বেকারত্ব দূরীকরণে কোরআনের আমল
jugantor
বেকারত্ব দূরীকরণে কোরআনের আমল

  ফরহাদ খান নাঈম  

০৮ জুন ২০২১, ১৩:৫২:১৮  |  অনলাইন সংস্করণ

বেকারত্ব দূরীকরণে কোরআনের আমল

টিকে থাকার লড়াইয়ে শিক্ষিত যুবক মাত্রই একটি ভালো চাকরির সন্ধানে ছুটে। অনেকে বিভিন্ন মাধ্যমে খুব সহজেই যুৎসই চাকরি বাগিয়ে নিতে পারে, আবার চাকরির সন্ধানে ঘুরে ঘুরে বয়স হারিয়ে ফেলার দৃষ্টান্তও অপ্রতুল নয়।

প্রতি বছর যে পরিমাণ ছাত্রছাত্রী ডিগ্রি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পড়াশোনার জীবন শেষ করছে, সে অনুপাতে কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না। ফলে ছাত্রজীবন শেষ করে একটি সুন্দর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশ করা অধিকাংশের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না। এতে দিন দিন বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা।

সময়মতো ও চাহিদামতো চাকরি খুঁজে পাওয়ার জন্য পরিশ্রমের পাশাপাশি ইসলাম আমাদের কিছু আমল শিক্ষা দিয়েছে; যেগুলো নিয়মিত পালনের মাধ্যমে আল্লাহ চান তো সহজেই ভালো চাকরির ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

আজকাল ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন পুস্তকে চাকরি পাওয়ার অনেক আমলের কথা দেখা যায়, যেগুলোর অধিকাংশরই কোনো দলিল নেই। এসব আমল করার ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকতে হবে। অন্যথায় ভুল আমল করার জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।

চাকরি পাওয়ার জন্য নিম্নোক্ত দোয়াটি পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে-
فَسَقَىٰ لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّىٰٓ إِلَى ٱلظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّى لِمَآ أَنزَلْتَ إِلَىَّ مِنْ خَيْرٍۢ فَقِيرٌ

উচ্চারণ: ফাসাক্বা লাহুমা ছুম্মা তাওয়াল্লা ইলাজজিল্লি ফাক্বালা রাব্বি ইন্নি লিমা আংযালতা ইলাইয়্যা মিন খায়রিং ফাক্বির।

অর্থ: তখন মুসা তাদের পক্ষে (পশুগুলোকে) পানি পান করিয়ে দিল। তার পর ছায়ায় ফিরে গেল এবং বলল— ‘হে আমার রব, নিশ্চয়ই আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই নাজিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী’। (সুরা কাসাস: ২৪)

ফেরাউন বাহিনী কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে মুসা (আ.) যখন ক্লান্ত-শ্রান্ত ও ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখন তিনি দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে এ দোয়া করেন।

এই দোয়া করার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহতায়ালা মুসার (আ.) জন্য পরবর্তী ১০ বছরের সম্মানজনক জীবিকার ব্যবস্থা করে দেন। শুধু তাই নয়, কর্মসংস্থানের পাশাপাশি একজন সুন্দরী ও নেককার স্ত্রীও পেয়ে যান তিনি।

এর পর যখনই হজরত মুসা (আ.) খুব একাকি ও বিষণ্নতা অনুভব করতেন, তখনই তিনি এ আয়াতটি বেশি বেশি পাঠ করতেন।

অনেকেই এ দোয়াটি দ্রুত বিবাহ করতে পারার জন্য আমল করে থাকেন, তবে এই দোয়াটি দ্রুত বিবাহ হওয়ার চেয়ে দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হওয়ার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকরী।

দ্রুত চাকরি লাভের জন্য ওই দোয়ার পাশাপাশি আরেকটি ওয়াজিফা আদায় করা যেতে পারে। আর তা হলো— প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ‘ইয়া ওয়াহ্হাব’ পাঠ করা। ‘ওয়াহ্হাব’ আল্লাহতায়ালার গুণবাচক নামসমূহের একটি; এর অর্থ হলো— সর্বদাতা অর্থাৎ যিনি সকিছু দান করেন।

কোরআনে উল্লিখিত উপরোক্ত দোয়া ও শেষোক্ত ওয়াজিফাটি পাঠ করার কোনো নির্ধারিত সংখ্যা নেই। প্রতিদিন নিয়ম করে যতবার ইচ্ছা এই আমলগুলো করতে হবে। আমলের পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রমও চালিয়ে যেতে হবে। ইনশাআল্লাহ ভালো ফল পাওয়া যাবে।

বেকারত্ব দূরীকরণে কোরআনের আমল

 ফরহাদ খান নাঈম 
০৮ জুন ২০২১, ০১:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বেকারত্ব দূরীকরণে কোরআনের আমল
ছবি: সংগৃহীত

টিকে থাকার লড়াইয়ে শিক্ষিত যুবক মাত্রই একটি ভালো চাকরির সন্ধানে ছুটে। অনেকে বিভিন্ন মাধ্যমে খুব সহজেই যুৎসই চাকরি বাগিয়ে নিতে পারে, আবার চাকরির সন্ধানে ঘুরে ঘুরে বয়স হারিয়ে ফেলার দৃষ্টান্তও অপ্রতুল নয়। 

প্রতি বছর যে পরিমাণ ছাত্রছাত্রী ডিগ্রি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পড়াশোনার জীবন শেষ করছে, সে অনুপাতে কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না। ফলে ছাত্রজীবন শেষ করে একটি সুন্দর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশ করা অধিকাংশের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না। এতে দিন দিন বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। 

সময়মতো ও চাহিদামতো চাকরি খুঁজে পাওয়ার জন্য পরিশ্রমের পাশাপাশি ইসলাম আমাদের কিছু আমল শিক্ষা দিয়েছে; যেগুলো নিয়মিত পালনের মাধ্যমে আল্লাহ চান তো সহজেই ভালো চাকরির ব্যবস্থা হয়ে যাবে। 

আজকাল ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন পুস্তকে চাকরি পাওয়ার অনেক আমলের কথা দেখা যায়, যেগুলোর অধিকাংশরই কোনো দলিল নেই। এসব আমল করার ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকতে হবে। অন্যথায় ভুল আমল করার জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।

 চাকরি পাওয়ার জন্য নিম্নোক্ত দোয়াটি পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে- 
فَسَقَىٰ لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّىٰٓ إِلَى ٱلظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّى لِمَآ أَنزَلْتَ إِلَىَّ مِنْ خَيْرٍۢ فَقِيرٌ

উচ্চারণ: ফাসাক্বা লাহুমা ছুম্মা তাওয়াল্লা ইলাজজিল্লি ফাক্বালা রাব্বি ইন্নি লিমা আংযালতা ইলাইয়্যা মিন খায়রিং ফাক্বির।

অর্থ: তখন মুসা তাদের পক্ষে (পশুগুলোকে) পানি পান করিয়ে দিল। তার পর ছায়ায় ফিরে গেল এবং বলল— ‘হে আমার রব, নিশ্চয়ই আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই নাজিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী’। (সুরা কাসাস: ২৪) 

ফেরাউন বাহিনী কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে মুসা (আ.) যখন ক্লান্ত-শ্রান্ত ও ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখন তিনি দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে এ দোয়া করেন। 

এই দোয়া করার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহতায়ালা মুসার (আ.) জন্য পরবর্তী ১০ বছরের সম্মানজনক জীবিকার ব্যবস্থা করে দেন। শুধু তাই নয়, কর্মসংস্থানের পাশাপাশি একজন সুন্দরী ও নেককার স্ত্রীও পেয়ে যান তিনি। 

এর পর যখনই হজরত মুসা (আ.) খুব একাকি ও বিষণ্নতা অনুভব করতেন, তখনই তিনি এ আয়াতটি বেশি বেশি পাঠ করতেন।

অনেকেই এ দোয়াটি দ্রুত বিবাহ করতে পারার জন্য আমল করে থাকেন, তবে এই দোয়াটি দ্রুত বিবাহ হওয়ার চেয়ে দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হওয়ার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকরী। 

দ্রুত চাকরি লাভের জন্য ওই দোয়ার পাশাপাশি আরেকটি ওয়াজিফা আদায় করা যেতে পারে। আর তা হলো— প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ‘ইয়া ওয়াহ্হাব’ পাঠ করা। ‘ওয়াহ্হাব’ আল্লাহতায়ালার গুণবাচক নামসমূহের একটি; এর অর্থ হলো— সর্বদাতা অর্থাৎ যিনি সকিছু দান করেন। 

কোরআনে উল্লিখিত উপরোক্ত দোয়া ও শেষোক্ত ওয়াজিফাটি পাঠ করার কোনো নির্ধারিত সংখ্যা নেই। প্রতিদিন নিয়ম করে যতবার ইচ্ছা এই আমলগুলো করতে হবে। আমলের পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রমও চালিয়ে যেতে হবে। ইনশাআল্লাহ ভালো ফল পাওয়া যাবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন