হাসিমুখে কথা বলা: সুন্নাহ ও বিজ্ঞানের আলোকে
jugantor
হাসিমুখে কথা বলা: সুন্নাহ ও বিজ্ঞানের আলোকে

  এইচ এম আবু বকর  

০৮ আগস্ট ২০২১, ১৫:১৯:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

হাসিমুখে কথা বলা: সুন্নাহ ও বিজ্ঞানের আলোকে

হাসি মানুষের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। হাসিতে একজন কুৎসিত মানুষকেও সুন্দর লাগে। কোনোরকম প্রসাধনীর বাহুল্য ছাড়াই হাসি একজন মানুষের ভেতরে থাকা লাবণ্যকে ফুটিয়ে তোলে।

হাসি আপনার মার্জিত ব্যক্তিত্ব, আভিজাত্য, পারস্পরিক সুসম্পর্ক, বৈষয়িক সাফল্য এবং নেক আমলের কলেবর বৃদ্ধির জন্য খুবই সহজ ও তাৎপর্যপূর্ণ কাজ।

প্রবাদ আছে, যে মন খুলে হাসতে পারে না, সে পৃথিবীর সবচেয়ে অসুখী ব্যক্তি।

ইসলামে হাসিমুখে কথা বলার গুরুত্ব

ইসলাম মানুষের সহজাত প্রকৃতির ধর্ম। এর সঙ্গে আমাদের মানসিকতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ইসলাম শুধু বাহ্যিক কতিপয় বিষয়ের গুরুগম্ভীর আইনগত হুকুম আরোপ করে না বরং এটা খোদ মানুষের অভ্যন্তরীণ হাজারো জিজ্ঞাসার জবাব।

ছোটোবড়ো সবরকম ভালোকাজের গুণগ্রাহী মতাদর্শ ইসলাম। আজকাল তো বিশ্ব হাসি দিবসও পালন করা হয়ে থাকে। কিন্তু হাসির মতো ছোট্ট বিষয়টিকে বহু আগেই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি ইরশাদ করেছেন, কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ ভেবো না, যদিও তা তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করার বিষয় হয়। (মুসলিম শরীফ, হাদিস: ২৬২৬)

অন্যত্র এক হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, প্রতিটি ভালো কাজ সদকা স্বরূপ। তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। (তিরমিজী শরীফ)

পরিবারের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা

আমাদের কেউ কেউ এমন আছি যে, বন্ধু-কলিগদের সঙ্গে খুব সদালাপী ও সদাহাস্যজ্বল কিন্তু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পূর্ণ উল্টো। ঘরে এলে পুরো মাত্রায় রাশভারি টাইপের বনে যায়, বাইরে থেকে এসে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন খুব বিরসবদনে, এটা অনুচিত।

পরিবারের লোকজন আমাদের থেকে বেশি সদাচারের হকদার। তারা আমাদের থেকে সুন্দর আচরণ বেশি প্রত্যাশা করে।

এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি নিজের কোনো মুসলিম ভাইকে খুশি করার জন্য এমনভাবে সাক্ষাৎ করে, যেমনটি সে পছন্দ করে; (এর বিনিময়ে) কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাকে খুশি করবেন। (আলমুজামুস সগির, তবারানি, হাদিস: ১১৭৮)

প্রতিবেশী ও সর্বসাধারণের সাথে হাসিমুখে থাকা

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমার উপরে তোমার প্রতিবেশীর অধিকার আছে। সহাবস্থানমূলক অন্যান্য অধিকারের সঙ্গে সঙ্গে সদাচরণ, কল্যাণ কামনা ও হাসিমুখে দুটো কথারও তারা হকদার।

হজরত কায়েস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জারিরকে (রা.) বলতে শুনেছি, ‘আমার ইসলাম গ্রহণের পর থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই আমাকে দেখেছেন, আমার সামনে মুচকি হাসি দিয়েছেন।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ২৪৯)

হাসিখুশী থাকার বৈজ্ঞানিক উপকারিতা

মনোবিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেছেন, হাসির শারীরিক দিকও আছে। হাসলে আমাদের হৃদযন্ত্র, শ্বাসযন্ত্র, এগুলোর একপ্রকার ব্যায়াম হয়। সুতরাং যারা প্রায়শ হাসে, তারা শারীরিক মানসিক দিক থেকে ভালো আছে ধরে নেয়া যায়।

ড. মুহাম্মদ ফারুক হোসেনের মতে, কেউ যদি হাসতে না পারে, যদি মনে হয় যে, তিনি হাসার মতো কিছু পাচ্ছেন না, তাহলে তার কোনো মানসিক বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, হাসির একটা সংক্রামক প্রবণতা আছে। হাসির একটা চেহারা আছে, সেটা দেখলে আমাদের মস্তিষ্কে সিগন্যাল যায়। তাই হাসিখুশি মানুষের সাথে থাকলে, অন্যদের হাসতে দেখলে সেই হাসি অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে যায়। সেটিও আমাদের মনের অবস্থা কিছুটা ভালো করে। (সূত্র, বিবিসি বাংলা)

মহান আল্লাহ আমাদেরকে সকল ছোটোবড়ো নেক আমলের সঙ্গে যুক্ত থেকে ঈমানের সাথে হাসিমুখে মৃত্যু নসিব করুন। আমীন।

লেখক: আলোচক, প্রাবন্ধিক ও সংগঠক

হাসিমুখে কথা বলা: সুন্নাহ ও বিজ্ঞানের আলোকে

 এইচ এম আবু বকর 
০৮ আগস্ট ২০২১, ০৩:১৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
হাসিমুখে কথা বলা: সুন্নাহ ও বিজ্ঞানের আলোকে
ছবি: সংগৃহীত

হাসি মানুষের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। হাসিতে একজন কুৎসিত মানুষকেও সুন্দর লাগে। কোনোরকম প্রসাধনীর বাহুল্য ছাড়াই হাসি একজন মানুষের ভেতরে থাকা লাবণ্যকে ফুটিয়ে তোলে। 

হাসি আপনার মার্জিত ব্যক্তিত্ব, আভিজাত্য, পারস্পরিক সুসম্পর্ক, বৈষয়িক সাফল্য এবং নেক আমলের কলেবর বৃদ্ধির জন্য খুবই সহজ ও তাৎপর্যপূর্ণ কাজ। 

প্রবাদ আছে, যে মন খুলে হাসতে পারে না, সে পৃথিবীর সবচেয়ে অসুখী ব্যক্তি। 

ইসলামে হাসিমুখে কথা বলার গুরুত্ব 

ইসলাম মানুষের সহজাত প্রকৃতির ধর্ম। এর সঙ্গে আমাদের মানসিকতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ইসলাম শুধু বাহ্যিক কতিপয় বিষয়ের গুরুগম্ভীর আইনগত হুকুম আরোপ করে না বরং এটা খোদ মানুষের অভ্যন্তরীণ হাজারো জিজ্ঞাসার জবাব। 

ছোটোবড়ো সবরকম ভালোকাজের গুণগ্রাহী মতাদর্শ ইসলাম। আজকাল তো বিশ্ব হাসি দিবসও পালন করা হয়ে থাকে। কিন্তু হাসির মতো ছোট্ট বিষয়টিকে বহু আগেই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।  

তিনি ইরশাদ করেছেন, কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ ভেবো না, যদিও তা তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করার বিষয় হয়। (মুসলিম শরীফ, হাদিস: ২৬২৬) 

অন্যত্র এক হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, প্রতিটি ভালো কাজ সদকা স্বরূপ। তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। (তিরমিজী শরীফ) 

পরিবারের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা

আমাদের কেউ কেউ এমন আছি যে, বন্ধু-কলিগদের সঙ্গে খুব সদালাপী ও সদাহাস্যজ্বল কিন্তু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পূর্ণ উল্টো। ঘরে এলে পুরো মাত্রায় রাশভারি টাইপের বনে যায়, বাইরে থেকে এসে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন খুব বিরসবদনে, এটা অনুচিত। 

পরিবারের লোকজন আমাদের থেকে বেশি সদাচারের হকদার। তারা আমাদের থেকে সুন্দর আচরণ বেশি প্রত্যাশা করে। 

এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি নিজের কোনো মুসলিম ভাইকে খুশি করার জন্য এমনভাবে সাক্ষাৎ করে, যেমনটি সে পছন্দ করে; (এর বিনিময়ে) কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাকে খুশি করবেন। (আলমুজামুস সগির, তবারানি, হাদিস: ১১৭৮)

প্রতিবেশী ও সর্বসাধারণের সাথে হাসিমুখে থাকা

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমার উপরে তোমার প্রতিবেশীর অধিকার আছে। সহাবস্থানমূলক অন্যান্য অধিকারের সঙ্গে সঙ্গে সদাচরণ, কল্যাণ কামনা  ও হাসিমুখে দুটো কথারও তারা হকদার। 

হজরত কায়েস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জারিরকে (রা.) বলতে শুনেছি, ‘আমার ইসলাম গ্রহণের পর থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই আমাকে দেখেছেন, আমার সামনে মুচকি হাসি দিয়েছেন।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ২৪৯) 

হাসিখুশী থাকার বৈজ্ঞানিক উপকারিতা

মনোবিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেছেন, হাসির শারীরিক দিকও আছে। হাসলে আমাদের হৃদযন্ত্র, শ্বাসযন্ত্র, এগুলোর একপ্রকার ব্যায়াম হয়। সুতরাং যারা প্রায়শ হাসে, তারা শারীরিক মানসিক দিক থেকে ভালো আছে ধরে নেয়া যায়। 

ড. মুহাম্মদ ফারুক হোসেনের মতে, কেউ যদি হাসতে না পারে, যদি মনে হয় যে, তিনি হাসার মতো কিছু পাচ্ছেন না, তাহলে তার কোনো মানসিক বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। 

তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, হাসির একটা সংক্রামক প্রবণতা আছে। হাসির একটা চেহারা আছে, সেটা দেখলে আমাদের মস্তিষ্কে সিগন্যাল যায়। তাই হাসিখুশি মানুষের সাথে থাকলে, অন্যদের হাসতে দেখলে সেই হাসি অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে যায়। সেটিও আমাদের মনের অবস্থা কিছুটা ভালো করে। (সূত্র, বিবিসি বাংলা) 

মহান আল্লাহ আমাদেরকে সকল ছোটোবড়ো নেক আমলের সঙ্গে যুক্ত থেকে ঈমানের সাথে হাসিমুখে মৃত্যু নসিব করুন। আমীন। 

লেখক: আলোচক, প্রাবন্ধিক ও সংগঠক

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন