সৌদ রাজবংশ টিকে থাকার রহস্য
jugantor
সৌদ রাজবংশ টিকে থাকার রহস্য

  মূল: মাওলানা ওহিদুদ্দিন খান, তর্জমা : মওলবি আশরাফ  

২৪ মার্চ ২০২২, ২১:০৩:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

সৌদ রাজবংশ টিকে থাকার রহস্য

আরব মুল্লুকে সৌদ বংশের রাজত্ব শুরু হয় ১৯০২ সালে। আরব দেশগুলোতে যেখানে রাজবংশের উত্থান-পতন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, সেখানে সৌদি আরবে রাজবংশ কোনো ঝুটঝামেলা ছাড়াই শাসনকার্য চালিয়ে যাচ্ছে।

এই সাফল্যের রহস্য হলো তাদের ঐক্যবন্ধন। কয়েক মাস আগে আমেরিকার সিএআই থেকে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, সেখানে বলা হয়— ‘সৌদি রাজবংশে অভ্যন্তরীণ ভাঙন শুরু হয়েছে।’ এরপর জনৈক পশ্চিমা রাষ্ট্রদূত এই ব্যাপারে প্রশ্ন করলে সৌদি শাহজাদা বলেন— ‘যদি কোনো বিষয়ে সৌদি আরবের রাজবংশ একমত হয়ে থাকে, সেই বিষয়টি হলো যেকোনো উপায়ে নিজেদের পরিবারকে টিকিয়ে রাখা। যদি আদতেই আমরা পরস্পরে লড়াই শুরু করি, তাহলে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারব না।’ (টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ৩ নভেম্বর ১৯৭৯)

এটাই জীবনে সফল হওয়ার রহস্য, সৌদি রাজবংশ যার অনুসরণ করে। যদি মুসলিম সমাজও এই নীতি অনুসরণ করত, তাহলে আচমকাই মুসলিম বিশ্ব এতবেশি শক্তিশালী হয়ে উঠত যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। সেই সব সমস্যারও সমাধান হতো মুসলমানরা যার জন্য কোরবানির পর কোরবানি দিয়ে যাচ্ছে তবু সমাধান হচ্ছে না।

নিজেদের ভেতরের কোনো ‘কল্পিত শত্রুর’ বিরুদ্ধে তো মুসলিমরা বরাবরই একমত হয়, কিন্তু ইসলামের পুনরুত্থান ও মুসলিম জাতির উন্নয়নে একতাবদ্ধ হতে পারে না। যা-ইবা একতাবদ্ধ হয়, আবার কল্পিত শত্রুর পতনের পরপরই সব বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ইতিবাচক উদ্দেশ্যে যদি একতাবদ্ধ না হতে পারে, তাহলে নেতিবাচক উদ্দেশ্যে একতাবদ্ধ হওয়ার কোনো দাম নাই। এই ধরনের একতাবদ্ধ হওয়া অসুস্থ সমাজেরই লক্ষণ, সুস্থতার নয়।

যদি প্রকৃত উদ্দেশ্য হয় ‘ইসলামকে’ সিংহাসনে বসানো, তাহলে কখনোই মতবিরোধ হওয়া সম্ভব নয়। ‘ইসলামের দুশমনকে’ হটিয়েই ‘ইসলামকে’ সিংহাসনে বসানো সম্ভব। এক্ষেত্রে যে যার মতো জিম্মাদারি পালন করবে।

কিন্তু উদ্দেশ্য যদি ব্যক্তিবিশেষকে ইসলামের ঠিকাদার ঘোষণা দিয়ে তাকে সিংহাসনে বসানো, তাহলে কোনোদিনই একতাবদ্ধ হওয়া সম্ভব নয়।

কেননা এক্ষেত্রে প্রত্যেকেই চাইবে নিজেকে সিংহাসনে বসাতে, অথচ আসন মাত্র একটি! পদের লোভ মতবিরোধ করে, আর ইসলাম প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা একতা তৈরি করে।

কোনো জাতির মধ্যে ঐক্য না থাকার কারণগুলো সবসময় ভাসাভাসা হয়, তাদের অনৈক্যের সূত্রপাত খুবই ছোটখাটো বিষয় থেকে হয়। একদম নগন্য কিছু সুবিধার জন্য লোকজন একতাবদ্ধ হতে চায় না।

দেখা যায় দশটা ছোট ছোট দলের দশজন নেতা, কিন্তু এই দশটা দল এক করে ফেললে মাত্র একজন নেতা হবে। পদলোভী লোকজন এই কারণেই মতবিরোধ জিইয়ে রাখে, নানাবিধ কারণ তৈরি করে একতা থেকে দূরে থাকে।

আবার কিছু লোক নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন থাকার ফলে তাদের মধ্যে স্বজনপ্রীতি জন্ম নেয়। নিজেদের সবকিছু ভুলের ঊর্ধ্বে, এবং সবকিছুর মালিকানা তাদের এমন হাবভাব নেয়।

তো কথা হলো একতা অনেক বড় শক্তি, কিন্তু একতা কেবল নিজের আমিত্বকে বিসর্জনের মূল্যেই পাওয়া সম্ভব। আর আমিত্বকে, মানে নিজেকে কোরবানি দেওয়াই মানুষের জন্য আল্লাহর তরফ থেকে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।


সৌদ রাজবংশ টিকে থাকার রহস্য

 মূল: মাওলানা ওহিদুদ্দিন খান, তর্জমা : মওলবি আশরাফ 
২৪ মার্চ ২০২২, ০৯:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সৌদ রাজবংশ টিকে থাকার রহস্য
প্রতীকি ছবি

আরব মুল্লুকে সৌদ বংশের রাজত্ব শুরু হয় ১৯০২ সালে। আরব দেশগুলোতে যেখানে রাজবংশের উত্থান-পতন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, সেখানে সৌদি আরবে রাজবংশ কোনো ঝুটঝামেলা ছাড়াই শাসনকার্য চালিয়ে যাচ্ছে। 

এই সাফল্যের রহস্য হলো তাদের ঐক্যবন্ধন। কয়েক মাস আগে আমেরিকার সিএআই থেকে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, সেখানে বলা হয়— ‘সৌদি রাজবংশে অভ্যন্তরীণ ভাঙন শুরু হয়েছে।’ এরপর জনৈক পশ্চিমা রাষ্ট্রদূত এই ব্যাপারে প্রশ্ন করলে সৌদি শাহজাদা বলেন— ‘যদি কোনো বিষয়ে সৌদি আরবের রাজবংশ একমত হয়ে থাকে, সেই বিষয়টি হলো যেকোনো উপায়ে নিজেদের পরিবারকে টিকিয়ে রাখা। যদি আদতেই আমরা পরস্পরে লড়াই শুরু করি, তাহলে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারব না।’ (টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ৩ নভেম্বর ১৯৭৯)

এটাই জীবনে সফল হওয়ার রহস্য, সৌদি রাজবংশ যার অনুসরণ করে। যদি মুসলিম সমাজও এই নীতি অনুসরণ করত, তাহলে আচমকাই মুসলিম বিশ্ব এতবেশি শক্তিশালী হয়ে উঠত যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। সেই সব সমস্যারও সমাধান হতো মুসলমানরা যার জন্য কোরবানির পর কোরবানি দিয়ে যাচ্ছে তবু সমাধান হচ্ছে না। 

নিজেদের ভেতরের কোনো ‘কল্পিত শত্রুর’ বিরুদ্ধে তো মুসলিমরা বরাবরই একমত হয়, কিন্তু ইসলামের পুনরুত্থান ও মুসলিম জাতির উন্নয়নে একতাবদ্ধ হতে পারে না। যা-ইবা একতাবদ্ধ হয়, আবার কল্পিত শত্রুর পতনের পরপরই সব বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 

ইতিবাচক উদ্দেশ্যে যদি একতাবদ্ধ না হতে পারে, তাহলে নেতিবাচক উদ্দেশ্যে একতাবদ্ধ হওয়ার কোনো দাম নাই। এই ধরনের একতাবদ্ধ হওয়া অসুস্থ সমাজেরই লক্ষণ, সুস্থতার নয়। 

যদি প্রকৃত উদ্দেশ্য হয় ‘ইসলামকে’ সিংহাসনে বসানো, তাহলে কখনোই মতবিরোধ হওয়া সম্ভব নয়। ‘ইসলামের দুশমনকে’ হটিয়েই ‘ইসলামকে’ সিংহাসনে বসানো সম্ভব। এক্ষেত্রে যে যার মতো জিম্মাদারি পালন করবে। 

কিন্তু উদ্দেশ্য যদি ব্যক্তিবিশেষকে ইসলামের ঠিকাদার ঘোষণা দিয়ে তাকে সিংহাসনে বসানো, তাহলে কোনোদিনই একতাবদ্ধ হওয়া সম্ভব নয়। 

কেননা এক্ষেত্রে প্রত্যেকেই চাইবে নিজেকে সিংহাসনে বসাতে, অথচ আসন মাত্র একটি! পদের লোভ মতবিরোধ করে, আর ইসলাম প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা একতা তৈরি করে।

কোনো জাতির মধ্যে ঐক্য না থাকার কারণগুলো সবসময় ভাসাভাসা হয়, তাদের অনৈক্যের সূত্রপাত খুবই ছোটখাটো বিষয় থেকে হয়। একদম নগন্য কিছু সুবিধার জন্য লোকজন একতাবদ্ধ হতে চায় না। 

দেখা যায় দশটা ছোট ছোট দলের দশজন নেতা, কিন্তু এই দশটা দল এক করে ফেললে মাত্র একজন নেতা হবে। পদলোভী লোকজন এই কারণেই মতবিরোধ জিইয়ে রাখে, নানাবিধ কারণ তৈরি করে একতা থেকে দূরে থাকে। 

আবার কিছু লোক নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন থাকার ফলে তাদের মধ্যে স্বজনপ্রীতি জন্ম নেয়। নিজেদের সবকিছু ভুলের ঊর্ধ্বে, এবং সবকিছুর মালিকানা তাদের এমন হাবভাব নেয়। 

তো কথা হলো একতা অনেক বড় শক্তি, কিন্তু একতা কেবল নিজের আমিত্বকে বিসর্জনের মূল্যেই পাওয়া সম্ভব। আর আমিত্বকে, মানে নিজেকে কোরবানি দেওয়াই মানুষের জন্য আল্লাহর তরফ থেকে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।


 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন