জাতি গঠনের রহস্য
jugantor
জাতি গঠনের রহস্য

  মূল: মওলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান, তর্জমা: মওলবি আশরাফ  

২৩ মে ২০২২, ২২:১৯:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রকৃতির নিয়মই এমন—চৌম্বকক্ষেত্রের মধ্যে তারের কুন্ডলীর ঘূর্ণন হলে সেখানে যত তার থাকবে সব তারেই বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে। জেনারেটর এই নিয়ম ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু যদি এমন হতো যে জেনারেটর চালু করার পর দেখা গেল কোনো তারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়েছে আর কোনো তারে হয়নি, তাহলে আমাদের সমাজব্যবস্থা এলোমেলো হয়ে যেত। কারণ তখন সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ হতো না, বিদ্যুতের ব্যবহারও সেই অনুপাতে হতো না। এবং সমাজ-সভ্যতার বিকাশ থমকে যেত।

রাখাল বালক শতশত ছাগল নিয়ে মাঠে চড়ে বেড়ায়, ছাগল শাবকেরা এদিক-ওদিক ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু দিনশেষে যখন রাখাল শিশ দেয়, সব ছাগল তার দিকে ছুটে আসে। রাখাল তখন সব ছাগল নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু যদি এমন হতো রাখাল শিশ দেওয়ার পরও সব ছাগল নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে, কোনো নড়ন-চড়ন নাই, তাহলে রাখালের ছাগল প্রতিপালন করা মুশকিল হয়ে যেত।

কোনো জাতির বিকাশও একই পদ্ধতিতে হয়, বিদ্যুৎশক্তি বা শিশধ্বনির মতো কিছু তাদের সামগ্রিকভাবে চালিত করবে, কেউ প্রভাবিত হবে আর কেউ হবে না এমন হলে হবে না।

জনাব গুস্তাওলিবান আরবদের ইতিহাস পাঠ করার পর এই বিষয়ে বলেন, যার সারকথা এমন: মানুষের উন্নতির সবচেয়ে বড় কারণ হলো কোনো নির্দিষ্ট আদর্শকে সবার অনুসরণ করা। এই আদর্শ যেমনই হোক, শুধু এতটুকু শক্তি থাকলেই যথেষ্ট যে সমগ্র জাতিকে এক ও অভিন্ন করে তুলবে। এবং জাতির প্রত্যেক সদস্যের মনে এই আবেগ থাকতে হবে যে এই আদর্শের জন্য প্রয়োজনে আমি জান দিব, তবু মাথানত করব না।

রোমানদের আদর্শ রোম সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, খ্রিষ্টানদের এই বিশ্বাস গোটা ইউরোপকে বশ মানিয়েছে। বর্তমান সময়েও বিভিন্ন আদর্শ মানুষকে একীভূত করে কোনো বৈপ্লবিক কিছু সাধনে উদগ্রীব করে তুলে। যদি মানুষের মধ্যে এমন কোনো আদর্শ না থাকত যা সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড় না করায়, তাহলে মানবজাতি এখনও অসভ্য থেকে যেত।

আরবরা দেশের পর দেশ জয় লাভ করেছে। তারা কখনো পরাজিত হলেও হার মানেনি, প্রতিপক্ষের যুদ্ধকৌশল রপ্ত করেছে, তারপর তাদের পরাজিত করেছে। প্রত্যেক আরব তার আদর্শের জন্য জান কোরবান করতে প্রস্তুত ছিল, তার বিপরীতে রোমান ও গ্রিকদের আদর্শ ততদিনে মাঠে মারা গেছিল। (তমদ্দুনে আরব, পৃষ্ঠা ৬২৯)

জাতি গঠনের রহস্য

 মূল: মওলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান, তর্জমা: মওলবি আশরাফ 
২৩ মে ২০২২, ১০:১৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

প্রকৃতির নিয়মই এমন—চৌম্বকক্ষেত্রের মধ্যে তারের কুন্ডলীর ঘূর্ণন হলে সেখানে যত তার থাকবে সব তারেই বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে। জেনারেটর এই নিয়ম ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু যদি এমন হতো যে জেনারেটর চালু করার পর দেখা গেল কোনো তারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়েছে আর কোনো তারে হয়নি, তাহলে আমাদের সমাজব্যবস্থা এলোমেলো হয়ে যেত। কারণ তখন সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ হতো না, বিদ্যুতের ব্যবহারও সেই অনুপাতে হতো না। এবং সমাজ-সভ্যতার বিকাশ থমকে যেত।

রাখাল বালক শতশত ছাগল নিয়ে মাঠে চড়ে বেড়ায়, ছাগল শাবকেরা এদিক-ওদিক ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু দিনশেষে যখন রাখাল শিশ দেয়, সব ছাগল তার দিকে ছুটে আসে। রাখাল তখন সব ছাগল নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু যদি এমন হতো রাখাল শিশ দেওয়ার পরও সব ছাগল নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে, কোনো নড়ন-চড়ন নাই, তাহলে রাখালের ছাগল প্রতিপালন করা মুশকিল হয়ে যেত।

কোনো জাতির বিকাশও একই পদ্ধতিতে হয়, বিদ্যুৎশক্তি বা শিশধ্বনির মতো কিছু তাদের সামগ্রিকভাবে চালিত করবে, কেউ প্রভাবিত হবে আর কেউ হবে না এমন হলে হবে না। 

জনাব গুস্তাওলিবান আরবদের ইতিহাস পাঠ করার পর এই বিষয়ে বলেন, যার সারকথা এমন: মানুষের উন্নতির সবচেয়ে বড় কারণ হলো কোনো নির্দিষ্ট আদর্শকে সবার অনুসরণ করা। এই আদর্শ যেমনই হোক, শুধু এতটুকু শক্তি থাকলেই যথেষ্ট যে সমগ্র জাতিকে এক ও অভিন্ন করে তুলবে। এবং জাতির প্রত্যেক সদস্যের মনে এই আবেগ থাকতে হবে যে এই আদর্শের জন্য প্রয়োজনে আমি জান দিব, তবু মাথানত করব না। 

রোমানদের আদর্শ রোম সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, খ্রিষ্টানদের এই বিশ্বাস গোটা ইউরোপকে বশ মানিয়েছে। বর্তমান সময়েও বিভিন্ন আদর্শ মানুষকে একীভূত করে কোনো বৈপ্লবিক কিছু সাধনে উদগ্রীব করে তুলে। যদি মানুষের মধ্যে এমন কোনো আদর্শ না থাকত যা সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড় না করায়, তাহলে মানবজাতি এখনও অসভ্য থেকে যেত।

আরবরা দেশের পর দেশ জয় লাভ করেছে। তারা কখনো পরাজিত হলেও হার মানেনি, প্রতিপক্ষের যুদ্ধকৌশল রপ্ত করেছে, তারপর তাদের পরাজিত করেছে। প্রত্যেক আরব তার আদর্শের জন্য জান কোরবান করতে প্রস্তুত ছিল, তার বিপরীতে রোমান ও গ্রিকদের আদর্শ ততদিনে মাঠে মারা গেছিল। (তমদ্দুনে আরব, পৃষ্ঠা ৬২৯)
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন