কারও কথা রেকর্ড ও ফাঁস করা জায়েজ আছে কি?
jugantor
কারও কথা রেকর্ড ও ফাঁস করা জায়েজ আছে কি?

  মুফতি কাওছার হোছাইন  

১৯ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪৩:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

কারও কথা রেকর্ড এবং ফাঁস করলে কি গুনাহ হবে?

প্রশ্ন: অনুমতি ছাড়া কারও কোনো কথা রেকর্ড করা জায়েজ আছে কি?

উত্তর: একে অপরের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যেসব কথাবর্তা হয় তা আমানত স্বরূপ। এ জন্য অনুমতি ছাড়া ইনকামিং বা আউটগোয়িং কোনো কল রেকর্ড করা যাবে না।

সুতরাং অনুমতি ছাড়া কারও কল রেকর্ড করা এবং তা প্রকাশ করা গুনাহের কাজ। বিশেষত কোনো গোপন কথা, যা একে অপরের মাঝে গোপন রাখার শর্ত আরোপ করা হয় এবং শ্রবণকারীকে আমানতদ্বার ভেবে কথা বলা হয়, এমন কথাবার্তা তো রেকর্ড করা ও প্রকাশ করার প্রশ্নই আসে না।

সুতরাং অনুমতি ছাড়া কারও কল রেকর্ড করা এবং তা ভিন্ন খাতে বা নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করা নাজায়েজ। এহেন কাজ থেকে মুসলিম হিসেবে বিরত থাকা একান্ত আবশ্যক।

কেননা হাদিস শরিফে এসেছে, জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাজি থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কথা বলার পর এদিক-সেদিক তাকায়, তবে তার এ কথা (শ্রবণকারীর জন্য) আমানত বলে গণ্য। (তিরমিজি শরিফ ১৯৫৯)

হযরত হাসান বসরি (রহ.) বলেন, তোমার ভাইয়ের গোপন বিষয় কারও কাছে বলা–এটিও খিয়ানত। (আসসামত, ইবনু আবিদদুনয়া ৪০৪)

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় আইন—

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৩ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের 'চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার' রয়েছে।

অর্থাৎ, ফোনে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিকের গোপনীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখার নিশ্চয়তা দেয় আইন। তার মানে, ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া ফোনালাপ রেকর্ড করা এবং রেকর্ড ছড়িয়ে দেওয়া আইনত অপরাধ।

আইনজীবীরা মনে করেন, অনুমতি ছাড়া কারও ফোনালাপের রেকর্ড ছড়িয়ে দিলে তিনি প্রচলিত আইন অনুযায়ী মানহানির মামলা করতে পারেন। ডিজিটাল মাধ্যমে রেকর্ড ছড়ানো হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও মামলা করতে পারেন।

লেখক: আরবি প্রভাষক, দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা, ঢাকা

কারও কথা রেকর্ড ও ফাঁস করা জায়েজ আছে কি?

 মুফতি কাওছার হোছাইন 
১৯ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কারও কথা রেকর্ড এবং ফাঁস করলে কি গুনাহ হবে?
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: অনুমতি ছাড়া কারও কোনো কথা রেকর্ড করা জায়েজ আছে কি?

উত্তর: একে অপরের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যেসব কথাবর্তা হয় তা আমানত স্বরূপ। এ জন্য অনুমতি ছাড়া ইনকামিং বা আউটগোয়িং কোনো কল রেকর্ড করা যাবে না। 

সুতরাং অনুমতি ছাড়া কারও কল রেকর্ড করা এবং তা প্রকাশ করা গুনাহের কাজ। বিশেষত কোনো গোপন কথা, যা একে অপরের মাঝে গোপন রাখার শর্ত আরোপ করা হয় এবং শ্রবণকারীকে আমানতদ্বার ভেবে কথা বলা হয়, এমন কথাবার্তা তো রেকর্ড করা ও প্রকাশ করার প্রশ্নই আসে না। 

সুতরাং অনুমতি ছাড়া কারও কল রেকর্ড করা এবং তা ভিন্ন খাতে বা নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করা নাজায়েজ। এহেন কাজ থেকে মুসলিম হিসেবে বিরত থাকা একান্ত আবশ্যক।

কেননা হাদিস শরিফে এসেছে, জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাজি থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কথা বলার পর এদিক-সেদিক তাকায়, তবে তার এ কথা (শ্রবণকারীর জন্য) আমানত বলে গণ্য। (তিরমিজি শরিফ ১৯৫৯)

হযরত হাসান বসরি (রহ.) বলেন, তোমার ভাইয়ের গোপন বিষয় কারও কাছে বলা–এটিও খিয়ানত। (আসসামত, ইবনু আবিদদুনয়া ৪০৪)

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় আইন—

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৩ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের 'চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার' রয়েছে।

অর্থাৎ, ফোনে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিকের গোপনীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখার নিশ্চয়তা দেয় আইন। তার মানে, ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া ফোনালাপ রেকর্ড করা এবং রেকর্ড ছড়িয়ে দেওয়া আইনত অপরাধ।

আইনজীবীরা মনে করেন, অনুমতি ছাড়া কারও ফোনালাপের রেকর্ড ছড়িয়ে দিলে তিনি প্রচলিত আইন অনুযায়ী মানহানির মামলা করতে পারেন। ডিজিটাল মাধ্যমে রেকর্ড ছড়ানো হলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও মামলা করতে পারেন।

লেখক: আরবি প্রভাষক, দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা, ঢাকা
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন