পুতুল খেলা সম্পর্কে ইসলাম যা বলে
jugantor
পুতুল খেলা সম্পর্কে ইসলাম যা বলে

  ফরহাদ খান নাঈম  

০৭ আগস্ট ২০২১, ১৯:১৫:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

পুতুল খেলা সম্পর্কে ইসলাম যা বলে

আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বহু হাদিসে জীবন্ত কোনো কিছুর ছবি বানানো নিষেধ করা হয়েছে।

ইমাম বুখারী (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যারা জীবন্ত কোনো কিছুর ছবি তৈরি করে, কেয়ামতের দিন তাদের জন্য রয়েছে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি। (বুখারি)

সুতরাং খেলনা পুতুলে যদি মানুষের পরিপূর্ণ আকৃতি দেওয়া হয়, যেমন- মাথার সঙ্গে যদি চোখ, কান, মুখ ইত্যাদি থাকে, তবে এ ধরনের পুতুল সংরক্ষণ করা, এগুলো উপহার দেওয়া অথবা ছোট বাচ্চাদের জন্য এগুলো নিয়ে খেলা করা নাজায়েজ।

আর যদি পুতুলের পরিপূর্ণ মাথা না থাকে; অর্থাৎ পুতুলের যদি চোখ, কান, নাক কিংবা মুখ দেওয়া না হয়, তবে ছোট বাচ্চাদের জন্য এ ধরনের পুতুল তৈরি করা এবং তাদেরকে খেলতে দেওয়া জায়েজ আছে।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং আবু হুরায়রাসহ আরো অনেক সাহাবী (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ছবির মাথা নেই সেটি পূর্ণাঙ্গ ছবি নয়; তাই তা জায়েজ আছে।

আবু দাউদ এবং অন্যান্য হাদিসের কিতাবে উল্লেখিত ‘আয়েশা (রা.) পুতুল দিয়ে খেলতেন’ মর্মে যে বর্ণনাটি পাওয়া যায়, তা বর্তমান সময়কার তৈরি করা পুতুল দিয়ে খেলার পক্ষে অনুমতি নির্দেশ করে না।

প্রথমত, আয়েশা (রা.) যে ধরনের পুতুল দিয়ে খেলতেন, তা বর্তমানে তৈরি করা পুতুলের মতো ছিলো না। তার পুতুলগুলো ছিলো ছেঁড়া কাপড়ের তৈরি, যেগুলোতে বিশেষ কোনো আকৃতি ছিল না।

মুহাদ্দিসরা বলেন, আয়েশা (রা.) যেই পুতুল দিয়ে খেলতেন, তার নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গ ছিলো না যে যার দ্বারা স্পষ্ট করে বোঝা যেতো যে, এটা একটা মানবাকৃতি; বরং তিনি যে পুতুল দিয়ে খেলতেন তা ছিলো সাধারণ কাপড় এবং তুলো দ্বারা তৈরি। যেমনটি গ্রাম অঞ্চলের ছোট ছোট মেয়েরা তৈরি করে।

দ্বিতীয়ত, কোনো কোনো মুহাদ্দিস বলেন, ছবি তৈরির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আসার আগে আয়েশা (রা.) পুতুল দিয়ে খেলতেন। আর তাই ছবি তৈরির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হাদিস আসার কারণে পুতুল দিয়ে খেলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ হয়ে গেছে।

সুতরাং ‘আয়েশা রা. পুতুল দিয়ে খেলতেন’ এই বর্ণনাটি পুতুল দিয়ে খেলার পক্ষে অনুমতির দলিল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

প্রখ্যাত হাদিস ব্যাখ্যাকার ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী তার বিখ্যাত (বুখারী শরীফের) ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেন: যদি আয়েশা (রা.) এমন পুতুল দিয়ে খেলতেন যাতে স্পষ্ট মানবাকৃতি ছিলো, তাহলে তা ছবি তৈরির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার হাদিস আসার পূর্বে।

আর যদি তিনি এই হাদিস আসার পরে পুতুল দিয়ে খেলতেন, তবে সে পুতুল ছিল নিতান্তই সাধারণ যেখানে মানুষের কোন আকৃতি ছিলো না।

পুতুল খেলা সম্পর্কে ইসলাম যা বলে

 ফরহাদ খান নাঈম 
০৭ আগস্ট ২০২১, ০৭:১৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পুতুল খেলা সম্পর্কে ইসলাম যা বলে
ছবি: সংগৃহীত

আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বহু হাদিসে জীবন্ত কোনো কিছুর ছবি বানানো নিষেধ করা হয়েছে।

ইমাম বুখারী (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যারা জীবন্ত কোনো কিছুর ছবি তৈরি করে, কেয়ামতের দিন তাদের জন্য রয়েছে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি। (বুখারি)

সুতরাং খেলনা পুতুলে যদি মানুষের পরিপূর্ণ আকৃতি দেওয়া হয়, যেমন- মাথার সঙ্গে যদি চোখ, কান, মুখ ইত্যাদি থাকে, তবে এ ধরনের পুতুল সংরক্ষণ করা, এগুলো উপহার দেওয়া অথবা ছোট বাচ্চাদের জন্য এগুলো নিয়ে খেলা করা নাজায়েজ।

আর যদি পুতুলের পরিপূর্ণ মাথা না থাকে; অর্থাৎ পুতুলের যদি চোখ, কান, নাক কিংবা মুখ দেওয়া না হয়, তবে ছোট বাচ্চাদের জন্য এ ধরনের পুতুল তৈরি করা এবং তাদেরকে খেলতে দেওয়া জায়েজ আছে।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস এবং আবু হুরায়রাসহ আরো অনেক সাহাবী (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ছবির মাথা নেই সেটি পূর্ণাঙ্গ ছবি নয়; তাই তা জায়েজ আছে।

আবু দাউদ এবং অন্যান্য হাদিসের কিতাবে উল্লেখিত ‘আয়েশা (রা.) পুতুল দিয়ে খেলতেন’ মর্মে যে বর্ণনাটি পাওয়া যায়, তা বর্তমান সময়কার তৈরি করা পুতুল দিয়ে খেলার পক্ষে অনুমতি নির্দেশ করে না।

প্রথমত, আয়েশা (রা.) যে ধরনের পুতুল দিয়ে খেলতেন, তা বর্তমানে তৈরি করা পুতুলের মতো ছিলো না। তার পুতুলগুলো ছিলো ছেঁড়া কাপড়ের তৈরি, যেগুলোতে বিশেষ কোনো আকৃতি ছিল না। 

মুহাদ্দিসরা বলেন, আয়েশা (রা.) যেই পুতুল দিয়ে খেলতেন, তার নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গ ছিলো না যে যার দ্বারা স্পষ্ট করে বোঝা যেতো যে, এটা একটা মানবাকৃতি; বরং তিনি যে পুতুল দিয়ে খেলতেন তা ছিলো সাধারণ কাপড় এবং তুলো দ্বারা তৈরি। যেমনটি গ্রাম অঞ্চলের  ছোট ছোট মেয়েরা তৈরি করে।

দ্বিতীয়ত, কোনো কোনো মুহাদ্দিস বলেন, ছবি তৈরির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আসার আগে আয়েশা (রা.) পুতুল দিয়ে খেলতেন। আর তাই ছবি তৈরির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হাদিস আসার কারণে পুতুল দিয়ে খেলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। 

সুতরাং ‘আয়েশা রা. পুতুল দিয়ে খেলতেন’ এই বর্ণনাটি পুতুল দিয়ে খেলার পক্ষে অনুমতির দলিল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

প্রখ্যাত হাদিস ব্যাখ্যাকার ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী তার বিখ্যাত (বুখারী শরীফের) ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেন: যদি আয়েশা (রা.) এমন পুতুল দিয়ে খেলতেন যাতে স্পষ্ট মানবাকৃতি ছিলো, তাহলে তা ছবি তৈরির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার হাদিস আসার পূর্বে।

আর যদি তিনি এই হাদিস আসার পরে পুতুল দিয়ে খেলতেন, তবে সে পুতুল ছিল নিতান্তই সাধারণ যেখানে মানুষের কোন আকৃতি ছিলো না।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন