ইসলামে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের শিক্ষা
jugantor
ইসলামে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের শিক্ষা

  কাজী তানভীর  

০৩ আগস্ট ২০২১, ১৮:২৯:১৫  |  অনলাইন সংস্করণ

পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের শিক্ষা দেয় ইসলাম

পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন ইসলামের অন্যতম একটি সৌন্দর্য। ইসলামে যেমন ইবাদতের তাৎপর্য রয়েছে, তেমন পরিবেশেরও রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।

চারপাশটা যত পরিপাটি থাকবে, ইবাদতের জন্য পরিবেশও তত উর্বর হবে। আর আল্লাহ, জিন ও মানব জাতিকে সৃষ্টিই করেছেন ইবাদতের জন্য।

মানুষ ও অন্যান্য সৃষ্টিজীব সুস্থ্য ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য ভালো পরিবেশের গুরুত্ব অপরিসীম। অসুস্থ্য পরিবেশ জীবের জন্য বাসযোগ্য হতে পারে না।

‘পরিবেশ ও জীব’ একে অপরের পরিপূরক। পরিবেশ ভালো থাকলে জীব ভালো থাকে, পরিবেশ অসুস্থ্য হয়ে গেলে জীবেরও আর সুস্থ্য থাকার উপায় থাকে না। অতএব সুস্থ্য পরিবেশ বিনাশ বা ক্ষতি সাধন মোটেও কাম্য নয়। বৈচিত্রময় প্রকৃতি আল্লাহ তায়ালা মানুষের উপকারের জন্যই সৃষ্টি করেছেন।

আল্লাহতায়ালা সুরা হিজর-এ বলেন, আমি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি এবং এতে পর্বতমালা সৃষ্টি করেছি। আমি পৃথিবীতে প্রতিটি বস্তু সুপরিমিতভাবে সৃষ্টি করেছি। এতে তোমাদের জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করেছি। আর তোমরা যাদের জীবিকাদাতা নও, তাদের জন্যও। প্রতিটি বস্তু ভাণ্ডার আমার কাছে রয়েছে। আমি তা প্রয়োজনীয় পরিমাণে সরবরাহ করে থাকি। আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু প্রেরণ করি। এরপর আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করি। তা তোমাদের পান করতে দিই। এর ভাণ্ডার তোমাদের কাছে নেই।

সুরা নাবা'তে আল্লাহতায়ালা আরো বলেন, আমি জলধর মেঘমালা থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত করি,যা দ্বারা উৎপন্ন করি শস্য,উদ্ভিদ ও পাতা ঘন উদ্যান।

সুরা ইয়াসিনে আল্লাহতায়ালা বলেন, তাদের জন্য নিদর্শন একটি মাতৃভূমি। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য,তারা তা ভক্ষণ করে। আমি তাতে উৎপন্ন করি খেজুর এবং প্রবাহিত করি ঝর্ণাধারা,যাতে তারা ফল খায়।

এছাড়াও আল্লাহতায়ালা, তার সৃষ্ট প্রাকৃতির নামে শপথ করেছেন কুরআনের অনেক জায়গায়। তা থেকে বুঝা যায়, এই প্রাকৃতি এই পরিবেশ কতটা গুরুত্ব বহন করে।

আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে; যেমন গাছপালা, বাড়িঘর, মাটি, পানি, বায়ু, জীবজন্তু, পশুপাখি, রাস্তাঘাট, নদীনালা, পাহাড়- পর্বত, যানবাহন, কলকারখানা ইত্যাদি নিয়েই পরিবেশ। আল্লাহ তায়ালার প্রাকৃতিক-অপ্রাকৃতিক অগণিত নেয়ামত সমূহের যত্ন নিতে না পারলেও অযত্ন না করা চাই।
পরিবেশ পরিচর্যা করতে নারাজ হলেও নিজের দ্বারা পরিবেশ দূষিত না হওয়া চাই। এ কথা আজ সবার কাছে সুস্পষ্ট যে, পরিবেশ দূষণের ফলে আমাদের সমাজে চলছে ভাঙ্গন ও বিশৃঙ্খলা। রোগ-অসুখ, জ্বরা-ব্যাধি নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।তাই পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবার সচেতন হওয়া অপরিহার্য ও গুরুদায়িত্ব!

সুস্থতা, সৌন্দর্য, মননশীলতা, উৎকর্ষ ও সমৃদ্ধির কথা বলে ইসলাম। অরুচিকর, ক্ষতিকর কাজকর্ম থেকে বিরত থাকাই শিখিয়েছে ইসলাম।

নবীজি (স.) বলেছেন- তোমরা তোমাদের আঙিনাকে পরিচ্ছন্ন রাখ। (তিরমিজি: ২৭৯৯) নবীজি আরো বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। (মুসলিম: ২২৩)

ইসলামে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের শিক্ষা

 কাজী তানভীর 
০৩ আগস্ট ২০২১, ০৬:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের শিক্ষা দেয় ইসলাম
প্রতীকি ছবি

পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন ইসলামের অন্যতম একটি সৌন্দর্য। ইসলামে যেমন ইবাদতের তাৎপর্য রয়েছে, তেমন পরিবেশেরও রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। 

চারপাশটা যত পরিপাটি থাকবে, ইবাদতের জন্য পরিবেশও তত উর্বর হবে। আর আল্লাহ, জিন ও মানব জাতিকে সৃষ্টিই করেছেন ইবাদতের জন্য। 

মানুষ ও অন্যান্য সৃষ্টিজীব সুস্থ্য ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য ভালো পরিবেশের গুরুত্ব অপরিসীম। অসুস্থ্য পরিবেশ জীবের জন্য বাসযোগ্য হতে পারে না। 

‘পরিবেশ ও জীব’ একে অপরের পরিপূরক। পরিবেশ ভালো থাকলে জীব ভালো থাকে, পরিবেশ অসুস্থ্য হয়ে গেলে জীবেরও আর সুস্থ্য থাকার উপায় থাকে না। অতএব সুস্থ্য পরিবেশ বিনাশ বা ক্ষতি সাধন মোটেও কাম্য নয়। বৈচিত্রময় প্রকৃতি আল্লাহ তায়ালা মানুষের উপকারের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। 

আল্লাহতায়ালা সুরা হিজর-এ বলেন, আমি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি এবং এতে পর্বতমালা সৃষ্টি করেছি। আমি পৃথিবীতে প্রতিটি বস্তু সুপরিমিতভাবে সৃষ্টি করেছি। এতে তোমাদের জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করেছি। আর তোমরা যাদের জীবিকাদাতা নও, তাদের জন্যও। প্রতিটি বস্তু ভাণ্ডার আমার কাছে রয়েছে। আমি তা প্রয়োজনীয় পরিমাণে সরবরাহ করে থাকি। আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু প্রেরণ করি। এরপর আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করি। তা তোমাদের পান করতে দিই। এর ভাণ্ডার তোমাদের কাছে নেই।

সুরা নাবা'তে আল্লাহতায়ালা আরো বলেন, আমি জলধর মেঘমালা থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত করি,যা দ্বারা উৎপন্ন করি শস্য,উদ্ভিদ ও পাতা ঘন উদ্যান।

সুরা ইয়াসিনে আল্লাহতায়ালা বলেন, তাদের জন্য নিদর্শন একটি মাতৃভূমি। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য,তারা তা ভক্ষণ করে। আমি তাতে উৎপন্ন করি খেজুর এবং প্রবাহিত করি ঝর্ণাধারা,যাতে তারা ফল খায়।

এছাড়াও আল্লাহতায়ালা, তার সৃষ্ট প্রাকৃতির নামে শপথ করেছেন কুরআনের অনেক জায়গায়। তা থেকে বুঝা যায়, এই প্রাকৃতি এই পরিবেশ কতটা গুরুত্ব বহন করে। 

আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে; যেমন গাছপালা, বাড়িঘর, মাটি, পানি, বায়ু, জীবজন্তু, পশুপাখি, রাস্তাঘাট, নদীনালা, পাহাড়- পর্বত, যানবাহন, কলকারখানা ইত্যাদি নিয়েই পরিবেশ। আল্লাহ তায়ালার প্রাকৃতিক-অপ্রাকৃতিক অগণিত নেয়ামত সমূহের যত্ন নিতে না পারলেও অযত্ন না করা চাই। 
পরিবেশ পরিচর্যা করতে নারাজ হলেও নিজের দ্বারা পরিবেশ দূষিত না হওয়া চাই। এ কথা আজ সবার কাছে সুস্পষ্ট যে, পরিবেশ দূষণের ফলে আমাদের সমাজে চলছে ভাঙ্গন ও বিশৃঙ্খলা। রোগ-অসুখ, জ্বরা-ব্যাধি নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।তাই পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবার সচেতন হওয়া অপরিহার্য ও গুরুদায়িত্ব! 

সুস্থতা, সৌন্দর্য, মননশীলতা, উৎকর্ষ ও সমৃদ্ধির কথা বলে ইসলাম। অরুচিকর, ক্ষতিকর কাজকর্ম থেকে বিরত থাকাই শিখিয়েছে ইসলাম। 

নবীজি (স.) বলেছেন- তোমরা তোমাদের আঙিনাকে পরিচ্ছন্ন রাখ। (তিরমিজি: ২৭৯৯) নবীজি আরো বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ। (মুসলিম: ২২৩)
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন