হাজারো আলেমের শিক্ষক মুফতি রফি উসমানির জীবন ও কর্ম
jugantor
হাজারো আলেমের শিক্ষক মুফতি রফি উসমানির জীবন ও কর্ম

  মাওলানা তোফায়েল গাজালি  

১৯ নভেম্বর ২০২২, ১৫:০৫:৫৭  |  অনলাইন সংস্করণ

পাকিস্তান তো বটেই সমকালিন মুসলিম দুনিয়ার শীর্ষ আলেমদের অন্যত ব্যক্তিত্ব ছিলেন মুফতি রফি উসমানি। বিশ্বের নানা প্রান্তের হাজারো আলেমের শিক্ষক তিনি। দেশে দেশে ছড়িয়ে আছেন তার অগণিত ভক্ত ও অনুগামী।

রফি উসমানি তাফসিরে মারেফুল কুরআনের প্রণেতা মুফতি শফি (রহ.) এর বড় ছেলে। তিনি পকিস্তানের গ্রান্ড মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপিঠ দারুল উলুম করাচির সভাপতি।

তিনি বিশ্বখ্যাত ইসলামি স্কলার মাওলানা মুফতি মুহাম্মাদ তাকি উসমানির বড় ভাই।

মুফতি রফি উসমানি ১৯৩৬ সালের ২১ জুলাই অবিভক্ত ভারতের দেওবন্দে ঐতিহ্যবাহী উসমানি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক সম্রাট আশরাফ আলি থানভি (রহ.) তার নাম রাখেন।

পবিত্র কুরআন হিফজ ও প্রাথমিক পড়াশোনা তিনি দারুল উলুম দেওবন্দে করেন। ১৯৪৮ সালের ১ মে দেশ ভাগের প্রেক্ষিতে তিনি তার বাবা মুফতি শফি (রহ.)-এর সঙ্গে সপরিবারে পাকিস্তান চলে যান। ১৯৫১ সালে দারুল উলুম করাচি থেকে মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরো উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

মুফতি রফি উসমানি দীর্ঘকাল দারুল উলুম করাচিতে উচ্চতর হাদিস ও ফিকাহ পড়িয়েছেন। তা ছাড়া অল পাকিস্তান উলামা কাউন্সিল, কাউন্সিল অব ইসলামিক আইডিওলজি ও সিন্ধু প্রদেশের জাকাত কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের শরিয়াহ আপিল বিভাগের উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিস আল-আরাবিয়ার কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন । তিনি এনইডি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। হাদিস, ফিকাহ, তাফসিরসহ বিভিন্ন বিষয়ে উর্দু ও আরবি ভাষায় তার অর্ধশতাধিক গ্রন্থ রয়েছে।

তার মধ্যে আহকাম-ই-জাকাত, আল-তালিকাত আল-নাফিয়াহ আলা ফাতহ আল মুলহিম, ইসলাম মে আওরাত কি হুকমরানি এবং নাওয়াদির আল-ফিকহ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।

মুফতি রফি উসমানির ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি।

তিনি বলেন, ‘মুফতি রফি উসমানী ফিকহ, হাদিস ও তাফসির ক্ষেত্রে মূল্যবান কীর্তি রেখে গেছেন। তার ধর্মীয় ও একাডেমিক সেবা এবং ধর্মীয় জ্ঞানের প্রচারের জন্য যুগ যুগ মানুষ তাকে স্মরণ করবে।’

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান বলেছেন, ফিকহ, হাদিস ও তাফসিরের ক্ষেত্রে মুফতি রফি উসমানীর মূল্যবান সেবা প্রদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি মনে করি তিনি পৃথিবীর সামনে ইসলামের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছেন।

উল্লেখ্য দীর্ঘ দিন অসুস্থ থাকার পর বিশ্ব বরেণ্য এ আলেম গতকাল শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহে ওয়াইন্না ইলাইহে রাজেউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

এক টুইট বার্তায় মুফতি তাকি উসমানি জানান, আল্লাহ তার উপর রহমত বর্ষণ করুন। আমার বড় ভাই এবং ইসলামী বিশ্বের একজন মহান ব্যক্তিত্ব, গ্র্যান্ড মুফতি হযরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ রফি উসমানী (রহ.) ইন্তেকাল করেছেন। রোববার (২০ নভেম্বর) দারুল উলুম করাচি প্রাঙ্গণে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

হাজারো আলেমের শিক্ষক মুফতি রফি উসমানির জীবন ও কর্ম

 মাওলানা তোফায়েল গাজালি 
১৯ নভেম্বর ২০২২, ০৩:০৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পাকিস্তান তো বটেই সমকালিন মুসলিম দুনিয়ার শীর্ষ আলেমদের অন্যত ব্যক্তিত্ব ছিলেন মুফতি রফি উসমানি। বিশ্বের নানা প্রান্তের হাজারো আলেমের শিক্ষক তিনি। দেশে দেশে ছড়িয়ে আছেন তার অগণিত ভক্ত ও অনুগামী। 

রফি উসমানি তাফসিরে মারেফুল কুরআনের প্রণেতা মুফতি শফি (রহ.) এর বড় ছেলে। তিনি পকিস্তানের গ্রান্ড মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপিঠ দারুল উলুম করাচির সভাপতি। 

তিনি বিশ্বখ্যাত ইসলামি স্কলার মাওলানা মুফতি মুহাম্মাদ তাকি উসমানির বড় ভাই। 

মুফতি রফি উসমানি ১৯৩৬ সালের ২১ জুলাই অবিভক্ত ভারতের দেওবন্দে ঐতিহ্যবাহী উসমানি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ভারতবর্ষের আধ্যাত্মিক সম্রাট আশরাফ আলি থানভি (রহ.) তার নাম রাখেন। 

পবিত্র কুরআন হিফজ ও প্রাথমিক পড়াশোনা তিনি দারুল উলুম দেওবন্দে করেন। ১৯৪৮ সালের ১ মে দেশ ভাগের প্রেক্ষিতে তিনি তার বাবা মুফতি শফি (রহ.)-এর সঙ্গে সপরিবারে পাকিস্তান চলে যান। ১৯৫১ সালে দারুল উলুম করাচি থেকে মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরো উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।    

মুফতি রফি উসমানি দীর্ঘকাল দারুল উলুম করাচিতে উচ্চতর হাদিস ও ফিকাহ পড়িয়েছেন। তা ছাড়া অল পাকিস্তান উলামা কাউন্সিল, কাউন্সিল অব ইসলামিক আইডিওলজি ও সিন্ধু প্রদেশের জাকাত কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের শরিয়াহ আপিল বিভাগের উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিস আল-আরাবিয়ার কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন । তিনি এনইডি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। হাদিস, ফিকাহ, তাফসিরসহ বিভিন্ন বিষয়ে উর্দু ও আরবি ভাষায় তার অর্ধশতাধিক গ্রন্থ রয়েছে।

তার মধ্যে আহকাম-ই-জাকাত, আল-তালিকাত আল-নাফিয়াহ আলা ফাতহ আল মুলহিম, ইসলাম মে আওরাত কি হুকমরানি এবং নাওয়াদির আল-ফিকহ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য । 

মুফতি রফি উসমানির ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। 

তিনি বলেন, ‘মুফতি রফি উসমানী ফিকহ, হাদিস ও তাফসির ক্ষেত্রে মূল্যবান কীর্তি রেখে গেছেন। তার ধর্মীয় ও একাডেমিক সেবা এবং ধর্মীয় জ্ঞানের প্রচারের জন্য যুগ যুগ মানুষ তাকে স্মরণ করবে।’

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান বলেছেন, ফিকহ, হাদিস ও তাফসিরের ক্ষেত্রে মুফতি রফি উসমানীর মূল্যবান সেবা প্রদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি মনে করি তিনি পৃথিবীর সামনে ইসলামের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছেন।

উল্লেখ্য দীর্ঘ দিন অসুস্থ থাকার পর বিশ্ব বরেণ্য এ আলেম গতকাল শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) ইন্তেকাল করেছেন।  (ইন্নালিল্লাহে ওয়াইন্না ইলাইহে রাজেউন)। তার বয়স হয়েছিল  ৮৬ বছর।

এক টুইট বার্তায় মুফতি তাকি উসমানি জানান, আল্লাহ তার উপর রহমত বর্ষণ করুন। আমার বড় ভাই এবং ইসলামী বিশ্বের একজন মহান ব্যক্তিত্ব, গ্র্যান্ড মুফতি হযরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ রফি উসমানী (রহ.) ইন্তেকাল করেছেন। রোববার (২০ নভেম্বর) দারুল উলুম করাচি প্রাঙ্গণে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর