। এ খুশি প্রকাশ করতেই রমজান মাস শেষ করে শাওয়াল মাসের ১লা তারিখে ঈদের আনন্দে মিলিত হয়।

আর এই দিনটির মাধ্যমে আল্লাহপাক মুমিনের জন্য সকল বৈধ খাবার ও পানীয় ও কাজ কর্ম যা কিনা রোজার কারণে বিরত রেখে ছিলেন তার অনুমতি প্রদান করেন।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আপনারা আবেগের বশবর্তী হয়ে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে যাবেন না। অনেকের কোনো বাহ্যিক লক্ষণ না থাকায় আপনি বুঝতে পারবেন না আপনার পাশের ব্যক্তিটিই করোনাভাইরাস বহন করছে। এরফলে আপনি যেমন করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে পড়বেন, তেমনি আপনার নিকটাত্মীয় বা পাড়া প্রতিবেশীকে ঝুঁকির মুখে ফেলবেন। মনে রাখবেন, সবার উপরে মানুষের জীবন। বেঁচে থাকলে আসছে বছর আবার আমরা আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারবো।’ তাই আমাদের উচিত হবে যার যার অবস্থানে থেকে পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপন করা।

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। মুসলিম উম্মাহ বছরে দু’টি ঈদ পালন করে থাকে আর তা হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। একটি আসে পবিত্র মাহে রমজানে রোজা পালনের মাধ্যমে আর অপরটি আসে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান কোরবানির স্মৃতিরূপে পশু কোরবানির মাধ্যমে।
মুসলিম উম্মাহ ঈদ আল্লাহপাকের শোকরানা স্বরূপ আদায় করে থাকেন। একজন আল্লাহপ্রেমিক মাত্রই তার সকল আনন্দ খোদার সন্তুষ্টির সাথেই যুক্ত করে। তাই একজন প্রকৃত আল্লাহপ্রেমিক খোদার সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ পেলে শোকরানা আদায় করে থাকে আর ঈদ আমাদের সেই শোকরানা আদায়ের সুযোগ করে দেয়। তাই সকলে মিলে-মিশে শোকরানা স্বরূপ দুরাকাত নামাজের মাধ্যমে ঈদ পালন করে মুসলিম উম্মাহ।

অথচ এই ঈদের দিনেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নিরিহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ আজ আতংকগ্রস্থ।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।

বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো, নাজরান বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

অপর দিকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছেই। বৃহস্পতিবার (১৩ মে) দেশটিতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। মুসলিমদের পবিত্র উৎসবের এই দিনটিতেও হামলা বন্ধ রাখেনি ইসরাইলি বাহিনী।

এমন দুর্বিপাকে নিপতিত মানুষদের জন্য এ ঈদ প্রকৃত ঈদ হতে পারে না। সবার হৃদয়ে যখন প্রশান্তি লাভ হবে, হৃদয় থেকে যখন আনন্দ বের হবে তখনই হবে প্রকৃত ঈদ।

আমাদের প্রার্থনা থাকবে, এই ঈদ সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনুক আর দূর হোক সব অশান্তি। ধর্মের নামেও বন্ধ হোক সব নৈরাজ্য আর বাড়াবাড়ি। বিশ্বময় শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ তাদের প্রকৃত ঈদের স্বাদ উপভোগের সৌভাগ্য লাভ করুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেষ করছি নজরুলের কবিতার পঙক্তি উল্লেখ করে। তিনি ইসলামি সাম্যবাদী চেতনাকে সর্বজনীন রূপ দেবার চেষ্টা করেছেন তার বিভিন্ন কবিতায়।

তার ‘নতুন চাঁদ’ কবিতায়ও বিষয়টি এভাবে ব্যক্ত করেছেন-সাম্যেও রাহে আল্লাহর/মুয়াজ্জিনেরা ডাকিবে ফের.../রবে না ধর্ম জাতির ভেদ/রবে না আত্ম-কলহ ক্লেদ।

সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com

বিশ্বময় প্রবাহিত হোক শান্তির সুবাতাস

 মাহমুদ আহমদ 
১৪ মে ২০২১, ০৯:২৫ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর। যদিও বিশ্বময় মহামারি করোনার ফলে সবাই এক বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় পার করছে, তারপরও বিশ্বমুসলিম উম্মাহ অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন।  

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে গত বছরের মত এবারও ঈদুল ফিতরের জামাত মসজিদে পড়তে হচ্ছে। তাই মসজিদেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবেন এবং বিশ্বমুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে দোয়াও করবেন।

আল্লাহপাকের খাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের একমাস সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে যে ঈদ আসে তা হলো ঈদুল ফিতর। 

একজন রোজাদারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী মাসব্যাপী রোজা রাখতে আল্লাহ তাকে তাওফিক দিয়েছেন। এ খুশি প্রকাশ করতেই রমজান মাস শেষ করে শাওয়াল মাসের ১লা তারিখে ঈদের আনন্দে মিলিত হয়। 

আর এই দিনটির মাধ্যমে আল্লাহপাক মুমিনের জন্য সকল বৈধ খাবার ও পানীয় ও কাজ কর্ম যা কিনা রোজার কারণে বিরত রেখে ছিলেন তার অনুমতি প্রদান করেন। 

ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আপনারা আবেগের বশবর্তী হয়ে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে যাবেন না। অনেকের কোনো বাহ্যিক লক্ষণ না থাকায় আপনি বুঝতে পারবেন না আপনার পাশের ব্যক্তিটিই করোনাভাইরাস বহন করছে। এরফলে আপনি যেমন করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে পড়বেন, তেমনি আপনার নিকটাত্মীয় বা পাড়া প্রতিবেশীকে ঝুঁকির মুখে ফেলবেন। মনে রাখবেন, সবার উপরে মানুষের জীবন। বেঁচে থাকলে আসছে বছর আবার আমরা আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারবো।’ তাই আমাদের উচিত হবে যার যার অবস্থানে থেকে পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপন করা।

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। মুসলিম উম্মাহ বছরে দু’টি ঈদ পালন করে থাকে আর তা হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। একটি আসে পবিত্র মাহে রমজানে রোজা পালনের মাধ্যমে আর অপরটি আসে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান কোরবানির স্মৃতিরূপে পশু কোরবানির মাধ্যমে। 
মুসলিম উম্মাহ ঈদ আল্লাহপাকের শোকরানা স্বরূপ আদায় করে থাকেন। একজন আল্লাহপ্রেমিক মাত্রই তার সকল আনন্দ খোদার সন্তুষ্টির সাথেই যুক্ত করে। তাই একজন প্রকৃত আল্লাহপ্রেমিক খোদার সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ পেলে শোকরানা আদায় করে থাকে আর ঈদ আমাদের সেই শোকরানা আদায়ের সুযোগ করে দেয়। তাই সকলে মিলে-মিশে শোকরানা স্বরূপ দুরাকাত নামাজের মাধ্যমে ঈদ পালন করে মুসলিম উম্মাহ। 

অথচ এই ঈদের দিনেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নিরিহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ আজ আতংকগ্রস্থ। 

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।

বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো, নাজরান বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

অপর দিকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছেই। বৃহস্পতিবার (১৩ মে) দেশটিতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। মুসলিমদের পবিত্র উৎসবের এই দিনটিতেও হামলা বন্ধ রাখেনি ইসরাইলি বাহিনী।

এমন দুর্বিপাকে নিপতিত মানুষদের জন্য এ ঈদ প্রকৃত ঈদ হতে পারে না। সবার হৃদয়ে যখন প্রশান্তি লাভ হবে, হৃদয় থেকে যখন আনন্দ বের হবে তখনই হবে প্রকৃত ঈদ। 

আমাদের প্রার্থনা থাকবে, এই ঈদ সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনুক আর দূর হোক সব অশান্তি। ধর্মের নামেও বন্ধ হোক সব নৈরাজ্য আর বাড়াবাড়ি। বিশ্বময় শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ তাদের প্রকৃত ঈদের স্বাদ উপভোগের সৌভাগ্য লাভ করুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেষ করছি নজরুলের কবিতার পঙক্তি উল্লেখ করে। তিনি ইসলামি সাম্যবাদী চেতনাকে সর্বজনীন রূপ দেবার চেষ্টা করেছেন তার বিভিন্ন কবিতায়। 

তার ‘নতুন চাঁদ’ কবিতায়ও বিষয়টি এভাবে ব্যক্ত করেছেন-সাম্যেও রাহে আল্লাহর/মুয়াজ্জিনেরা ডাকিবে ফের.../রবে না ধর্ম জাতির ভেদ/রবে না আত্ম-কলহ ক্লেদ। 

সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন