নিরাপদ সড়ক হোক জীবনপথের সবক
jugantor
নিরাপদ সড়ক হোক জীবনপথের সবক

  মাওলানা ওহিদুদ্দিন খান, তর্জমা: মওলবি আশরাফ  

৩০ নভেম্বর ২০২১, ১২:৫৬:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

নিরাপদ সড়ক হোক জীবনপথের সবক

শহরের ব্যস্ত সড়কে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য তাই সড়কে নানা রকমের সাইন-সিগন্যাল থাকে।

বড় বোর্ডে লেখা থাকে— ‘Lane driving is sane driving’ অথবা ‘যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখুন, নিজে বাঁচুন, অপরকে বাঁচান।’

অর্থাৎ ড্রাইভার যদি সড়কে চলার নিয়মাবলি রক্ষা চলে, তাহলে অনেক দুর্ঘটনা নিজেকে বাঁচাতে পারে। মানুষজনও তখন এই আশঙ্কা থেকে মুক্ত হতে পারে যে, বাড়িতে পৌঁছানোর বদলে কবরস্থানে পৌঁছুবে না।

লন্ডনের এক ড্রাইভার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে ট্রাফিকের বিভিন্ন নিয়ম নিয়ে একটি প্রবন্ধ ছাপিয়েছিলেন।

সেখানে তিনি লিখেন— ‘মনে করুন আপনার গাড়ি নিরাপদ গতিতেই সড়কে চলছে। আচমকা এক গলি থেকে লকলকে জিভের নিয়ন্ত্রণহারা এক ট্রাক বের হয়ে আসে, আপনি সাইড হবেন কিন্তু ঠিক ওখানেই একটা বাচ্চা দাঁড়িয়ে আছে। আপনি যদি তখন চোখে শুধু ট্রাক দেখেন কিন্তু বাচ্চাটাকে খেয়াল না করেন, তারমানে আপনি এখনও সড়কে চলার ড্রাইভার হননি। আপনি ড্রাইভার হলে ট্রাকও দেখতেন সাথে বাচ্চাটাও দেখতেন। যদিও সেই সময় বাচ্চাটা আপনার চোখে পড়ার কথা না, কিন্তু আপনি আশপাশ না দেখেই যদি গাড়ি সাইড করে দেন, তাহলে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা নিশ্চিত।’

সড়কে চলা জীবনপথে চলার মতোই। মানুষ যদি চায় তাহলে সড়ক থেকেই জীবনের দীর্ঘ পথে চলার সবক শিখতে পারে। দুই পথেই চলতে প্রয়োজন ট্রাফিক নিয়ম অনুসরণের। স্থির বুদ্ধির ব্যবহার, তার সাথে প্রয়োজন পরিশীলন।

ডাক্তার আবদুল জলিল সাহেব ১৯৭০ সালে জাপান থেকে ফিরে এসে ওখানকার দুই ড্রাইভারের আচরণ এভাবে বর্ণনা করেছিলেন— ‘একদিন দেখি কী, দুটো গাড়ি একটার সাথে আরেকটার ধাক্কা লাগে। দুই গাড়ি থেকে তখন দুই জাপানি ড্রাইভার নেমে আসে, তারপর একে অপরের সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে একজন বলল, আমি ভুল করেছি আমায় ক্ষমা করে দিন। অপরজন বলল, ভুল আমি করেছি, আমায় আপনি ক্ষমা করুন।’

এই ধরনের আচরণ কেবল আত্মিক বিকাশের ফলেই ঘটে। নিজেকে নিজের হাতের মুঠোয় ধারণ করতে না পারলে এমনটি সম্ভব নয়।

নিজের মেজাজ-মর্জি সবসময় নিজের মধ্যেই নিয়ন্ত্রিত রাখা উচিৎ। যদি সেটা বেজায়গায় প্রকাশ করে ফেলেন, তাহলে গতিপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বেন, আর তার ফলাফল মোটেও ভালো হবে না। জীবনপথে বড় বিপদের সামনে পড়ে ছোটখাটো বিষয়গুলো থেকে বেখেয়াল হয়ে গেলে চলবে না।

যদি আপনার চোখ ‘প্রত্যক্ষ’ জিনিসে সীমিত থাকে আর ‘পরোক্ষ’ জিনিস এড়িয়ে যায়, তাহলে আপনি এক দুর্ঘটনা থেকে নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে আরেক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসবেন, সাফল্য কখনো আপনার হাতের নাগালে আসবে না।

নিরাপদ সড়ক হোক জীবনপথের সবক

 মাওলানা ওহিদুদ্দিন খান, তর্জমা: মওলবি আশরাফ 
৩০ নভেম্বর ২০২১, ১২:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
নিরাপদ সড়ক হোক জীবনপথের সবক
ছবি: সংগৃহীত

শহরের ব্যস্ত সড়কে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য তাই সড়কে নানা রকমের সাইন-সিগন্যাল থাকে। 

বড় বোর্ডে লেখা থাকে— ‘Lane driving is sane driving’ অথবা ‘যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখুন, নিজে বাঁচুন, অপরকে বাঁচান।’ 

অর্থাৎ ড্রাইভার যদি সড়কে চলার নিয়মাবলি রক্ষা চলে, তাহলে অনেক দুর্ঘটনা নিজেকে বাঁচাতে পারে। মানুষজনও তখন এই আশঙ্কা থেকে মুক্ত হতে পারে যে, বাড়িতে পৌঁছানোর বদলে কবরস্থানে পৌঁছুবে না। 

লন্ডনের এক ড্রাইভার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে ট্রাফিকের বিভিন্ন নিয়ম নিয়ে একটি প্রবন্ধ ছাপিয়েছিলেন। 

সেখানে তিনি লিখেন— ‘মনে করুন আপনার গাড়ি নিরাপদ গতিতেই সড়কে চলছে। আচমকা এক গলি থেকে লকলকে জিভের নিয়ন্ত্রণহারা এক ট্রাক বের হয়ে আসে, আপনি সাইড হবেন কিন্তু ঠিক ওখানেই একটা বাচ্চা দাঁড়িয়ে আছে। আপনি যদি তখন চোখে শুধু ট্রাক দেখেন কিন্তু বাচ্চাটাকে খেয়াল না করেন, তারমানে আপনি এখনও সড়কে চলার ড্রাইভার হননি। আপনি ড্রাইভার হলে ট্রাকও দেখতেন সাথে বাচ্চাটাও দেখতেন। যদিও সেই সময় বাচ্চাটা আপনার চোখে পড়ার কথা না, কিন্তু আপনি আশপাশ না দেখেই যদি গাড়ি সাইড করে দেন, তাহলে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা নিশ্চিত।’ 

সড়কে চলা জীবনপথে চলার মতোই। মানুষ যদি চায় তাহলে সড়ক থেকেই জীবনের দীর্ঘ পথে চলার সবক শিখতে পারে। দুই পথেই চলতে প্রয়োজন ট্রাফিক নিয়ম অনুসরণের। স্থির বুদ্ধির ব্যবহার, তার সাথে প্রয়োজন পরিশীলন। 

ডাক্তার আবদুল জলিল সাহেব ১৯৭০ সালে জাপান থেকে ফিরে এসে ওখানকার দুই ড্রাইভারের আচরণ এভাবে বর্ণনা করেছিলেন— ‘একদিন দেখি কী, দুটো গাড়ি একটার সাথে আরেকটার ধাক্কা লাগে। দুই গাড়ি থেকে তখন দুই জাপানি ড্রাইভার নেমে আসে, তারপর একে অপরের সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে একজন বলল, আমি ভুল করেছি আমায় ক্ষমা করে দিন। অপরজন বলল, ভুল আমি করেছি, আমায় আপনি ক্ষমা করুন।’ 

এই ধরনের আচরণ কেবল আত্মিক বিকাশের ফলেই ঘটে। নিজেকে নিজের হাতের মুঠোয় ধারণ করতে না পারলে এমনটি সম্ভব নয়।

নিজের মেজাজ-মর্জি সবসময় নিজের মধ্যেই নিয়ন্ত্রিত রাখা উচিৎ। যদি সেটা বেজায়গায় প্রকাশ করে ফেলেন, তাহলে গতিপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বেন, আর তার ফলাফল মোটেও ভালো হবে না। জীবনপথে বড় বিপদের সামনে পড়ে ছোটখাটো বিষয়গুলো থেকে বেখেয়াল হয়ে গেলে চলবে না। 

যদি আপনার চোখ ‘প্রত্যক্ষ’ জিনিসে সীমিত থাকে আর ‘পরোক্ষ’ জিনিস এড়িয়ে যায়, তাহলে আপনি এক দুর্ঘটনা থেকে নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে আরেক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসবেন, সাফল্য কখনো আপনার হাতের নাগালে আসবে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন