বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমার সূচনা যেভাবে
jugantor
বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমার সূচনা যেভাবে

  মুহাম্মদ এনায়েত কবীর  

১৯ জানুয়ারি ২০২৩, ২০:১৩:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

ইজতেমা। বহুল উচ্চারিত একটি আরবি শব্দ। অর্থ হলো সম্মেলন, সমাবেশ বা জমায়েত। টঙ্গীর তুরাগ তীরে দেশ-বিদেশে লাখো মানুষের জমায়েতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমা। বিশ্বের বিভিন্নদেশের লোকজন ছাড়াও লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছেনএ ইমানি মজমায়।

ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস, ধর্মের পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন এবং আলো আঁধারিতে অবিরাম ইবাদতে মুখরিত কহর দরিয়ার তীর।

কখনো জিকির, তেলাওয়াত ও দরুদ পাঠ বা দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় কান্না ভেজা দোয়ায় কহর দরিয়ার তীরে বিরাজ করছে ব্যতিক্রমধর্মী আমলী এক আবহ।

তাবলিগী এই ইজতেমার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪১সালে। দিল্লির নিজামুদ্দীনের এলাকার মেওয়া নামক স্থানে। এতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ অংশ নেন। কিন্তু ২০২৩-এ এসে তা ২৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে, বর্তমানে ১৫০টির বেশি দেশে তাবলিগ জামাতের প্রায় ৮ কোটি অনুসারী আছে।

বাংলাদেশে প্রথম ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালে কাকরাইল মসজিদে। তখন তাবলিগের আমির ছিলেন মাওলানা আবদুল আজিজ রহ.। তিনি বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের প্রথম আমির। তার হাত ধরেই তাবলীগের কাজ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

এদেশে দ্বিতীয়বার ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালে লালবাগ শাহী মসজিদে।তৃতীয়বার অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে।

এরপর ১৯৬০,৬২ ও ৬৫ সালের ইজতেমাগুলো অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার রমনা উদ্যানে। দিন দিন এ ইমানি কাজের পরিধি বৃদ্ধি পায়। ফলে তখনকার ইজতেমা গুলোতেও মানুষ দলে দলে যোগদান করতে থাকে শুরু করে। ফলে স্থান সংকলন না হওয়ায় বিস্তীর্ণ খোলা জায়গায় চিন্তা ভাবনা শুরু হয়। ফলে ১৯৬৬ সালে ইজতেমার স্থান পরিবর্তন করা হয়। ঢাকা রমনার পরিবর্তে নতুন স্থান নির্ধারণ হয় টঙ্গীর পাগার মাঠে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টঙ্গীর তুরাগ তীরবর্তী মাঠটি ইজতেমার জন্য বরাদ্দ করে দেন। সূত্র: তাবলিগ জামায়াত, ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার।

তারপর থেকে অদ্যাবধি ১৬০ একর বিশাল ময়দানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর এই ইজতেমা। ইমানী এই মজমার সৌরভে মুক্তির পথ পেয়ে যাক সকল মানুষ।

সারা বিশ্ব থেকে দূর হয়ে যাক বিভেদ বিদ্বেষ হানাহানি আর অশান্তির কালো মেঘ। সারাবিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হোক সৌহার্দ্য, শান্তি ও সম্প্রীতির শীতল পরিবেশ।

লেখক: শিক্ষক, শেখ জনূরুদ্দীন রহ. দারুল কোরআন চৌধুরীপাড়া মাদরাসা, ঢাকা

বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমার সূচনা যেভাবে

 মুহাম্মদ এনায়েত কবীর 
১৯ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ইজতেমা। বহুল উচ্চারিত একটি আরবি শব্দ। অর্থ হলো সম্মেলন, সমাবেশ বা জমায়েত। টঙ্গীর তুরাগ তীরে  দেশ-বিদেশে লাখো মানুষের জমায়েতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লোকজন ছাড়াও লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছেন এ ইমানি মজমায়। 

ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস, ধর্মের পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন এবং আলো আঁধারিতে অবিরাম ইবাদতে মুখরিত কহর দরিয়ার তীর।

কখনো জিকির, তেলাওয়াত ও দরুদ পাঠ বা  দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় কান্না ভেজা দোয়ায় কহর দরিয়ার  তীরে বিরাজ করছে ব্যতিক্রমধর্মী আমলী এক আবহ।

তাবলিগী এই ইজতেমার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪১সালে। দিল্লির নিজামুদ্দীনের এলাকার মেওয়া নামক স্থানে। এতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ অংশ নেন। কিন্তু ২০২৩-এ এসে  তা ২৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের মতে, বর্তমানে ১৫০টির বেশি দেশে তাবলিগ জামাতের প্রায় ৮ কোটি অনুসারী আছে।

বাংলাদেশে প্রথম ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালে কাকরাইল মসজিদে। তখন তাবলিগের আমির ছিলেন মাওলানা আবদুল আজিজ রহ.। তিনি বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের প্রথম আমির। তার হাত ধরেই তাবলীগের কাজ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।  

এদেশে দ্বিতীয়বার ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালে লালবাগ শাহী মসজিদে।তৃতীয়বার অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে। 

এরপর ১৯৬০,৬২ ও ৬৫ সালের ইজতেমাগুলো অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার রমনা উদ্যানে। দিন দিন এ ইমানি কাজের পরিধি বৃদ্ধি পায়। ফলে তখনকার ইজতেমা গুলোতেও  মানুষ দলে দলে যোগদান করতে থাকে শুরু করে। ফলে স্থান সংকলন না  হওয়ায় বিস্তীর্ণ খোলা জায়গায় চিন্তা ভাবনা শুরু হয়। ফলে ১৯৬৬ সালে ইজতেমার স্থান পরিবর্তন করা হয়। ঢাকা রমনার পরিবর্তে নতুন স্থান নির্ধারণ হয়  টঙ্গীর পাগার মাঠে। 

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টঙ্গীর তুরাগ তীরবর্তী মাঠটি  ইজতেমার জন্য বরাদ্দ করে দেন।  সূত্র: তাবলিগ জামায়াত, ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার।

তারপর থেকে অদ্যাবধি ১৬০ একর বিশাল ময়দানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর এই  ইজতেমা। ইমানী এই মজমার সৌরভে মুক্তির পথ পেয়ে যাক সকল মানুষ। 

সারা বিশ্ব থেকে দূর হয়ে যাক বিভেদ বিদ্বেষ হানাহানি আর অশান্তির কালো মেঘ। সারাবিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হোক সৌহার্দ্য, শান্তি ও সম্প্রীতির শীতল পরিবেশ।

লেখক: শিক্ষক, শেখ জনূরুদ্দীন রহ. দারুল কোরআন চৌধুরীপাড়া মাদরাসা, ঢাকা
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন