সাদবিরোধীদের সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করে দিল তাবলিগ

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

মাওলানা সাদ কান্ধলভির প্রস্থানসহ তাবলিগের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। ইজতেমা ময়দানের তিন নম্বর ফটকের পাশে হাজি সেলিম মিয়ার কামরায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল সাদবিরোধী অংশ। পরে বিষয়টি তাবলিগের মুরব্বিরা জানলে তা বন্ধ করে দেন।  

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সম্মেলনের খবরের নিশ্চয়তা যাচাই করতে যোগাযোগ করা হলে জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ীর মুহতামিম, তাবলিগের শুরার উপদেষ্টা কমিটির সদস্য এবং যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জিম্মাদার মাওলানা মাহমূদুল হাসান বলেন, তাবলিগের শুরার উপদেষ্টা কমিটি এবং শুরার কোনো সদস্য সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয়নি। 

একই বিষয়ে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সিনিয়র সহসভাপতি আল্লামা আশরাফ আলী জানান, ইজতেমার মাঠে কোনো সংবাদ সম্মেলন হবে না। অতি উৎসাহীদের কোনো কাজকেও প্রশ্রয় দেয়া হবে না। 

এর আগে ইজতেমার মুরব্বি প্রকৌশলী মাহফুজ মিডিয়াকে জানিয়েছিলেন, মুফতি নজরুল ইসলাম আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করবেন। মাওলানা সাদকে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে যে কয়েকজন বেশি ভূমিকা পালন করেছেন, প্রকৌশলী মাহফুজ ও মুফতি নজরুল তাদের অন্যতম। 

প্রকৌশলী মাহফুজ ইজতেমা ময়দানে কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্বে না থাকলেও অনেক কাজের তদারকি করে থাকেন। তার বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন দায়িত্বশীলরা। বিশেষত গত সপ্তাহে বিভিন্ন দেশের শুরা সদস্যরা ফিরে যাওয়ার সময় তিনি বাধা দেন। কাতারের রাজ পরিবারের এক সদস্যের গাড়ির চাবি রেখে দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে। 

ইজতেমার ট্রান্সপোর্টের এক দায়িত্বশীল নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভারতের মেওয়াত থেকে মাওলানা সাদ আসার আগে তার কয়েকজন সফরসঙ্গী ইজতেমা ময়দানে চলে আসেন। গত সপ্তাহ তাদের কাকরাইল যেতে দেয়া হয়নি। টঙ্গী ময়দানেই অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। গত বুধবার পুলিশের বিশেষ শাখার সহায়তায় তারা কাকরাইল ফিরে যাচ্ছিলেন। তাদের ফিরতে সহযোগিতা করায় ইজতেমা ময়দানের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গিয়াসুদ্দীনকে মারধর করেন মাহফুজ।

উল্লেখ্য, তাবলিগ জামাতের নেতৃত্ব নিয়ে দিল্লির মারকাজ ও দেওবন্দ মাদ্রাসার মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং মাওলানা সাদের বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের মধ্যে তৈরি হয় বিভক্তি।

ফলে এবারের বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সাদের বিরোধীরা তার ঢাকা আগমনের সময় বিমানবন্দরের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে ইজতেমায় যোগ না দিয়ে নিজ দেশ ভারতে ফিরে যান মাওলানা সাদ কান্ধলভি।