ত্যাগের তরে হৃদয় বাঁধি
jugantor
ত্যাগের তরে হৃদয় বাঁধি

  মাহমুদ আহমদ  

২০ জুলাই ২০২১, ২০:০২:১২  |  অনলাইন সংস্করণ

বাঁধি

বিশ্বময় মহামারি করোনার এ ভয়াবহ দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে মুসলিম উম্মাহ কুরবানি করছেন এবং করবেন।

কুরবানি শব্দটি ‘কুরবুন’ মূল ধাতু থেকে এসেছে। অর্থ হলো নৈকট্য লাভ করা, সান্নিধ্য অর্জন করা, প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা।

শরিয়তের পরিভাষায়- নির্দিষ্ট জন্তুকে একমাত্র আল্লাহতায়ালার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত নিয়মে তার নামে জবেহ করাই হলো কুরবানি।

এ ঈদকে কুরবানির ঈদ বলা হয়। কুরবানি প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এবং আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কুরবানির নিয়ম নির্ধারণ করেছি যাতে তারা সেই সব গবাদি পশুর ওপর আল্লাহর নাম নেয়, যেগুলো তিনি তাদেরকে দান করেছেন’ (সুরা হাজ : ৩৩)

প্রশ্ন হচ্ছে ইসলামে এই যে কুরবানির শিক্ষা তা কি কেবল একটি পশু কুরবানির মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়ে যায়? আসলে পশু কুরবানি করাটা হচ্ছে একটা প্রতীকী মাত্র।

আল্লাহতায়ালা চান, মানুষ যেন তার পশুসূলভ হৃদয়কে কুরবানি করে, তার আমিত্বকে কুরবানি আর তার নিজের সমস্ত চাওয়া পাওয়াকে আল্লাহর খাতিরে কুরবানি করে দেয়।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলতে হয়, ‘তোরা ভোগের পাত্র ফেলরে ছুঁড়ে, ত্যাগের তরে হৃদয় বাঁধ’।

মানুষ আল্লাহর জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবে, এই শিক্ষাই হজরত ইব্রাহিম (আ.) আমাদের জন্য রেখে গেছেন। আর ঈদুল আজহার মূল আহবান হল সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য প্রকাশ করা। বাহ্যিকতার সকল দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে এক আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া।

আমরা জানি, হজরত ইব্রাহিম (আ.)এর কুরবানির অনুসরণে মুসলিম উম্মাহ প্রতি বছর ১০ই জিলহজ তারিখে পশু কুরবানি করে থাকে।

ইসলামে কুরবানির প্রথা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুরো পরিবারের অসাধারণ কুরবানির ফলশ্রুতিতেই সদা জাগরুক রয়েছে। এই কুরবানি মূলত একটা বাহ্যিক আলামত ছিল, কিন্তু তাদের এটাই কামনা ছিল, এর মাধ্যমে যেন এই অতুলনীয় কুরবানির স্মৃতি চিরদিন বিরাজমান থাকে।

আল্লাহর সাথে প্রেমবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য আল্লাহপাক কুরবানি চান আর এ কুরবানির অর্থ কেবল পশু জবাহ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এ কুরবানি কারো জন্য নিজ প্রাণের কুরবানিও হতে পারে আবার কারো নিজ অন্তরে লুকায়িত পশুত্বের কুরবানিও হতে পারে।

আমরা যদি মনের পশুকে কুরবানি করতে পারি, কেবল তবেই আমরা আল্লাহতায়ালার প্রিয়দের অন্তর্ভূক্ত হতে পারব। এছাড়া বাহ্যিকভাবে যত বড় পশুই জবাহ করি না কেন, তা মহান আল্লাহপাকের কাছে মূল্য রাখে না।

আল্লাহতায়ালা মানুষের হৃদয় দেখে থাকেন। কে কোন নিয়তে কুরবানি করছেন এ সম্পর্কে আল্লাহপাক ভাল করেই অবগত আছেন।

যেভাবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন: ‘এগুলোর মাংস ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, বরং তার নিকট তোমাদের তাকওয়া অর্থাৎ খোদাভীতি পৌঁছে’ (সুরা হাজ : ৩৬)।

আসলে কুরবানি প্রদানকারী ব্যক্তির তাকওয়া আল্লাহতায়ালার সান্নিধ্যে পৌঁছে থাকে। তাই আমাদের এ কুরবানি যদি তাকওয়া শূন্য হয় তাহলে এগুলো হয়ে থাকে নিরেট গতানুগতিক প্রথা।

তাই আমাদেরকেও হজরত ইব্রাহিম (আ.)এর কুরবানির শিক্ষাকে নিজেদের অন্তরে ধারণ করে মহান আল্লাহপাকের সাথে গভীর এক ভালবাসার বন্ধন তৈরী করতে হবে আর এই বন্ধন আমরা তখনই সৃষ্টি করতে পারবো যখন আমাদের আত্মা হবে পবিত্র।

হে দয়াময় আল্লাহ! করোনাকালীন সময়ে আমাদের এ কুরবানি তুমি গ্রহণ করে তোমার সন্তুষ্টির চাদরে আমাদের জড়িয়ে নাও, আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com

ত্যাগের তরে হৃদয় বাঁধি

 মাহমুদ আহমদ 
২০ জুলাই ২০২১, ০৮:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বাঁধি
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বময় মহামারি করোনার এ ভয়াবহ দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে মুসলিম উম্মাহ কুরবানি করছেন এবং করবেন। 

কুরবানি শব্দটি ‘কুরবুন’ মূল ধাতু থেকে এসেছে। অর্থ হলো নৈকট্য লাভ করা, সান্নিধ্য অর্জন করা, প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা। 

শরিয়তের পরিভাষায়- নির্দিষ্ট জন্তুকে একমাত্র আল্লাহতায়ালার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত নিয়মে তার নামে জবেহ করাই হলো কুরবানি। 

এ ঈদকে  কুরবানির ঈদ বলা হয়। কুরবানি প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এবং আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কুরবানির নিয়ম নির্ধারণ করেছি যাতে তারা সেই সব গবাদি পশুর ওপর আল্লাহর নাম নেয়, যেগুলো তিনি তাদেরকে দান করেছেন’ (সুরা হাজ : ৩৩) 

প্রশ্ন হচ্ছে ইসলামে এই যে কুরবানির শিক্ষা তা কি কেবল একটি পশু কুরবানির মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়ে যায়? আসলে পশু কুরবানি করাটা হচ্ছে একটা প্রতীকী মাত্র। 

আল্লাহতায়ালা চান, মানুষ যেন তার পশুসূলভ হৃদয়কে কুরবানি করে, তার আমিত্বকে কুরবানি আর তার নিজের সমস্ত চাওয়া পাওয়াকে আল্লাহর খাতিরে কুরবানি করে দেয়। 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলতে হয়, ‘তোরা ভোগের পাত্র ফেলরে ছুঁড়ে, ত্যাগের তরে হৃদয় বাঁধ’। 

মানুষ আল্লাহর জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবে, এই শিক্ষাই হজরত ইব্রাহিম (আ.) আমাদের জন্য রেখে গেছেন। আর ঈদুল আজহার মূল আহবান হল সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য প্রকাশ করা। বাহ্যিকতার সকল দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে এক আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া। 

আমরা জানি, হজরত ইব্রাহিম (আ.)এর কুরবানির অনুসরণে মুসলিম উম্মাহ প্রতি বছর ১০ই জিলহজ তারিখে পশু কুরবানি করে থাকে। 

ইসলামে কুরবানির প্রথা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুরো পরিবারের অসাধারণ কুরবানির ফলশ্রুতিতেই সদা জাগরুক রয়েছে। এই কুরবানি মূলত একটা বাহ্যিক আলামত ছিল, কিন্তু তাদের এটাই কামনা ছিল, এর মাধ্যমে যেন এই অতুলনীয় কুরবানির স্মৃতি চিরদিন বিরাজমান থাকে। 

আল্লাহর সাথে প্রেমবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য আল্লাহপাক কুরবানি চান আর এ কুরবানির অর্থ কেবল পশু জবাহ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এ কুরবানি কারো জন্য নিজ প্রাণের কুরবানিও হতে পারে আবার কারো নিজ অন্তরে লুকায়িত পশুত্বের কুরবানিও হতে পারে। 

আমরা যদি মনের পশুকে কুরবানি করতে পারি, কেবল তবেই আমরা আল্লাহতায়ালার প্রিয়দের অন্তর্ভূক্ত হতে পারব। এছাড়া বাহ্যিকভাবে যত বড় পশুই জবাহ করি না কেন, তা মহান আল্লাহপাকের কাছে মূল্য রাখে না। 

আল্লাহতায়ালা মানুষের হৃদয় দেখে থাকেন। কে কোন নিয়তে কুরবানি করছেন এ সম্পর্কে আল্লাহপাক ভাল করেই অবগত আছেন। 

যেভাবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন: ‘এগুলোর মাংস ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, বরং তার নিকট তোমাদের তাকওয়া অর্থাৎ খোদাভীতি পৌঁছে’ (সুরা হাজ : ৩৬)। 

আসলে কুরবানি প্রদানকারী ব্যক্তির তাকওয়া আল্লাহতায়ালার সান্নিধ্যে পৌঁছে থাকে। তাই আমাদের এ কুরবানি যদি তাকওয়া শূন্য হয় তাহলে এগুলো হয়ে থাকে নিরেট গতানুগতিক প্রথা। 

তাই আমাদেরকেও হজরত ইব্রাহিম (আ.)এর কুরবানির শিক্ষাকে নিজেদের অন্তরে ধারণ করে মহান আল্লাহপাকের সাথে গভীর এক ভালবাসার বন্ধন তৈরী করতে হবে আর এই বন্ধন আমরা তখনই সৃষ্টি করতে পারবো যখন আমাদের আত্মা হবে পবিত্র। 

হে দয়াময় আল্লাহ! করোনাকালীন সময়ে আমাদের এ কুরবানি তুমি গ্রহণ করে তোমার সন্তুষ্টির চাদরে আমাদের জড়িয়ে নাও, আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন