যে রোজায় আগের ও পরের বছরের সব গুনাহ মাফ
jugantor
যে রোজায় আগের ও পরের বছরের সব গুনাহ মাফ

  মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম  

১৯ জুলাই ২০২১, ১২:২০:৫৫  |  অনলাইন সংস্করণ

যে রোজায় আগের ও পরের বছরের সব গুনাহ মাফ

জিলহজের প্রথম দশ দিন আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য বিশেষ উপহার। এ সময়ের রাত-দিন সবইঅতি বরকতপূর্ণ।

এই দশ দিনের আমল ও ইবাদত আল্লাহর কাছে বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি প্রিয়। কুরআন ও হাদিসের অসংখ্য বর্ণনায় জিলহজের দশ দিনের আমল-ইবাদতের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

জিলহজ মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে দশ তারিখ পর্যন্ত যতদিন সম্ভব নফল রোজা রাখা আর রাতের বেলা বেশি বেশি ইবাদত করা একজন সত্যিকার মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

এই দিনগুলোতে নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইস্তিগফার ও ক্ষমা-প্রার্থনা এবং কান্নাকাটির মাধ্যমে রাত কাটানো কিংবা যতটুকু সম্ভব ইবাদত করা উচিত। পুরো নয়দিন রোজা না রাখতে পারলেও আরাফার দিনে রোজা রাখা খুবই উত্তম।

আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, এ রোজা তার আগের ও পরের বছরের গুনাহ মুছে ফেলবে।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৭৪০)

হযরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিলহজের নবম দিন সিয়াম পালন করতেন এবং সিয়াম পালন করতেন আশুরার দিনে। (সুনানে আবু দাউদ, নাসায়ী, মুসনাদে আহমাদ)

বিখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা মুবারকপুরী রহ. বলেছেন- হাফসা (রা.)-এর এ বর্ণনায় নবীজি জিলহজের নবম দিন রোজা রাখতেন; এটা সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে এবং এই দিনটিই ‘ইয়াওমে আরাফা’ বা আরাফার দিন। (মিন্নাতুল মুনইম শরহু সহীহ মুসলিম ২/২১১)

এই গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো আমাদের জন্য অতীব জরুরি। জাগতিক পরীক্ষার দিনগুলোতে যদি সবচেয়ে ভালো ফলাফল অর্জন করার লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে পারি; তবে কেন আখেরাতের পরীক্ষার জন্য এমন মাহাত্ম্যপূর্ণ দিনগুলোতে সর্বাধিক প্রচেষ্টা করতে পারব না?

এ দিনগুলোতে আমল করার সওয়াব তো বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক অনেক বেশি। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জিলহজের দশ দিনের ইবাদত আল্লাহর কাছে অন্যান্য দিনের ইবাদতের তুলনায় বেশি প্রিয়। এ মাসের প্রত্যেক দিনের রোজা এক বছরের রোজার মতো, আর প্রত্যেক রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের মতো।’ (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ৭৫৮)

চলতি বছরে বাংলাদেশের হিসেবে আরাফার দিনের রোজা মঙ্গলবার (২০ জুলাই)। এ দিনটির রোজায় রাসুলের ঘোষণা অনুযায়ী (সা.) আগের ও পরের বছরের গুনাহ মাফ হওয়ার ব্যাপারে আমরা আশা করতে করতি পারি।

যে রোজায় আগের ও পরের বছরের সব গুনাহ মাফ

 মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম 
১৯ জুলাই ২০২১, ১২:২০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
যে রোজায় আগের ও পরের বছরের সব গুনাহ মাফ
ছবি: সংগৃহীত

জিলহজের প্রথম দশ দিন আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য বিশেষ উপহার। এ সময়ের রাত-দিন সবই অতি বরকতপূর্ণ।  

এই দশ দিনের আমল ও ইবাদত আল্লাহর কাছে বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি প্রিয়। কুরআন ও হাদিসের অসংখ্য বর্ণনায় জিলহজের দশ দিনের আমল-ইবাদতের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

জিলহজ মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে দশ তারিখ পর্যন্ত যতদিন সম্ভব নফল রোজা রাখা আর রাতের বেলা বেশি বেশি ইবাদত করা একজন সত্যিকার মুমিনের বৈশিষ্ট্য।  

এই দিনগুলোতে নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইস্তিগফার ও ক্ষমা-প্রার্থনা এবং কান্নাকাটির মাধ্যমে রাত কাটানো কিংবা যতটুকু সম্ভব ইবাদত করা উচিত। পুরো নয়দিন রোজা না রাখতে পারলেও আরাফার দিনে রোজা রাখা খুবই উত্তম।

আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, এ রোজা তার আগের ও পরের বছরের গুনাহ মুছে ফেলবে।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৭৪০)

হযরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিলহজের নবম দিন সিয়াম পালন করতেন এবং সিয়াম পালন করতেন আশুরার দিনে।  (সুনানে আবু দাউদ, নাসায়ী, মুসনাদে আহমাদ)

বিখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা মুবারকপুরী রহ. বলেছেন- হাফসা (রা.)-এর এ বর্ণনায় নবীজি জিলহজের নবম দিন রোজা রাখতেন; এটা সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে এবং এই দিনটিই ‘ইয়াওমে আরাফা’ বা আরাফার দিন।  (মিন্নাতুল মুনইম শরহু সহীহ মুসলিম ২/২১১)

এই গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো আমাদের জন্য অতীব জরুরি। জাগতিক পরীক্ষার দিনগুলোতে যদি সবচেয়ে ভালো ফলাফল অর্জন করার লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে পারি; তবে কেন আখেরাতের পরীক্ষার জন্য এমন মাহাত্ম্যপূর্ণ দিনগুলোতে সর্বাধিক প্রচেষ্টা করতে পারব না? 

এ দিনগুলোতে আমল করার সওয়াব তো বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক অনেক বেশি। আবু হুরায়রা  (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জিলহজের দশ দিনের ইবাদত আল্লাহর কাছে অন্যান্য দিনের ইবাদতের তুলনায় বেশি প্রিয়। এ মাসের প্রত্যেক দিনের রোজা এক বছরের রোজার মতো, আর প্রত্যেক রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের মতো।’ (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ৭৫৮)

চলতি বছরে বাংলাদেশের হিসেবে আরাফার দিনের রোজা মঙ্গলবার (২০ জুলাই)। এ দিনটির রোজায় রাসুলের ঘোষণা অনুযায়ী (সা.) আগের ও পরের বছরের গুনাহ মাফ হওয়ার ব্যাপারে আমরা আশা করতে করতি পারি।   
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন