মতবিরোধ হলে সাহাবীরা যা করতেন
jugantor
মতবিরোধ হলে সাহাবীরা যা করতেন

  মূল: মওলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান, তর্জমা: আহনাফ তাহমিদ প্রাতঃ  

২৮ জুন ২০২২, ২০:৪৯:০৯  |  অনলাইন সংস্করণ

বায়হাকি ও ইবনে আসাকির হজরত উরওয়া ইবনে যুবায়ের (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমর ইবনুল আস (রা.)-এর নেতৃত্বে একদল সাহাবিকে যাতুস সালাসিল যুদ্ধে পাঠালেন।

যাতুস সালাসিল ছিল সিরিয়ার এক প্রান্তে। আমর ইবনুল আস (রা.) ময়দানে পৌঁছে শত্রুর হালহাকিকত সরেজমিনে খোঁজ নিলেন। দেখা গেল শত্রুর সংখ্যা অনেক বেশি। তিনি ভয় পেয়ে গেলেন। অতিরিক্ত সৈন্য চেয়ে মদিনায় চিঠি পাঠালেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মুহাজিরদের একত্র করে দুই শ সদস্যের একটি দল গঠন করলেন। এই দলে আবু বকর, ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাদের মতো অনেক প্রবীণ সাহাবিও শরিক ছিলেন।

রাসুল (সা.) আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা.)-কে দলপ্রধান করে নির্দেশ দিলেন দ্রুত ভিত্তিতে আমর ইবনুল আস এর বাহিনীতে যোগ দিতে।

আবু উবাইদা (রা.) যথাস্থলে পৌঁছুলেন। দুটো দলের প্রধান কে হবেন—দেখা দিল প্রশ্ন। আমর ইবনুল আস (রা.) বললেন, 'যেহেতু আমি রাসুলুল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে লিখেছিলাম, আমার আবেদনের ভিত্তিতেই আপনাদের পাঠানো হয়েছে, সেহেতু আমিই তোমাদের দলপতি।'

আবু উবাইদার সঙ্গে আসা মুহাজিরগণ এ যুক্তি মানলেন না। তারা প্রস্তাব করলেন, আমর, আপনি আপনার দলের আমির; আর আবু উবাইদা মুহাজির দলের। আমর ইবনুল আস এমন বিভক্তি মানতে পারলেন না। তিনি পালটা যুক্তি দিয়ে বললেন, তোমরা তো অতিরিক্ত সৈন্য হিসেবে এসেছো, তোমাদের পাঠানোই হয়েছে আমার দলে যোগ দিয়ে আমাদেরকে সাহায্য করার জন্য।

আবু উবাইদা পরিস্থিতি দেখে বললেন, হে আমর, আপনার এ কথা জেনে রাখা উচিৎ যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বিদায়ের সময়ে এই মর্মে শপথ বাণী উচ্চারণ করেছেন যে, তোমরা যখন নিজেদের সঙ্গীদের কাছে পৌঁছে যাবে, পরস্পর মিলে কাজ করবে, বিচ্ছিন্ন হবে না। আল্লাহর কসম, তুমি যদি আমার এ কথা অমান্যও করো, আমি তোমার আনুগত্য করে যাব।

বর্ণনাকারী বলেন, এ-কথা বলেই আবু উবাইদা (রা.) নেতৃত্বভার আমর ইবনুল আস (রা.)-কে বুঝিয়ে দিলেন। এবং তার অধীনে যুদ্ধ করতে রাজি হয়ে গেলেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, চতুর্থ খণ্ড)

তারা দুজনেই যদি গোঁ ধরে বসে থাকতেন, তাহলে সঙ্কটটির সুষ্ঠু সমাধান হতো না। যে শক্তিকে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানো হয়েছিল, সেটা পারস্পরিক সংঘাতেই ফুরিয়ে যেত।

এমন সঙ্কটকালীন মুহূর্তে একজনের নতিস্বীকার পুরো দলকে শক্তিশালী করে তোলে। পক্ষান্তরে কেউই যখন নতিস্বীকার করতে চায় না, তখন গোটা দলের শক্তি খর্ব হয়। দুর্বল হয়ে পড়ে তারা।

মতবিরোধ হলে সাহাবীরা যা করতেন

 মূল: মওলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান, তর্জমা: আহনাফ তাহমিদ প্রাতঃ 
২৮ জুন ২০২২, ০৮:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বায়হাকি ও ইবনে আসাকির হজরত উরওয়া ইবনে যুবায়ের (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমর ইবনুল আস (রা.)-এর নেতৃত্বে একদল সাহাবিকে যাতুস সালাসিল যুদ্ধে পাঠালেন। 

যাতুস সালাসিল ছিল সিরিয়ার এক প্রান্তে। আমর ইবনুল আস (রা.) ময়দানে পৌঁছে শত্রুর হালহাকিকত সরেজমিনে খোঁজ নিলেন। দেখা গেল শত্রুর সংখ্যা অনেক বেশি। তিনি ভয় পেয়ে গেলেন। অতিরিক্ত সৈন্য চেয়ে মদিনায় চিঠি পাঠালেন। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) মুহাজিরদের একত্র করে দুই শ সদস্যের একটি দল গঠন করলেন। এই দলে আবু বকর, ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাদের মতো অনেক প্রবীণ সাহাবিও শরিক ছিলেন। 

রাসুল (সা.) আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা.)-কে দলপ্রধান করে নির্দেশ দিলেন দ্রুত ভিত্তিতে আমর ইবনুল আস এর বাহিনীতে যোগ দিতে।

আবু উবাইদা (রা.) যথাস্থলে পৌঁছুলেন। দুটো দলের প্রধান কে হবেন—দেখা দিল প্রশ্ন। আমর ইবনুল আস (রা.) বললেন, 'যেহেতু আমি রাসুলুল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে লিখেছিলাম, আমার আবেদনের ভিত্তিতেই আপনাদের পাঠানো হয়েছে, সেহেতু আমিই তোমাদের দলপতি।'

আবু উবাইদার সঙ্গে আসা মুহাজিরগণ এ যুক্তি মানলেন না। তারা প্রস্তাব করলেন, আমর, আপনি আপনার দলের আমির; আর আবু উবাইদা মুহাজির দলের। আমর ইবনুল আস এমন বিভক্তি মানতে পারলেন না। তিনি পালটা যুক্তি দিয়ে বললেন, তোমরা তো অতিরিক্ত সৈন্য হিসেবে এসেছো, তোমাদের পাঠানোই হয়েছে আমার দলে যোগ দিয়ে আমাদেরকে সাহায্য করার জন্য।

আবু উবাইদা পরিস্থিতি দেখে বললেন, হে আমর, আপনার এ কথা জেনে রাখা উচিৎ যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বিদায়ের সময়ে এই মর্মে শপথ বাণী উচ্চারণ করেছেন যে, তোমরা যখন নিজেদের সঙ্গীদের কাছে পৌঁছে যাবে, পরস্পর মিলে কাজ করবে, বিচ্ছিন্ন হবে না। আল্লাহর কসম, তুমি যদি আমার এ কথা অমান্যও করো, আমি তোমার আনুগত্য করে যাব।

বর্ণনাকারী বলেন, এ-কথা বলেই আবু উবাইদা (রা.) নেতৃত্বভার আমর ইবনুল আস (রা.)-কে বুঝিয়ে দিলেন। এবং তার অধীনে যুদ্ধ করতে রাজি হয়ে গেলেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, চতুর্থ খণ্ড)

তারা দুজনেই যদি গোঁ ধরে বসে থাকতেন, তাহলে সঙ্কটটির সুষ্ঠু সমাধান হতো না। যে শক্তিকে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানো হয়েছিল, সেটা পারস্পরিক সংঘাতেই ফুরিয়ে যেত। 

এমন সঙ্কটকালীন মুহূর্তে একজনের নতিস্বীকার পুরো দলকে শক্তিশালী করে তোলে। পক্ষান্তরে কেউই যখন নতিস্বীকার করতে চায় না, তখন গোটা দলের শক্তি খর্ব হয়। দুর্বল হয়ে পড়ে তারা।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন