ঘূর্ণিঝড়ে বিশ্বনবীর আমল
jugantor
ঘূর্ণিঝড়ে বিশ্বনবীর আমল

  মাহমুদ আহমদ  

০৯ মে ২০২২, ১৭:২৫:৫৪  |  অনলাইন সংস্করণ

ঘূর্ণিঝড়ে বিশ্বনবীর আমল

ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র প্রভাবে উত্তাল সাগর। ফলে পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী রোববার রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

এটি আগামী পাঁচদিন অব্যাহত থাকবে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সব ট্রলার ও নৌকাকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া বইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে যেতেন এবং নামাজে মশগুল হতেন। (মিশকাত)
সাহাবিদের জীবনে আমরা দেখি, বিপদে-মুসিবতে তারা নামাজে দাঁড়াতেন ও ধৈর্য ধারণ করতেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ)

ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় রাসুল (সা.) তার উম্মতকে বিচলিত না হয়ে দোয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় ও বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকতে পবিত্র কোরআনের বিশেষ দোয়া- ‘রাব্বানাকশিফ আন্নাল আজাবা ইন্না মুমিনুন।’

অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের উপর থেকে আপনার শাস্তি প্রত্যাহার করুন, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করছি।’ (সুরা দুখান : আয়াত ১২)

প্রবল ঘূর্ণিঝড়-বৃষ্টিতে যদি মানুষের জন জীবনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে কিংবা ফসলাদি নষ্ট হয় বা চলাচলের রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, তবে সে অবস্থায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দোয়া পড়তেন-

‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের থেকে (ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টি) ফিরিয়ে নাও, আমাদের ওপর দিয়ো না।’ (বোখারি)

জোরে বাতাশ প্রবাহিত হলে তিনি (সা.) যে দোয়া পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা’

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এর কল্যাণটাই কামনা করি। এবং আপনার নিকট এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)।

ঝড় বা বাতাশ থেকে বাঁচতে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন খাইরি হাজিহির রিহি ওয়া খাইরা মা ফিহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করি এর কল্যাণ, এর মধ্যকার কল্যাণ এবং যা এর সাথে প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই এর অনিষ্ট থেকে, এর ভেতরে নিহিত অনিষ্ট থেকে এবং যা এর সঙ্গে প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে (বোখারি)।

আসুন, আমরা আমাদের পাপ সমূহের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাই আর অধিকহারে দোয়ায় রত হই। আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে ঘূর্ণিঝড় সহ প্রাকৃতিক সব বিপদাপদ থেকে রক্ষা করুন, আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com

ঘূর্ণিঝড়ে বিশ্বনবীর আমল

 মাহমুদ আহমদ 
০৯ মে ২০২২, ০৫:২৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ঘূর্ণিঝড়ে বিশ্বনবীর আমল
প্রতীকি ছবি

ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র  প্রভাবে উত্তাল সাগর। ফলে পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী রোববার রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। 

এটি আগামী পাঁচদিন অব্যাহত থাকবে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সব ট্রলার ও নৌকাকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া বইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে যেতেন এবং নামাজে মশগুল হতেন। (মিশকাত) 
সাহাবিদের জীবনে আমরা দেখি, বিপদে-মুসিবতে তারা নামাজে দাঁড়াতেন ও ধৈর্য ধারণ করতেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ) 

ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় রাসুল (সা.) তার উম্মতকে বিচলিত না হয়ে দোয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। 

ঘূর্ণিঝড় ও বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকতে পবিত্র কোরআনের বিশেষ দোয়া- ‘রাব্বানাকশিফ আন্নাল আজাবা ইন্না মুমিনুন।’

অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের উপর থেকে আপনার শাস্তি প্রত্যাহার করুন, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করছি।’ (সুরা দুখান : আয়াত ১২)

প্রবল ঘূর্ণিঝড়-বৃষ্টিতে যদি মানুষের জন জীবনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে কিংবা ফসলাদি নষ্ট হয় বা চলাচলের রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যায়, তবে সে অবস্থায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দোয়া পড়তেন- 

‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা।’ 

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের থেকে (ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টি) ফিরিয়ে নাও, আমাদের ওপর দিয়ো না।’ (বোখারি)

জোরে বাতাশ প্রবাহিত হলে তিনি (সা.) যে দোয়া পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা’ 

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এর কল্যাণটাই কামনা করি। এবং আপনার নিকট এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)। 

ঝড় বা বাতাশ থেকে বাঁচতে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তেন- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন খাইরি হাজিহির রিহি ওয়া খাইরা মা ফিহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি।’ 

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করি এর কল্যাণ, এর মধ্যকার কল্যাণ এবং যা এর সাথে প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই এর অনিষ্ট থেকে, এর ভেতরে নিহিত অনিষ্ট থেকে এবং যা এর সঙ্গে প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে (বোখারি)।

আসুন, আমরা আমাদের পাপ সমূহের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাই আর অধিকহারে দোয়ায় রত হই। আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে ঘূর্ণিঝড় সহ প্রাকৃতিক সব বিপদাপদ থেকে রক্ষা করুন, আমিন।  

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন