মুসলিম হয়েও জাহান্নামি হতে হবে যে স্বভাবে
jugantor
মুসলিম হয়েও জাহান্নামি হতে হবে যে স্বভাবে

  মুহাম্মদুল্লাহ  

০৭ আগস্ট ২০২১, ২০:৫৪:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

অন্যের কাছে নিজেকে আপন করে তুলতে বা নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে বা দুনিয়াবি সুযোগ-সুবিধা লাভে কিংবা ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে যে মানুষ একজনের কথা অন্যজনের কাছে বলে বেড়ায়; সে হচ্ছে চোগলখোর।

হাদিসের ভাষায় চোগলখোর

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সাবধান! আমি তোমাদেরকে জানাচ্ছি চোগলখুরি কী? এ হচ্ছে কুৎসা রটনা করা; যাতে মানুষের মাঝে বৈরিতার সৃষ্টি হয়।

তিনি আরো বলেছেন, কোনো ব্যক্তি সত্য কথা বলতে বলতে সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়; আবার কেউ মিথ্যা বলতে বলতে মিথ্যাবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।’

কুরআনুল কারিমে আল্লাহতায়ালা চোগলখোরদের নিন্দা জানিয়েছেন। কুরআনের এ আয়াত থেকেও চোগলখোরের পরিচয় প্রকাশ পায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং অনুসরণ কর না তার; যে কথায় কথায় শপথ করে, যে লাঞ্ছিত। পশ্চাতে নিন্দাকারী; যে একের কথা অপরের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়।’ (সুরা ক্বালাম : আয়াত ১০-১১)

আমাদের মাঝে এ রোগ মহামারি আকারে বিদ্যমান। অবৈধ সুবিধা ভোগের জন্য আমরা কতভাবে একজনের কথা অন্যের কাছে লাগিয়ে দেই। ভাইয়ের কাছ থেকে ভাইকে, বাবার কাছ থেকে সন্তানকে, স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীকে বা প্রতিবেশীর কাছ থেকে প্রতিবেশীকে দূরে সরিয়ে রাখতে আমরা অনেকেই এই জঘন্য কাজ তথা চোগলখোরি করে থাকে। এসব কারণে সমাজে কত ধরনের ফেতনা ফাসাদের সৃষ্টি হয়৷ রক্তের সম্পর্কও নষ্ট হয়ে যায়।

চাকরিতে বসের কাছে নিজে ভালো সাজার জন্য বা পদোন্নতি লাভের জন্য অন্যজনের বিষয়ে বানিয়ে বানিয়ে বসের কাছে মন্দ বলে বেড়ানোর মানুষও আমাদের সমাজে কম নয়। একাজ সামাজিকভাবে যেমন নিন্দনীয়, তেমনি ইসলামের দৃষ্টিতেও মারাত্মক অপরাধ।

একবার নবীজি (সা.) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, এ দুটি কবরের অধিবাসীরা আজাবরত অবস্থায় ভুগছে। কিন্তু বড় ধরণের কোনো গুনাহের জন্য তারা শাস্তিতে ভুগছে না। একজন পেশাব করে ভালোমত পবিত্র হত না। আর একজন চোগলখুরি করে বেড়াত। এরপর তিনি খেজুরের দুটি কাঁচা ডাল নিয়ে ওই দুই কবরে একটি করে গেড়ে দিয়ে বললেন, ডাল দুটি না শুকানো পর্যন্ত হয়তো এদের শাস্তি কম হবে।

এ হাদিসে, ‘বড় ধরণের কোনো গুনাহের জন্য তারা শাস্তিতে ভুগছে না’ এ কথার অর্থ একটাই, তাদের ধারণায় তাদের কৃত গুনাহ তেমন বড় ছিল না। এজন্য কোনো কোনো বর্ণনাতে রয়েছে, নবীজি সা. বলেছেন, ‘তবে অবশ্যই তা কবীরা গুনাহ ছিল’।

আরেক হাদিসে এসেছে। নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমরা সবচেয়ে অধম লোক দেখতে পাবে সেই ব্যক্তিকে, যে বিভিন্ন জনের কাছে গিয়ে নিজেকে বিভিন্নভাবে বা বিভিন্ন আকারে প্রকাশ করে। আর যে ব্যক্তি পৃথিবীতে দ্বিমুখী আচরণ করবে , কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে দুটি আগুনের জিহ্বা দিবেন। (বুখারি,মুসলিম,মুয়াত্তা)

দ্বিমুখী আচরণ দ্বারা এখানে দুজনের সঙ্গে দুধরণের কথা বলার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

ইমাম গাজালী (রহ.) বলেন, যার কাছে কেউ চোগলখুরি করে এবং বলে, অমুক তোমার সম্পর্কে এসব কথা বলেছে তখন তার উচিত ছয়টি কাজ করার সংকল্প গ্রহণ করা।

এক. তাকে অবিশ্বাস করবে, কেননা সে একজন চোগলখোর ও ফাসিক। সে ব্যক্তি বিশ্বাসযোগ্য নয়।

দুই. এসব কাজ থেকে তাকে বিরত থাকতে বলবে। কাজটির জন্য কঠোর সমালোচনা করে সদুপদেশ দান করবে।

তিন. মন থেকে তাকে ঘৃণা করবে। কেননা সে আল্লাহর কাছে ঘৃণিত। আর আল্লাহর দৃষ্টিতে ঘৃণিত ব্যক্তিকে ঘৃনা করা ওয়াযিব বলে গণ্য।

চার. যে ব্যক্তি সম্পর্কে চোগলখোর খারাপ ধারণা দিয়েছে তার সম্পর্কে তাৎক্ষণিক খারাপ ধারণা করা ঠিক হবে না। কেননা আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা অধিক ধারণা পোষণ থেকে বিরত থাকবে। কেননা কিছু কিছু ধারণায় গুনাহ সংঘটিত হয়’।

পাঁচ. তার বর্ণিত তথ্য এতটা গুরুত্বো দেবে না, তার সত্যাসত্য তদন্ত করতে আরম্ভ করবে। কেননা আল্লাহ বলেছেন , ‘তোমরা কারো দোষ অন্বেষণের ক্ষেত্রে গোয়েন্দাগিরি করার চেষ্টা করবে না।’

ছয়. চোগলখোরকে দেয়া উপদেশ নিজেই যেন লংঘন না করে। চোগলখোর যা বলেছে তা নিয়ে সে যেন অন্যের সাথে সমালোচনা না করে।

হযরত হাসান বসরী(রহ.) বলেন, তোমার কাছে যে ব্যক্তি অন্যের কথা লাগায় জেনে রাখবে, সেও তোমার কথা অন্যের কাছে লাগায়।

একবার এক ব্যক্তি দেখতে পেল বাজারে একজন নিজের দাস বিক্রি করছে। বিক্রেতা এভাবে হাকডাক করছে- এ গোলামের একটু চোগলখোরি ব্যতীত আর কোন ত্রুটি নেই। লোকটি এ দোষটি গুরুত্ব না দিয়ে গোলামটিকে কিনে নিল। গোলামটি তার বাড়িতে অবস্থান করতে লাগল।

কিছুদিন পর সে তার মনিবের স্ত্রীকে বলল, আমার মনিব আর একটি বিয়ে করতে চাইছেন, কেননা তিনি আপনার প্রতি আর তেমন অনুরক্ত নেই। আপনি কি এ বিয়ে ঠেকাতে চান আর আপনার স্বামী আপনাকে আগের মতই ভালোবাসুক এটা চান , তাহলে উনি যখন নিদ্রা যাবেন, তখন একটা ছুরি দিয়ে তার কন্ঠনালীর উপরের একটা পশম কেটে নিয়ে নিজের কাছে রাখবেন।

অন্য দিকে মনিবকে সে বলল, আপনার স্ত্রী তলে তলে অন্য একজনের প্রতি আকৃষ্ট এবং তাকে তিনি ভালোবাসেন এবং তার সাথে চক্রান্ত করে তিনি আজ আপনাকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করবেন। আপনি যদি বাঁচতে চান তাহলে আপনি না ঘুমিয়ে কেবল ঘুমের ভান করে শুয়ে থেকে দেখবেন, আপনার স্ত্রী কিভাবে আপনার গলায় ছুরি চালায়।

গোলামের কথামত মনিব ঠিক তাই করল, রাতে যেই তার স্ত্রী ছুরি দিয়ে তার গলার পশম কাটতে উদ্যত হল, অমনি মনিব উঠে তার হাত থেকে ছুরি নিয়ে স্ত্রীকে সাথে সাথে হত্যা করল। এরপর স্ত্রীর আত্মীয়রা এসে মনিবকে হত্যা করল। এরপর উভয়পক্ষে তুমুল গন্ডগোল শুরু হল এবং এতে উভয় পক্ষ সর্বস্বান্ত হয়ে গেল। এজন্যই আল্লাহ চোগলখোরকে ফাসিক বলে উল্লেখ করেছেন।

চোগলখোরের পরিণাম

চোগলখোরের পরিনাম ভয়াবহ। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন, ‘চোগলখোর ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

লেখক: তরুণ আলেম ও সাংবাদিক

মুসলিম হয়েও জাহান্নামি হতে হবে যে স্বভাবে

 মুহাম্মদুল্লাহ 
০৭ আগস্ট ২০২১, ০৮:৫৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

অন্যের কাছে নিজেকে আপন করে তুলতে বা নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে বা দুনিয়াবি সুযোগ-সুবিধা লাভে কিংবা ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে যে মানুষ একজনের কথা অন্যজনের কাছে বলে বেড়ায়; সে হচ্ছে চোগলখোর।

হাদিসের ভাষায় চোগলখোর 

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সাবধান! আমি তোমাদেরকে জানাচ্ছি চোগলখুরি কী? এ হচ্ছে কুৎসা রটনা করা; যাতে মানুষের মাঝে বৈরিতার সৃষ্টি হয়। 

তিনি আরো বলেছেন, কোনো ব্যক্তি সত্য কথা বলতে বলতে সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়; আবার কেউ মিথ্যা বলতে বলতে মিথ্যাবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।’

কুরআনুল কারিমে আল্লাহতায়ালা চোগলখোরদের নিন্দা জানিয়েছেন। কুরআনের এ আয়াত থেকেও চোগলখোরের পরিচয় প্রকাশ পায়। 

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং অনুসরণ কর না তার; যে কথায় কথায় শপথ করে, যে লাঞ্ছিত। পশ্চাতে নিন্দাকারী; যে একের কথা অপরের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়।’ (সুরা ক্বালাম : আয়াত ১০-১১)

আমাদের মাঝে এ রোগ মহামারি আকারে বিদ্যমান। অবৈধ সুবিধা ভোগের জন্য আমরা কতভাবে একজনের কথা অন্যের কাছে লাগিয়ে দেই। ভাইয়ের কাছ থেকে ভাইকে, বাবার কাছ থেকে সন্তানকে, স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীকে বা প্রতিবেশীর কাছ থেকে প্রতিবেশীকে দূরে সরিয়ে রাখতে আমরা অনেকেই এই জঘন্য কাজ তথা চোগলখোরি করে থাকে। এসব কারণে সমাজে কত ধরনের ফেতনা ফাসাদের সৃষ্টি হয়৷ রক্তের সম্পর্কও নষ্ট হয়ে যায়। 

চাকরিতে বসের কাছে নিজে ভালো সাজার জন্য বা পদোন্নতি লাভের জন্য অন্যজনের বিষয়ে বানিয়ে বানিয়ে বসের কাছে মন্দ বলে বেড়ানোর মানুষও আমাদের সমাজে কম নয়। একাজ সামাজিকভাবে যেমন নিন্দনীয়, তেমনি ইসলামের দৃষ্টিতেও মারাত্মক অপরাধ। 

একবার নবীজি (সা.) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, এ দুটি কবরের অধিবাসীরা আজাবরত অবস্থায় ভুগছে। কিন্তু বড় ধরণের কোনো গুনাহের জন্য তারা শাস্তিতে ভুগছে না। একজন পেশাব করে ভালোমত পবিত্র হত না। আর একজন চোগলখুরি করে বেড়াত। এরপর তিনি খেজুরের দুটি কাঁচা ডাল নিয়ে ওই দুই কবরে একটি করে গেড়ে দিয়ে বললেন, ডাল দুটি না শুকানো পর্যন্ত হয়তো এদের শাস্তি কম হবে।

এ হাদিসে, ‘বড় ধরণের কোনো গুনাহের জন্য তারা শাস্তিতে ভুগছে না’ এ কথার অর্থ একটাই, তাদের ধারণায় তাদের কৃত গুনাহ তেমন বড় ছিল না। এজন্য কোনো কোনো বর্ণনাতে রয়েছে, নবীজি সা. বলেছেন, ‘তবে অবশ্যই তা কবীরা গুনাহ ছিল’।

আরেক হাদিসে এসেছে। নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমরা সবচেয়ে অধম লোক দেখতে পাবে সেই ব্যক্তিকে, যে বিভিন্ন জনের কাছে গিয়ে নিজেকে বিভিন্নভাবে বা বিভিন্ন আকারে প্রকাশ করে। আর যে ব্যক্তি পৃথিবীতে দ্বিমুখী আচরণ করবে , কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে দুটি আগুনের জিহ্বা দিবেন। (বুখারি,মুসলিম,মুয়াত্তা)

দ্বিমুখী আচরণ দ্বারা এখানে দুজনের সঙ্গে দুধরণের কথা বলার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

ইমাম গাজালী (রহ.) বলেন, যার কাছে কেউ চোগলখুরি করে এবং বলে, অমুক তোমার সম্পর্কে এসব কথা বলেছে তখন তার উচিত ছয়টি কাজ করার সংকল্প গ্রহণ করা।

এক. তাকে অবিশ্বাস করবে, কেননা সে একজন চোগলখোর ও ফাসিক। সে ব্যক্তি বিশ্বাসযোগ্য নয়।

দুই.  এসব কাজ থেকে তাকে বিরত থাকতে বলবে। কাজটির জন্য কঠোর সমালোচনা করে সদুপদেশ দান করবে।

তিন. মন থেকে তাকে ঘৃণা করবে। কেননা সে আল্লাহর কাছে ঘৃণিত। আর আল্লাহর দৃষ্টিতে ঘৃণিত ব্যক্তিকে ঘৃনা করা ওয়াযিব বলে গণ্য।

চার. যে ব্যক্তি সম্পর্কে চোগলখোর খারাপ ধারণা দিয়েছে তার সম্পর্কে তাৎক্ষণিক খারাপ ধারণা করা ঠিক হবে না। কেননা আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা অধিক ধারণা পোষণ থেকে বিরত থাকবে। কেননা কিছু কিছু ধারণায় গুনাহ সংঘটিত হয়’।

পাঁচ. তার বর্ণিত তথ্য এতটা গুরুত্বো দেবে না, তার সত্যাসত্য তদন্ত করতে আরম্ভ করবে। কেননা আল্লাহ বলেছেন , ‘তোমরা কারো দোষ অন্বেষণের ক্ষেত্রে গোয়েন্দাগিরি করার চেষ্টা করবে না।’

ছয়. চোগলখোরকে দেয়া উপদেশ নিজেই যেন লংঘন না করে। চোগলখোর যা বলেছে তা নিয়ে সে যেন অন্যের সাথে সমালোচনা না করে।

হযরত হাসান বসরী(রহ.) বলেন, তোমার কাছে যে ব্যক্তি অন্যের কথা লাগায় জেনে রাখবে, সেও তোমার কথা অন্যের কাছে লাগায়।

একবার এক ব্যক্তি দেখতে পেল বাজারে একজন নিজের দাস বিক্রি করছে। বিক্রেতা এভাবে হাকডাক করছে- এ গোলামের একটু চোগলখোরি ব্যতীত আর কোন ত্রুটি নেই। লোকটি এ দোষটি গুরুত্ব না দিয়ে গোলামটিকে কিনে নিল। গোলামটি তার বাড়িতে অবস্থান করতে লাগল। 

কিছুদিন পর সে তার মনিবের স্ত্রীকে বলল, আমার মনিব আর একটি বিয়ে করতে চাইছেন, কেননা তিনি আপনার প্রতি আর তেমন অনুরক্ত নেই। আপনি কি এ বিয়ে ঠেকাতে চান আর আপনার স্বামী আপনাকে আগের মতই ভালোবাসুক এটা চান , তাহলে উনি যখন নিদ্রা যাবেন, তখন একটা ছুরি দিয়ে তার কন্ঠনালীর উপরের একটা পশম কেটে নিয়ে নিজের কাছে রাখবেন।

অন্য দিকে মনিবকে সে বলল, আপনার স্ত্রী তলে তলে অন্য একজনের প্রতি আকৃষ্ট এবং তাকে তিনি ভালোবাসেন এবং তার সাথে চক্রান্ত করে তিনি আজ আপনাকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করবেন। আপনি যদি বাঁচতে চান তাহলে আপনি না ঘুমিয়ে কেবল ঘুমের ভান করে শুয়ে থেকে দেখবেন, আপনার স্ত্রী কিভাবে আপনার গলায় ছুরি চালায়।

গোলামের কথামত মনিব ঠিক তাই করল, রাতে যেই তার স্ত্রী ছুরি দিয়ে তার গলার পশম কাটতে উদ্যত হল, অমনি মনিব উঠে তার হাত থেকে ছুরি নিয়ে স্ত্রীকে সাথে সাথে হত্যা করল। এরপর স্ত্রীর আত্মীয়রা এসে মনিবকে হত্যা করল। এরপর উভয়পক্ষে তুমুল গন্ডগোল শুরু হল এবং এতে উভয় পক্ষ সর্বস্বান্ত হয়ে গেল। এজন্যই আল্লাহ চোগলখোরকে ফাসিক বলে উল্লেখ করেছেন।

চোগলখোরের পরিণাম

চোগলখোরের পরিনাম ভয়াবহ। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন, ‘চোগলখোর ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

লেখক: তরুণ আলেম ও সাংবাদিক
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন