ঈদের রাতে যেসব আমলে জান্নাত ওয়াজিব হয়
jugantor
ঈদের রাতে যেসব আমলে জান্নাত ওয়াজিব হয়

  মুহাম্মদ মিযান বিন রমজান  

২১ জুলাই ২০২১, ০১:০৪:৪১  |  অনলাইন সংস্করণ

ঈদের রাতে যেসব আমলে জান্নাত ওয়াজিব হয়

ইসলামে ঈদের প্রবর্তন হয়েছে দ্বিতীয় হিজরির মাঝামাঝি সময়ে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আসেন, তখন দেখেন যে সেখানকার লোকরা বছরে দুদিন (নাইরোজ ও মিহরজান) আনন্দ করে, খেলাধুলা করে।

তিনি বললেন, আল্লাহতায়ালা তোমাদের এ দুদিনের পরিবর্তে আরও বেশি উত্তম ও কল্যাণকর দুটি দিন দিয়েছেন। ১. ঈদুল আজহা ২. ঈদুল ফিতর। (আবু দাউদ, ১/১৬১)

দুই ঈদের রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মর্যাদাপূর্ণ। ঈদ যেমন আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে, তেমন নিয়ে আসে আল্লাহর নৈকট্যলাভের মহাসুযোগ। ঈদের রাত যেমন আনন্দ-খুশির, ঠিক দুনিয়ার যাবতীয় কল্যাণ ও মঙ্গলপ্রাপ্তির রাত জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাতলাভের মহাসুযোগপ্রাপ্তির রাত। তাই ঈদের রাত জেগে ইবাদত করার ফজিলত ও গুরুত্ব অনেক।

ঈদের রাতের ইবাদত

আল্লাহতায়ালার জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায় ঈদের রাতে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে। রাব্বুল আলামীন আমাদের হায়াত দান করেছেন, আমরা ঈদ উপভোগ করার মহাসুযোগ পেয়েছি। নিঃসন্দেহে এটা আমাদের জন্য বড় গনিমত। কেননা ঈদের রাত অনেক বরকতময় ও ফজিলতের রাত।

এই রাতে যারা মনিবের রেজামন্দি হাসিলের নামাজ-কালাম, তেলাওয়াত, জিকির আজকার ও দান-দক্ষিণা করবে রাব্বুল আলামীন তাদের খালি ফেরাবেন না।

হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত থাকবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।

১. যিলহজ মাসের ৮ তারিখের রাত। ২. যিলহজ মাসের ৯ তারিখের রাত (আরাফার রাত)। ৩. ঈদুল আজহার রাত। ৪. ইদুল ফিতরের রাত। ৫. ১৫ শাবানের রাত। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব লিল মুনজেরি ২/৯৮, হাদিস-১৬৫৬)

বেশি বেশি দোয়া করা

ঈদের রাতে দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না। ব্যক্তি জীবনে কতজন কতো রকমের বাঁধা-বিপদ, আশা-আবেগ ও মনের জমানো কথা-ব্যাথা মনে নিয়ে জ্বালা যন্ত্রণা ভুগছি। ঈদের রাতে মনের সেই কথা ও ব্যাথা তুলে ধরি প্রভুর কাছে।

রাব্বুল আলামীন আমাদের কল্যাণকর সবকিছু কবুল করে দেবেন,ইনশাআল্লাহ।

দোয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দিতে গিয়ে রাসূল হাদীসে বলেছেন, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমার রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত এবং দুই ঈদের রাতসহ এ পাঁচ রাতে কোনো দোয়া করে, সে রাতে তার কোনো আবেদনই ফিরিয়ে দেয়া হয় না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস -৭৯২৭)

ইবাদতকারীর অন্তর মরবে না

ঈদের রাতে ইবাদতকারীর অন্তর কিয়ামতের দিন মরবে না। হযরত আবু উমামা বাহেলি (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে আল্লাহর কাছে সওয়াব প্রাপ্তির নিয়তে ইবাদত করবে তার হৃদয় সেদিনও জীবিত থাকবে যেদিন সকল হৃদয়ের মৃত্যু ঘটবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৮২)।

অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হযরত উবাদা ইবনে সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার রাতকে (ইবাদতের মাধ্যমে) জীবিত রাখবে তার অন্তর ওই দিন মরবে না যেদিন অন্যদের অন্তর মরে যাবে।

তাই এই রাতে সাধ্যানুসারে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযকার, ইস্তিগফার এবং দোয়া-মুনাজাতে মশগুল থাকা কর্তব্য।

বরকতময় এই রাতে অযথা কাজে লিপ্ত হওয়া, বাজারে-মার্কেটে ঘুরাঘুরি করার পরিবর্তে এশা এবং ফজরের নামাজ সময়মত জামাতের সঙ্গে আদায় করা। সঙ্গে অন্যান্য আমলগুলো করা। অন্যান্য আমলগুলো করা সম্ভব না হলেও অন্তত এশা এবং ফজরের নামাজের জামাত ঠিক রাখা।

ঈদের রাতে যেসব আমলে জান্নাত ওয়াজিব হয়

 মুহাম্মদ মিযান বিন রমজান 
২১ জুলাই ২০২১, ০১:০৪ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ঈদের রাতে যেসব আমলে জান্নাত ওয়াজিব হয়
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে ঈদের প্রবর্তন হয়েছে দ্বিতীয় হিজরির মাঝামাঝি সময়ে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আসেন, তখন দেখেন যে সেখানকার লোকরা বছরে দুদিন (নাইরোজ ও মিহরজান) আনন্দ করে, খেলাধুলা করে। 

তিনি বললেন, আল্লাহতায়ালা তোমাদের এ দুদিনের পরিবর্তে আরও বেশি উত্তম ও কল্যাণকর দুটি দিন দিয়েছেন। ১. ঈদুল আজহা ২. ঈদুল ফিতর। (আবু দাউদ, ১/১৬১)

দুই ঈদের রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মর্যাদাপূর্ণ। ঈদ যেমন আনন্দের বার্তা  নিয়ে আসে, তেমন নিয়ে আসে আল্লাহর নৈকট্যলাভের মহাসুযোগ। ঈদের রাত যেমন আনন্দ-খুশির, ঠিক দুনিয়ার যাবতীয় কল্যাণ ও মঙ্গলপ্রাপ্তির রাত জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাতলাভের মহাসুযোগপ্রাপ্তির রাত। তাই ঈদের রাত জেগে ইবাদত করার ফজিলত ও গুরুত্ব অনেক।

ঈদের রাতের ইবাদত 

আল্লাহতায়ালার জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায় ঈদের রাতে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে। রাব্বুল আলামীন আমাদের হায়াত দান করেছেন, আমরা ঈদ উপভোগ করার মহাসুযোগ পেয়েছি। নিঃসন্দেহে এটা আমাদের জন্য বড় গনিমত। কেননা ঈদের রাত অনেক বরকতময় ও ফজিলতের রাত। 

এই রাতে যারা মনিবের রেজামন্দি হাসিলের নামাজ-কালাম, তেলাওয়াত, জিকির আজকার ও দান-দক্ষিণা করবে রাব্বুল আলামীন তাদের খালি ফেরাবেন না।  

হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত থাকবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। 

১. যিলহজ মাসের ৮ তারিখের রাত। ২. যিলহজ মাসের ৯ তারিখের রাত (আরাফার রাত)। ৩. ঈদুল আজহার রাত। ৪. ইদুল ফিতরের রাত। ৫. ১৫ শাবানের রাত। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব লিল মুনজেরি ২/৯৮, হাদিস-১৬৫৬)

বেশি বেশি দোয়া করা

ঈদের রাতে  দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না। ব্যক্তি জীবনে কতজন কতো রকমের বাঁধা-বিপদ, আশা-আবেগ ও মনের জমানো কথা-ব্যাথা মনে নিয়ে জ্বালা যন্ত্রণা ভুগছি। ঈদের রাতে মনের সেই কথা ও ব্যাথা তুলে ধরি প্রভুর কাছে। 

রাব্বুল আলামীন আমাদের কল্যাণকর সবকিছু কবুল করে দেবেন,ইনশাআল্লাহ। 

দোয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দিতে গিয়ে রাসূল হাদীসে বলেছেন, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমার রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত এবং দুই ঈদের রাতসহ এ পাঁচ রাতে কোনো দোয়া করে, সে রাতে তার কোনো আবেদনই ফিরিয়ে দেয়া হয় না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস -৭৯২৭)

ইবাদতকারীর অন্তর মরবে না
 
ঈদের রাতে ইবাদতকারীর অন্তর কিয়ামতের দিন মরবে না। হযরত আবু উমামা বাহেলি (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে আল্লাহর কাছে সওয়াব প্রাপ্তির নিয়তে ইবাদত করবে তার হৃদয় সেদিনও জীবিত থাকবে যেদিন সকল হৃদয়ের মৃত্যু ঘটবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৮২)। 

অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হযরত উবাদা ইবনে সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার রাতকে (ইবাদতের মাধ্যমে) জীবিত রাখবে তার অন্তর ওই দিন মরবে না যেদিন অন্যদের অন্তর মরে যাবে।

তাই এই রাতে সাধ্যানুসারে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযকার, ইস্তিগফার এবং দোয়া-মুনাজাতে মশগুল থাকা কর্তব্য।

বরকতময় এই রাতে অযথা কাজে লিপ্ত হওয়া, বাজারে-মার্কেটে ঘুরাঘুরি করার পরিবর্তে এশা এবং ফজরের নামাজ সময়মত জামাতের সঙ্গে আদায় করা। সঙ্গে অন্যান্য আমলগুলো করা। অন্যান্য আমলগুলো করা সম্ভব না হলেও অন্তত এশা এবং ফজরের নামাজের জামাত ঠিক রাখা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন